সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। তার আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের কাছেও সিরিজ হারের লজ্জা পায় লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ২০২৪ সালে সুখস্মৃতি বলতে চট্টগ্রামে শ্রীলংকার বিপক্ষে ২-১-এ সিরিজ জয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বছরে মাত্র তিনটি ওয়ানডে সিরিজে ৯টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৬টিতেই হেরেছে তারা, জিতেছে বাকি ৩টিতে। এছাড়া আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সামনে রেখে ভালো প্রস্তুতিও হয়নি। তবু বৈশ্বিক এ আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নই দেখছেন বাংলাদেশ দলনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্জন সেমিফাইনাল। ২০১৭ সালে সর্বশেষ আসরে সেমিফাইনালে অবশ্য ভারতের কাছে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারের লজ্জা পেয়েছিল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশ নিতে দুবাই রওনা হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হতেই আমরা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে যাচ্ছি। এখানে কিন্তু আটটি দলই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্যতা রাখে। তারা প্রত্যেকেই মানসম্মত দল। আমি মনে করি আমাদের দলেরও সামর্থ্য আছে। কেউই বাড়তি চাপ অনুভব করছে না। মন থেকে প্রত্যেকেই চ্যাম্পিয়ন হতে চায় এবং নিজ নিজ সামর্থ্যে বিশ্বাসও আছে। আল্লাহ আমাদের ভাগ্যে কী লিখে রেখেছেন, জানি না। আমরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি এবং নিজেদের সেরাটা দিচ্ছি। বিশ্বাস আছে, আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণে সমর্থ হব।’
২০২৩ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৪১টি ওয়ানডে খেলে ২৪টি হেরেছে বাংলাদেশ, যার মধ্যে গত বছরের শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানের কাছে সিরিজ হার অন্তর্ভুক্ত। শান্ত নিজেও খারাপ ফর্মে। সেই সঙ্গে ইনজুরিতে ভুগেছেন। ইনজুরি থেকে ফেরার পর বিপিএলেও ভালো করেননি। বেশির ভাগ ম্যাচেই সাইড বেঞ্চে জায়গা হয়েছে তার। তার আগে হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যেতে পারেননি। তার জায়গায় ওয়েস্ট ইন্ডিজে ওয়ানডে ও টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। টি-টোয়েন্ট সিরিজটা জিতলেও ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ।
রাজনৈতিক কারণে সাকিব আল হাসান অধ্যায়ের শেষ হয়ে গেছে বলা যায়। ২০০৭ সালের পর তাকে ছাড়াই এই প্রথম কোনো বৈশ্বিক আসরে খেলবে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তার খেলার যতটুকু সম্ভাবনা ছিল তা-ও শেষ হয়ে যায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার বোলিংটা নিষিদ্ধ হওয়ায়। দ্বিতীয়বারের মতো বোলিং পরীক্ষা দিয়ে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
শুধু সাকিবই নয়, তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের মতো বড় নাম এবার অনুপস্থিত। দীর্ঘদিন দলের বাইরে থাকায় তামিমের না খেলাটা স্বাভাবিকই লাগছে। সম্প্রতি তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। লিটনকে বাদ দেয়াটা ছিল নির্বাচকদের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত। তিনি অবশ্য ওয়ানডে ক্রিকেটে ভালো ফর্মে ছিলেন না এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। বৈশ্বিক এ আসরে লিটনের জায়গায় পারভেজ হোসেন ইমনকে নিয়েছেন নির্বাচকরা, যিনি বিপিএলে চট্টগ্রাম কিংসের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে নিজের জাত চিনিয়েছেন।
জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের মধ্যে দলে আছেন শুধু মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ। সাকিব, তামিমের অনুপিস্থিতিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তারাই মিডল অর্ডারের অন্যতম ভরসা হবেন। মাহমুদউল্লাহ আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলেই বাংলাদেশের জার্সি তুলে রাখবেন। অধিনায়ক শান্ত অবশ্য নতুনদের নিয়েই নির্ভীক। তিনি দল নিয়ে খুশি। বাংলাদেশ দলনায়ক বলেছেন, ‘আমি দলের ১৫ জন খেলোয়াড় নিয়ে খুশি ও আত্মবিশ্বাসী। দলের প্রত্যেকেরই একা ম্যাচ জেতানোর মতো সামর্থ্য আছে বলে আমি মনে করি।’
বাংলাদেশের জন্য কাজটি অবশ্যই অত্যন্ত কঠিন। ‘এ’ গ্রুপে শান্তদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত, স্বাগতিক পাকিস্তান ও সদ্য পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ট্রফি জয় করা নিউজিল্যান্ড। ভারতের সঙ্গে অবশ্য সুখস্মৃতি আছে বাংলাদেশের। ২০২২ সালে সর্বশেষ হোম সিরিজে ভারতকে হারায় টাইগাররা। ২০২৩ সালের এশিয়া কাপেও ভারতকে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। অবশ্য গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের মাঠে হেরে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। রোহিত শর্মার দল সম্প্রতি ইংল্যান্ডকে হোম সিরিজে ৪-১-এ হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রস্তুতি সেরেছে।
শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে নিয়মিত ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশ। উপমহাদেশে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগছে কিউইদের। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখায় শান্তর নেতৃত্বাধীন দল। এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কিউইদের মোকাবেলা করতে হবে শান্ত ও মিরাজদের।
আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের সঙ্গে দুটি ম্যাচই রাওয়ালপিন্ডিতে খেলবে বাংলাদেশ। রাওয়ালপিন্ডি বলেই আশা জাগছে বাংলাদেশের। গত বছর এই মাঠে দুই টেস্টের সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়েন শান্ত ও তার সতীর্থরা। ওয়ানডেতে অবশ্য পাকিস্তানই এগিয়ে। বাংলাদেশের কাছে তারা সর্বশেষ হেরেছে ২০১৮ সালে।










