ঘরের মাঠে প্রথম লেগ ১-১ ড্র হওয়ায় চাপে থেকে দ্বিতীয় লেগ জুভেন্টাসের মাঠে খেলতে নামে ভিয়ারিয়াল। কিন্তু সেখানে তুরিনের বুড়িদের পাত্তাই দিল না উনাই এমেরির শিষ্যরা। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে জুভেন্টাসকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ভিয়ারিয়াল। ম্যাচের তিনটি গোলই আসে দ্বিতীয়ার্ধে। দলের জয়ে একটি করে গোল করেছেন জেরার্ড মোরেনো, পাউ তোরেস ও আরনট দানজুমা।

দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ অগ্রগামিতায় ১৩ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলো দলটি। সবশেষ ২০০৯ সালে শেষ আটে উঠেছিল স্প্যানিশ ক্লাবটি। 

এদিকে ঘরের মাঠ এস্তাদে পিয়েরে মাউরয়তে দ্বিতীয় লেগে চেলসির বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছে ফরাসি ক্লাব লিলে। প্রথমার্ধে বুরাক ইলমাজের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ চেলসিকে সমতায় ফেরান। দ্বিতীয়ার্ধে চেজার আজপিলিকুয়েতার গোলে জয় নিশ্চিত করে অতিথিরা। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে প্রথমে লেগে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল চেলসি। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ আট নিশ্চিত করল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

অ্যালিয়েঞ্জ স্টেডিয়ামে জুভেন্টাস-ভিয়ারিয়ালের প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যয়। দ্বিতীয়ার্ধেও অনেকক্ষণ গোলের কোনো দেখা নেই। ঘরের মাঠে ৭৭ মিনিট পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে জুভেন্টাস। এরপর দুই পেনাল্টিতে তাদের সর্বনাশ হয়। প্রথমটা ৭৮ মিনিটে, পরেরটা ৯০+২ মিনিটে। মাঝে ৮৫ মিনিটে আরো একটি গোল হয়।

৭৮ মিনিটে ড্যানিয়েলে রুগানি বক্সের মধ্যে ফাউল করেন ভিয়ারিয়ালের ফ্রান্সিস কোকুয়েলিনকে। ভিএআর চেক করে রেফারি পেনাল্টি বহাল রাখেন। পেনাল্টি থেকে জেরার্ড মোরেনো গোল করে এগিয়ে নেন স্প্যানিশ ক্লাবটিকে। ৮৫ মিনিটে কর্নার পায় ভিয়ারিয়াল। কর্নার থেকে আসা বল কাছ থেকে উপরের অংশ দিয়ে জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পাউ তোরেস।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে বক্সের মধ্যে হ্যান্ডবল করে জুভেন্টাসের মাতিয়াস ডি লাইট হলুদ কার্ড দেখেন। অতিথিরা পায় পেনাল্টি। স্পট কিকে দানজুমা গোল করলে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে ভিয়ারিয়াল।

অরেক ম্যাচে ঘরের মাঠে চেলসিকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল লিলে। শুরু থেকে দারুণ খেলে ৩৮ মিনিটে গোল আদায় করে নেয় তারা। এ সময় বক্সের মধ্যে বলে হাত লাগে চেলসির জর্জিনহোর। ভিএআর চেক করে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। পেনাল্টি থেকে লিলের একমাত্র গোলটি করেন বুরাক ইলমাজ। কিন্তু বেশক্ষণ এগিয়ে থাকতে পারেনি স্বাগতিকরা।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+৩) বক্সের বাইরে থেকে জর্জিনহোর বাড়িয়ে দেয়া বল থেকে দূরের পোস্টে আড়াআড়ি শটে জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান স্ট্রাইকার পুলিসিচ। বিরতির পর ৭১ মিনিটে মিডফিল্ডার আজপিলিকুয়েতার গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় টমাস টুখেলের চেলসির।