সিডনির স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায় আজ নবম নারী বিশ্বকাপ ফাইনালে লড়বে স্পেন ও ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায় শুরু হবে শিরোপার এ লড়াই। স্পেন ও ইংল্যান্ড উভয় দলই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে নামছে। এর আগে ইংল্যান্ডের সেরা অর্জন তৃতীয় স্থান, আর স্পেনের শেষ ষোলো।
এই প্রথম ফাইনাল খেলবে ইংল্যান্ড। স্পেনেরও প্রথম। এটা ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ। ১৯৯১, ১৯৯৯ ও ২০০৩ সালের আসরে তারা কোয়ালিফাই করেনি। এরপর ধীরে ধীরে উন্নতি করে ইংল্যান্ড। ২০০৭ ও ২০১১ সালে টানা দুবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার পর ২০১৫ সালে তৃতীয় ও ২০১৯ সালে চতুর্থ হয় ‘লায়নেস’খ্যাত ইংলিশ নারীরা। এবার টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে ওঠা দলটি প্রথমবারের মতো উঠে যায় ফাইনালেও। এখন শিরোপা থেকে মাত্র এক জয় দূরে মিলি ব্রাইট, লুসি ব্রোঞ্জ, লরেন জেমসরা।
তাদের তুলনায় স্পেনের বিশ্বকাপ ইতিহাস তেমন সমৃদ্ধ নয়। প্রথম ছয় বিশ্বকাপ আসরে তারা কোয়ালিফাই করেনি। ২০১৫ সালে অভিষেক আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় দলটি। ২০১৯ সালে খেলেছে শেষ ষোলোয়। এবার নিজেদের তৃতীয় আসরে সবাইকে চমকে দিয়ে লা রোজারা উঠে যায় ফাইনালে। রূপকথা লিখে চলা স্প্যানিশ নারীরা আজ কি সোনায় মোড়ানো ট্রফি হাতে নিতে পারবে?
ফাইনাল সামনে রেখে ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার অ্যালিসিয়া রুসো বললেন, ‘আমরা সবাই জানি যে এটা একটা বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং প্রথম বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত সবকিছুকে আমরা স্বাভাবিক হিসেবেই নিচ্ছি। এটা ১১ বনান ১১। আমরা নিজেদের কাজ নিয়ে অবগত এবং জানি কী করতে হবে। আমরা কেবল নিজেদের খেলাটাই খেলতে চাই। দলের সবাই খুবই শিহরিত, একই সঙ্গে নির্ভারও। একে আমরা ঠিক আরেকটি ম্যাচ হিসেবে নিচ্ছি। এটা আরেকটি ম্যাচ মাত্র এবং আমরা অবশ্যই এটি জিততে চাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘এটাই সর্ববৃহৎ ম্যাচ, যা কিনা প্রত্যেক খেলোয়াড় স্বপ্ন দেখে থাকে, যা তার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। এটা অবিশ্বাস্য এক টুর্নামেন্ট। আমরা এ জায়গায় থাকতে চেয়েছিলাম। এখন আমাদের আর তর সইছে না।’
প্রথম কোচ হিসেবে দুটি দেশকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলেছেন সারিনা উইগম্যান। ২০১৯ সালে নেদারল্যান্ডস ও এবার ইংল্যান্ড। উইগম্যানকে নিয়ে অ্যালিসিয়া রুসো বলেন, ‘প্রথমেই যে কথাটি আমার মনে আসছে তা হলো, তিনি একজন বিজয়ী। প্রতিদিনের ট্রেনিংয়ে তিনি আমাদের জন্য মানটা খুব উঁচুতে রাখেন এবং তার কাছে মানই আগে। খেলোয়াড় হিসেবে এটা আমাদের জন্য খুবই ভালো, কারণ আসরটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং আমাদের সবার মনোযোগই কিন্তু এক বিন্দুতে।’
ইংল্যান্ডের তুলনায় বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতা কম থাকলেও দল হিসেবে যথেষ্ট শক্তিশালী স্পেন। এ দলের শক্তির বড় জোগান দিচ্ছে বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাবের মোট ৯ জন খেলোয়াড় আছেন স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। এরা ক্লাবের হয়ে ইউরোপ জয় করার পর এবার বিশ্বজয়ের অপেক্ষায়।
বার্সার ৯ খেলোয়াড়ের একজন অ্যালেক্সিয়া পুতেলাস দুইবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী। এছাড়া বার্সার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আইতানা বোনমাতি এবং ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ইরিনে পারেদেস স্পেন দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। বার্সার প্রভাব রয়েছে ইংল্যান্ড দলেও। ইংল্যান্ড দলের তারকা লুসি ব্রোঞ্জ ও কেইরা ওয়ালস বার্সায় খেলে থাকেন। আজ বার্সা তারকারাই কেউ কেউ একে অন্যের বিপক্ষে খেলবেন।
বোনমাতি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেকেই খুব ভাগ্যবতী, কেননা আমরা বার্সার হয়ে দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছি।’
বার্সার খেলোয়াড়রা নিজেদের মাঠে ৯০ হাজার দর্শকের সামনে খেলার অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। সিডনি ফাইনাল নিয়ে বোনমাতি বলেন, ‘৭৫ হাজার দর্শকের সামনে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলাটা হবে দারুণ এক ব্যাপার। আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না যে এটা ঘটতে চলেছে। আমি কি স্বপ্নের মধ্যে আছি?’
২০১০ সালের ছেলেদের বিশ্বকাপের স্মৃতি কি আজ ফিরবে? সেবার স্পেন দলের নিউক্লিয়াস ছিলেন বার্সার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জাভি হার্নান্দেজ, কার্লোস পুয়োল। এবার ঠিক তেমনই স্পেন নারী ফুটবল দলেরও শক্তির বড় রসদটা এসেছে বার্সেলোনা থেকে। বার্সার নারীরা ইউরোপের অন্যতম শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এবার বিশ্বজয়ের সামনে দাঁড়িয়ে তারা।
সাদৃশ্য আরো আছে। ইনিয়েস্তা-জাভিদের মতোই স্পেনের নারীরাও ‘তিকি-তাকা’ ফুটবলের দীক্ষা নিয়েছেন এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রতিপক্ষ দলগুলোকে নাকানিচুবানি খাইয়ে উঠে গেছেন ফাইনালে। ওপটাস অ্যানালিস্টের পরিসংখ্যান বলছে, সর্বোচ্চ ৮৪ শতাংশ নিখুঁত পাস দিয়েছেন স্পেনের নারীরা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৩ শতাংশ নিখুঁত পাস দিয়েছেন ইংলিশরা। স্পেন টুর্নামেন্টে করেছে ১৭ গোল, আর ইংল্যান্ড প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে ১৩ বার।
হোর্হে ভিলদা বার্সার কৌশল কাজে লাগিয়ে দলকে ফাইনালে নিয়ে গেছেন। আর উইগম্যান তো পরীক্ষিত নাম। নেদারল্যান্ডসকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলার পর গত বছর ইংল্যান্ডকে ইউরো জিতিয়েছেন। এবার উইগম্যান ও তার শিষ্যদের বিশ্বকাপ মুকুট পরার অপেক্ষা।










