দুই দশক ধরে পুরুষ টেনিসে আধিপত্য চলছে রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জোকোভিচ ত্রয়ীর। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দানিল মেদভেদেভ, আলেকজান্ডার জেভেরেভ ও স্তেফানোস সিসিপাসরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বরাবরই তাদের পরাস্ত হতে হয়।

২০০৩ থেকে এখন পর্যন্ত ৬৩টি গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফি গিয়েছে ফেদেরার (২০), নাদাল (২২) ও জোকোভিচের (২১) ঘরে! এতদিন তাদের সেভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি কেউ। এ বছর মাদ্রিদ ওপেনে স্প্যানিশ তারকা কার্লোস আলকারাজ গারফিয়া দিয়েছিলেন নতুন বার্তা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওই সময়ের এটিপির র্যাংকিংয়ের চার নম্বর তারকা রাফায়েল নাদালকে, সেমিফাইনালে শীর্ষ তারকা নোভাক জোকোভিচকে এবং ফাইনালে তিন নম্বর তারকা আলেক্সান্ডার জেভেরেভকে হারিয়ে মাদ্রিদ ওপেন জয় করেন তিনি। মাদ্রিদ ওপেনে ১৯৯০ সালের পর শীর্ষ পাঁচের তিন খেলোয়াড়কে হারিয়ে শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়েন আলকারাজ।

ক্লে কোর্টের ইতিহাসে নাদাল-জোকোভিচকে একই প্রতিযোগিতায় কেউ হারাতে পারেনি, সেটিও আলকারাজের নতুন এক রেকর্ড। সেই আলকারাজ এখন ইউএস ওপেনের ফাইনালে। ১৯ বছর বয়সী এই টেনিস খেলোয়াড়ের সামনে হাতছানি দিচ্ছে গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা।

বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে ফাইনালে আলকারাজের প্রতিপক্ষ ক্যাসপার রুড। নরওয়ের এই খেলোয়াড় এ নিয়ে দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে পা রেখেছেন। এ বছর ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে তিনি হার মানেন রোলাঁ গারোঁর রাজা নাদালের কাছে।

গতকাল ভোরে সেমিফাইনালে আমেরিকান ফ্রান্সেস তিয়াফোকে ৬-৭ (৬-৮), ৬-৩, ৬-১, ৬-৭ (৫-৭) ও ৬-৩ গেমে হারান আলকারাজ। আরেক সেমিতে রাশিয়ান কারেন খাচানভকে হারান রুড।

১৯৯০ সালে আমেরিকান গ্রেট পিট সাম্প্রাস ১৯ বছরে বয়সে ইউএস ওপেন জেতন। এরপর সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে ইউএস ওপেনের ফাইনালে উঠলেন আলকারাজ।

আলকারাজ এখন পর্যন্ত দুটি মাস্টার্স শিরোপা জিতেছেন। ইউএস ওপেনে অভিষেক আসরেই ওঠেন কোয়ার্টারে। এ বছর ফ্রেঞ্চ ওপেনেও খেলেন শেষ আটে। গত বছর এটিপি র্যাংকিংয়ে ১২০ নম্বরে ছিলেন এই স্প্যানিশ খেলোয়াড়। এক বছরের ব্যবধানে তিনি এখন ৪ নম্বরে।

ফেদেরার, নাদাল আর জোকোভিচ-উত্তর টেনিস বিশ্ব কি পেতে চলেছে নতুন রাজা?