বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক ছিলেন কৃতী গোলকিপার। তিনি ছিলেন গোলবারের নিচে অতন্দ্রপ্রহরী। অবসরের পর পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ। গোলবারের মতো এখন সামলান বিএনপির ঢাকা উত্তরের রাজনীতি। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক। আমিনুল হকের বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ার ও রাজনীতির সব গল্প এবার উঠে এল বইয়ের পাতায়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন আমিনুল হকের জীবনী নিয়ে রচিত চলন্তিকা প্রকাশিত রাশেদ রানার ‘একজন আমিনুল হক’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আমিনুল হক বাংলাদেশের রাজনীতির একজন স্টার। স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে তার অসাধারণ নেতৃত্ব ছিল। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে রক্ত দিয়েছেন আমিনুল। ক্রীড়া থেকে রাজপথ—সব জায়গায় আমিনুল হক পরিশ্রমী এবং দক্ষ সংগঠক।’

‘একজন আমিনুল হক’ বইটিতে রয়েছে আমিনুল হকের জন্ম ও শৈশব, ফুটবলের মাঠ থেকে রাজপথে তার সাহসী ভূমিকা, ত্যাগ ও দক্ষ সংগঠকের নানা ঘটনা।

খেলা থেকে রাজনীতির মাঠে নাম লেখানো নিয়ে আমিনুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মনের মধ্যে শৈশব থেকেই সুপ্ত বাসনা ছিল খেলোয়াড়ি জীবন শেষে রাজনীতিতে যুক্ত হব, দেশের মানুষের সেবা করব। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যখন প্রথম সরকার গঠন করে তখন থেকেই আমার মধ্যে এ স্বপ্নটা বড় হতে থাকে। স্বপ্ন ছিল এ দলের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ২০১৩ সালে ফুটবল থেকে অবসর নেয়ার পর বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে দেশের মানুষের সেবা করার প্রত্যয় নিয়ে আমি কাজ শুরু করি।’

বর্তমান রাজনীতি নিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘গত ১৭ বছরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরলস পরিশ্রম আর আন্দোলন সংগ্রামের ফলে গত জুলাই আগস্টের গণ-আন্দোলনে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। ফ্যাসিবাদের পতন হলেও তার রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপকৃত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিএনপি কর্তৃক ৩১ দফার রূপরেখার আলোকে সংস্কার করে দেশে পরিপূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমাদের নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব জামান মোস্তফা, যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, এবিএমএ রাজ্জাক, গাজী রেজওয়ান উল হোসেন রিয়াজ, আতাউর রহমান, হাজী মো. ইউসুফ, আফাজ উদ্দিন, মাহাবুব আলম মন্টু, মহানগর সিনিয়র সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, গীতিকার কবি মনিরুজ্জামান মনি, সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ, সংগীতশিল্পী আলম আরা মিনু, লেখক ও গবেষক কালাম ফয়েজী এবং সংগীতশিল্পী আসিফ আলতাব।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, যুবদল ও বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা। সবশেষে ছিল সংগীতানুষ্ঠান। সংগীত পরিবেশন করেন খাইরুল ওয়াসি, শিল্পী বিশ্বাস, পলক হাসান সুমন, নুজহাত সাবিহা পুস্তিকা, সালমান রাজ।