ইউএস
ওপেন জিতে নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের টিনএজ কোকো গাফ। বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ২টায়
শুরু হওয়া মেয়েদের ফাইনালে তিনি প্রথম সেট হেরেও শেষ পর্যন্ত ২-৬, ৬-৩, ৬-২ গেমের
জয় তুলে নেন বেলারুশের আরিনা সাবালেঙ্কার বিপক্ষে। এটা তার ক্যারিয়ারের প্রথম
গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা।
গত
বছর ফ্রেঞ্চ ওপেনে ফাইনালে পোল্যান্ডের ইগা সিয়ানতেকের কাছে হেরেছিলেন কোকো। এবার
গ্র্যান্ড স্লামে নিজের দ্বিতীয় ফাইনালেই বাজিমাত করলেন। নিজ দেশের কোর্টে নির্ভীক
টেনিস খেলে তিন জয় ছিনিয়ে নিলেন।
প্রথম
সেটে নার্ভাস ছিলেন বলে হেরেই বসেন কোকো। যদিও দর্শক ভালোবাসায় তিনি ক্রমেই
আত্মবিশ্বাসী হয়ে ঘুরে দাঁড়ান। এরপর টানা দুই সেটে হারান দ্বিতীয় বাছাই খেলোয়াড় ও
র্যাংকিংয়ের এক নম্বরে উঠতে যাওয়া সাবালেঙ্কাকে।
জয়
শেষে কোকো বলেছেন, ‘মনে হচ্ছে এ মুহূর্তে কিছুটা ঘোরের মধ্যে আছি আমি। এই মুহূর্তটির
জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আমার অনুভুতি প্রকাশের কোনো ভাষা নেই।’
তিনি
আরো বলেন, ‘আমি বাবার সঙ্গে আলিঙ্গন করতে গিয়ে দেখি, তিনি কাঁদছেন। এই মানুষটাকে
আমি জীবনেও কাঁদতে দেখিনি। আর আমার মা। তিনি তো আমি জিতলেও কাঁদতেন, হারলেও। পুরোটা
সময় আমি নিজেকে বলছিলাম: হে ঈশ্বর, এটা কি সত্য?’
সেরেনা
উইলিয়ামসের পর প্রথম আমেরিকান টিনএজ হিসেবে ইউএস ওপেন জিতলেন কোকো। ১৯৯৯ সালে এই
কীর্তি গড়েছিলেন সেরেনা, যিনি ২৩ বারের গ্র্যান্ড স্লাম চ্যাম্পিয়ন। গত বছর অবসর
নেন সেরেনা। তার উত্তরসুরি কি পেয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র?
এ
বছর উইম্বলডনে হারের পর সব টুর্নামেন্ট মিলে ১৯ ম্যাচের মধ্যে ১৮টি জিতে নিলেন কোকো।
এ পথে থামিয়েছেন টানা ১২ ম্যাচে জেতা সাবালেঙ্কাকে।
শনিবার
জয়ের পর কোকো বলেন, ‘আমার ওপর যেসব মানুষের বিশ্বাস ছিল না, তাদের আমি ধন্যবাদ জানাতে
চাই। এক মাস আগে আমি একটা ডাব্লিউটিএ-৫০০ শিরোপা (ওয়াশিংটনে) জিতলাম এবং মানুষজন
বলল, আমাকে থামানো উচিত ছিল। দুই সপ্তাহ আগে আমি ডাব্লিউটিএ-১০০০ শিরোপা জেতার পর
মানুষজন বলল, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শিরোপা। এখন আমি এই শিরোপাটি (ইউএস ওপেন)
জিতলাম। যারা আমার আগুনে পানি ঢালতে চেয়েছিলেন, তারা আসলে ঢেলেছেন গ্যাস। আমি এখন
উজ্জ্বলতর হয়ে জ্বলছি।’










