বৃহস্পতিবার ফুলহ্যামের কাছে অ্যাস্টন ভিলার হারের পর বরখাস্ত হন দলটির কোচ স্টিভেন জেরার্ড। স্কটিশ ফুটবলে রেঞ্জার্সকে শিরোপা জিতিয়ে গত বছরের নভেম্বরে অ্যাস্টন ভিলায় নতুন পথচলা শুরু করেন লিভারপুল গ্রেট জেরার্ড। কিন্তু তিন বছরের চুক্তির প্রথম বছরেই চাকরি হারাতে হলো তাকে। কিছুদিন আগেই টমাস টুখেলকে বরখাস্ত করে চেলসি। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের চার কোচ চাকরি হারিয়েছেন।

চলতি মাত্র দুটি ম্যাচ জিততে পেরেছে অ্যাস্টন ভিলা। এমন অবস্থায় চাপে ছিলেন জেরার্ড। বৃহস্পতিবার রাতে ফুলহ্যামের বিপক্ষে তারা ম্যাচ খেলতে নামে অবনমন অঞ্চলে নেমে যাওয়ার শঙ্কা নিয়েই। ওই ম্যাচে ৩-০ গোলে হেরে যায় ভিলা। হারের পর আর টিকতে পারলেন না তিনি। কোচের পদ থেকে সাবেক এই ইংলিশ মিডফিল্ডারকে ছাঁটাই করার ঘোষণা করে লন্ডনের ক্লাবটি।

জেরার্ডের ১১ মাসের দায়িত্বে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪০ ম্যাচের মধ্যে কেবল ১৩ ম্যাচ জিতেছে অ্যাস্টন ভিলা। এবারের মৌসুমে তাদের অবস্থা আরো খারাপ। এখন পর্যন্ত ১১ ম্যাচ খেলে জিতেছে স্রেফ দুটি। ৯ পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকায় টেবিলে অবস্থান ১৭তম, রেলিগেশন থেকে এক ধাপ উপরে।

জেরার্ডকে বরখাস্ত করার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় লেস্টার সিটি কোচ ব্রেন্ডন রজার্স বলেন, মনে হচ্ছে, প্রতিদিনই কোনো না কোনো কোচ চাকরি হারাচ্ছেন কিংবা তাদের চাকরি হুমকির মুখে। আমার তো মনে হচ্ছে, স্থিতিশীলতা কিংবা ধৈর্যচুতির ঘটনা ঘটছে।

জেরার্ডকে নিয়ে এ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের চারজন কোচ চাকরি হারালেন। মৌসুমজুড়ে চাপে রয়েছেন রজার্সও। জেরার্ডকে বরখাস্ত করার পর সর্বাগ্রে এ নিয়ে কথা বললেন সেল্টিক ও লিভারপুলের কোচের দায়িত্ব পালন করা রজার্স।

এ মৌসুমে গত আগস্টে কোচ স্কট পার্কারকে বরখাস্ত করে বোর্নমাউথ। এরপর চেলসির টুখেল ও উলভারহ্যাম্পটনের ব্রুনো ল্যাগেও চাকরি হারান। এছাড়া ব্রেন্ডন রজার্স, লিডসের হেসে মার্শ ও সাউদাম্পটনের রালফ হাসেনহাটলের চাকরি হারানো নিয়ে মৌসুমের নানা সময়ে গুঞ্জন ওঠে।

বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগের কোচদের গড়া আয়ু দুই বছর চার দিন। অথচ ২০১২ সালের দিকেও এটা ছিল চার বছরের মতো। জেরার্ডের দায়িত্বের আয়ু ছিল ১১ মাস ৯ দিন।

এ মুহূর্তে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুই শীর্ষ দল ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুলের কোচ সবচেয়ে বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লোপ ও সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা সম্মিলিতভাবে ১৩ বছর ১২৫ দিন দায়িত্বে আছেন। দুজনের এই সময় বাদ দিলে অন্য কোচদের গড় নেমে আসবে ১ বছর ১৬৯ দিনে!