বিশ্বের তৃতীয় ধনী ফুটবল ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ২০২৩-২৪ মৌসুমে তারা আয় করে ৮০ কোটি ৫৯ লাখ ইউরো। চলতি মৌসুমে কোনো সুপারস্টার নেই ক্লাবটিতে। ফলে ২০২৪-২৫ মৌসুমে তাদের আয়ের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের গ্রাফটা তাদের ঊর্ধ্বমুখী! দাপট দেখিয়ে তারা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে।

অবশেষে কি চলে এল পিএসজির বছর? প্রায় এক যুগ ধরে কোটি কোটি ইউরো খরচ করেছে কাতার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় চলা পিএসজি। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ছাড়া আর সব শিরোপাই জিতেছে তারা। অধরা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা জেগেছে এবার।

এবার সবকিছুই ইতিবাচক, পিএসজির স্বপ্নপূরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। উজ্জীবিত পিএসজি রক্ষণ ও আক্রমণে নিখুঁত, আর এ মুহূর্তে ইউরোপের সেরা ফুটবল খেলছে। শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে লিভারপুলকে তাদেরই মাঠে ১-০ গোলে হারিয়েছে প্যারিস জায়ান্টরা। এরপর টাইব্রেকারে তারা হারিয়ে দেয় ছয়বারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলকে। অল রেডদের বিদায় করার পর পিএসজিকে ঘিরে আশা বেড়েছে।

কিলিয়ান এমবাপ্পে বিদায় নেয়ার পরই বদলে যেতে থাকে পিএসজি। গত গ্রীষ্মের দলবদলে রিয়াল মাদ্রিদে নাম লেখান তিনি। এমবাপ্পে চলে গেলে আর কোনো সুপারস্টারকে দিয়ে তার জায়গা পূরণ করা হয়নি। যেমনটি অতীতে করা হয়েছে ইব্রাহিমোভিচ, লিওনেল মেসি কিংবা নেইমারকে দিয়ে। নেইমারকে তো দুনিয়া ওলট-পালট করে দেয়া ২২০ মিলিয়ন ইউরো ফি দিয়ে বার্সেলোনার কাছ থেকে ‘ছিনিয়ে’ নেয় পিএসজি। ইনজুরি আর বিতর্কে কেটেছে নেইমারের পিএসজি অধ্যায়। তাকে নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের আশা পূরণ হয়নি ক্লাবটির।

এরপর বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসিকেও নিয়ে আসে তারা। এবারো ব্যর্থ পিএসজি। মেসি, নেইমার ও এমবাপ্পের মতো বিশ্বসেরা তিন ফরোয়ার্ড নিয়েও ইউরোপের মুকুট জেতা হয়নি তাদের। চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা ধরা দেয়নি পিএসজির কাছে।

তিনজনই একে একে বিদায় নিলেন। সর্বশেষ এমবাপ্পে। কোচ এনরিকে তার বদলি হিসেবে কোনো বড় নামের খেলোয়াড়ের পেছনে না ছুটে নিজেদের ভাণ্ডারে থাকা খেলোয়াড়দের ঠিকঠাক কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেন। তার পরিকল্পনা দারুণ সফল হচ্ছে। একাধিক অ্যাটাকিং খেলোয়াড় ফরাসি ফরোয়ার্ডের মতোই কিংবা তার চেয়েও বেশি গোল করতে সক্ষম। যদিও এনরিকের আসল শক্তির জায়গা হলো ঐক্য, যা অতীতের তারকাখচিত স্কোয়াডের মধ্যে দেখা যায়নি।

নামি খেলোয়াড় কেনেননি এনরিকে। তবে চমৎকার কিছু খেলোয়াড় আছে তার স্কোয়াডে, যারা একে অপরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম। একে অপরের বিকল্প হতেও সদা তৈরি। নতুন ফরম্যাটের চ্যাম্পিয়নস লিগে এটা কার্যকর একটি পদক্ষেপই বলা যায়, যেখানে দলগুলোকে বেশি ম্যাচ খেলতে হয়।

এ মৌসুমে পিএসজি সই করায় গোলকিপার ম্যাতভে সাফোনভ, ডিফেন্ডার উইলিয়াম পাচো, মিডফিল্ডার হোয়াও নেভেস, টিনএজ মেধাবী উইঙ্গার ডিজায়ার দুয়েকে। এর মধ্যে সাফোনভ চ্যালেঞ্জ করছেন ইতালির গোলকিপার জিয়ানলুইগি বুফনকে, পাচো একজন প্রতিশ্রুতিশীল ডিফেন্ডার আর নেভেসও মধ্যমাঠে আগামীর তারকা। ডিজায়ার দুয়ে অ্যানফিল্ডে টাইব্রেকারে শেষ শট নিয়ে গোল করেন। সর্বশেষ শীতকালীন দলবদলে নাপোলি থেকে কারাৎশখেলিয়াকে দলভুক্ত করে পিএসজি।

লিভারপুলের মাঠে জয় শেষে পিএসজির অধিনায়ক মার্কিনোস বলেন, ‘আমি মনে করি, চ্যাম্পিয়নস লিগে পরের ম্যাচগুলোতে আমরা আরো উন্নতি করতে পারব। এ বছর আমরা ভালো করছি। দলটি বয়সের বিচারে অনেক তরুণ হলেও তারা যথেষ্ট পরিপক্বতা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছে। আমরা যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারছি, এটাই এখন পর্যন্ত বড় শক্তি।’

এমবাপ্পের বিদায়ের পর আক্রমণভাগের দায়িত্ব নিচ্ছেন দেম্বেলে। তিনি ছাড়াও ব্র্যাডলি বারকোলা, গনসালো রামোস, দুয়ে আর ভিতিনহাকে নিয়ে দুর্দান্ত এক আক্রমণভাগ গড়ে তুলেছে পিএসজি। অনবদ্য ফর্মে আছেন দেম্বেলে। চলতি বছরের শুরুর দিকে তাকে বাদ দিয়েছিলেন এনরিকে। সেই দেম্বেলে এখন গোলমেশিন। ২০২৫ সালে তিনি পিএসজির জার্সিতে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২১ গোল করেছেন, যা ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে অন্তত ছয়টি বেশি! দেম্বেলের হাত ধরেই কি ইউরোপজয়ের স্বপ্নপূরণ হবে পিএসজির? এপি, নাইন্টিমিনিট।