টানা দুই জয়ে এশিয়া কাপের মূল পর্বে উঠে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল গতকাল গ্রুপের শেষ ম্যাচে তুর্কমেনিস্তানকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে। ইয়াঙ্গুনের থুউন্না স্টেডিয়ামে ম্যাচের সাতটি গোলই প্রথমার্ধে করেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। দ্বিতীয়ার্ধে উন্নতি করা তুর্কমেনিস্তান আর কোনো গোল হজম করেনি।
বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র ও ঋতুপর্ণা চাকমা। আফঈদা খন্দকারের দল ম্যাচে মাত্র ২১ মিনিটেই ৬-০ গোলের লিড নেয়! ম্যাচের ৪০তম মিনিটে কর্নার থেকে ঋতুপর্ণার অসাধারণ শটে আসে সপ্তম গোল। এ দুজনের বাইরে স্বপ্না রানী, তহুরা খাতুন ও মনিকা চাকমা একটি করে গোল করেন।
এর আগে বাহরাইনকেও ৭-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক মিয়ানমারকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে পিটার বাটলারের দল। আনুষ্ঠানিকতার এ ম্যাচেও ঝড় তুললেন ঋতুপর্ণা, মনিকা আর তহুরা খাতুনরা। প্রতিপক্ষকে কোনো ছাড় দেননি তারা। সব মিলিয়ে ঋতুপর্ণা তিন ম্যাচে করলেন ৫ গোল। তিনি ২০২৪ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
এ জয়ের পর ৩ ম্যাচ থেকে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট পেল বাংলাদেশ। গতকাল বাহরাইনকে ৬-০ গোলে হারানো মিয়ানমারের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তান পেয়েছে ১ পয়েন্ট করে।
আগামী বছর মার্চে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বসবে ২১তম নারী এশিয়া কাপ আসর। ওই আসরে ১২ দলের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া, জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া আগেই টিকিট পেয়েছে। এবার বাছাইপর্ব খেলে ৮ গ্রুপ থেকে মূল পর্বে উঠবে ৮টি দল। সবার আগে মূল পর্বের টিকিট পেয়েছে বাংলাদেশ।
গতকাল গুয়ামকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ‘ই’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মূল পর্বে উঠেছে ভিয়েতনাম এবং হংকংকে ১-০ গোলে ‘জি’ গ্রুপ থেকে মূল পর্বে বাংলাদেশের সঙ্গী হয় ফিলিপাইন।
জয় শেষে অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘বলে বোঝানোর মতো না, যে টার্গেট নিয়ে আসছি সেটা পূরণ করতে পেরেছি, এটাই আমার কাছে বড় পাওয়া।’
তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় চেয়েছি সাফের গণ্ডি পেরিয়ে আমরা যেন এশিয়ান পর্যায়ে যেতে পারি। আল্লাহ আমার কথা শুনেছেন, কথা রেখেছেন, আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি।’
পরবর্তী টার্গেট কী? এমন প্রশ্নের জবাবে আফঈদা জানান, সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্ট আছে, আপাতত ওটা নিয়েই ভাবছেন তারা।
কোচ পিটার বাটলার জানান, সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্ট সামনে রেখে তিনি অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন এবং সফল হয়েছেন। তার কথায়, ‘আমরা খুবই নিখুঁত ও পেশাদার পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছি। আমি মেয়েদের নিয়ে গর্বিত, কারণ তারা গেম প্ল্যান পুরোপুরি অনুসরণ করেছে।’ টিমের মধ্যে দারুণ কর্মপরিবেশ রয়েছে এবং মেয়েরা পরিশ্রম করছে বলেও জানান কোচ।










