অঘটনঘটনপটীয়সী! বিশ্বকাপের মঞ্চকে এমন আখ্যা দেয়াই যায়। বিশেষ করে টি২০ বিশ্বকাপের মঞ্চটা যে এমনই। সংক্ষিপ্ত ওভারের এ সংস্করণ কখন কাকে যে দুহাত উজাড় করে দেবে, কিংবা বঞ্চিত করবে তা হয়তো কেউ আগে থেকে কল্পনাও করতে পারবে না। পারেনি পাকিস্তানও। গত বৃহস্পতিবার পার্থে মাঝারি শক্তির জিম্বাবুয়ের কাছে ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি পাকিস্তানকে করতে হলো অসহায় আত্মসমর্পণ। দীর্ঘ ব্যাটিং লাইনআপ নিয়েও জিম্বাবুয়ের ১৩০ রানের নামমাত্র লক্ষ্যও যে পারই হতে পারেনি পাকিস্তান। বলা যায় পার হতে দেননি সিকান্দার রাজা। ২৫ রানে তিন উইকেট নিয়ে তিনিই ম্যাচসেরা। এর আগে আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও তিনি ছিলেন জয়ের নায়ক।

পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়ে রাজা স্মরণ করলেন অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট রিকি পন্টিংকে। তিনি জানান, পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন ভীষণ চিন্তিত ছিলেন, এমনকি সকালের দিকে ঘুমও বিঘ্নিত হচ্ছিল। তখন রাজার এক বন্ধু তাকে মেসেজ করে জানান, আইসিসির ওয়েবসাইটে তাকে নিয়ে একটি ভিডিও ক্লিপ বেরিয়েছে, যাতে ভালো ভালো কথা বলেছেন ২০০৩ ও ২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক পন্টিং। এই ক্লিপ রাজার অস্থির মনটাকে প্রশান্ত করে দেয়।

এ নিয়ে রাজা বলেন, অল্প কথায় ছোট্ট একটা ভিডিও ক্লিপ পাঠিয়েছিলেন রিকি পন্টিং। সেটা ছিল অকল্পনীয় ও রোমাঞ্চকর। আজ (বৃহস্পতিবার) আমি খুব উত্তেজিত ছিলাম। কিছুটা নার্ভাস লাগছিল। অনুপ্রেরণা যথেষ্ট ছিল, বিশ্বকাপে দারুণ কিছু করার সংকল্প নিয়েই আমরা এসেছি, তবে সেই ক্লিপটা ছিল আরো ভালো করার প্রেরণা। অত্যন্ত কাজে দিয়েছে সেটা, পন্টিংয়ের প্রতি অসংখ্য কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

ভিডিও ক্লিপে রাজা প্রসঙ্গে পন্টিং বলেছিলেন, ৩৩ বা ৩৪ বছর বয়সে ভালো করা ও উন্নতি করা সহজ নয়। তবে রাজা ওয়ানডে কিংবা টি২০ ক্রিকেট যেটাই হোক না কেন উন্নতি করার একটি উপায় খুঁজে পেয়েছেন, তাও সম্ভবত তার জীবনের সবচেয়ে বেশি চাপের মুহূর্তে। রাজার বয়স ৩৬ বছর, কিন্তু সে আরো তারুণ্যের উচ্ছ্বাস নিয়ে খেলছে। দেখে মনে হচ্ছে সে ২৬ বছর বয়সী, আবার সে মাঠে দৌড়াচ্ছে, নিজেকে উপভোগ করছে এবং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

আসলেই এবারের বিশ্বকাপ মঞ্চে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন রাজা। বাছাই পর্বে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৮ বলে ৮২ করে ম্যাচসেরা, এরপর স্কটল্যান্ডের সঙ্গে ২৩ বলে ঝড়োগতিতে ৪০ রান করে দ্বিতীয়বার ম্যাচসেরা হন। সর্বশেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট হাতে তেমন কিছু না করতে পারলেও বল হাতে তিন উইকেট নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ম্যাচসেরার পুরস্কার নেন তিনি।

ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিনকে একটা বার্তাও দিলেন ৩৬ বছর বয়সী রাজা। তিনি বলেন, আমরা যখন অস্ট্রেলিয়ায় আসছিলাম তখন অধিনায়ককে (আরভিন) বলেছিলাম, তুমি যদি ম্যান অব দ্য ম্যাচ হও, তাহলে যেই ব্র্যান্ডের ঘড়ি চাইবে কিনে দেব; কিন্তু যদি আমি ম্যাচসেরা হই তাহলে আমাকেও পছন্দের ব্র্যান্ডের ঘড়ি কিনে দিতে হবে। আমি এখন তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিলাম, তোমার কাছে কিন্তু এখন তিন-তিনটা ঘড়ি আমার পাওনা!

বাজিতে জিতে তিনি এরই মধ্যে অধিনায়ক আরভিনের কাছ থেকে তিনটি ঘড়ি তো পাচ্ছেনই, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগে তার নামে আর কী কী যোগ করতে পারেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আজ জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটের এই ‘রাজা’র মুখোমুখি হবেন সাকিব আল হাসানরা। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফরে রাজার কাছেই ওয়ানডে ও টি২০ সিরিজে হেরেছে বাংলাদেশ। আজ কি রাজার দিন হবে, নাকি সাকিবরাই জিতবেন?