বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল অপেক্ষায় ছিলেন কোনো ‘মিরাকল’-এর। তবে তেমন কিছুই ঘটেনি। আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাঠে খেলতে রাজি না হওয়ায় বাদ পড়েছে বাংলাদেশ। লাল-সবুজদের টিকিট দেয়া হয়েছে স্কটল্যান্ড ক্রিকেট দলকে। গতকাল ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) চূড়ান্ত এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবেই এ আসরে বাংলাদেশ এখন দর্শকের আসনে।
দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এবারের আসরে বাংলাদেশের খেলার কথা ছিল ‘সি’ গ্রুপে। ওই গ্রুপেই টাইগারদের জায়গা নিল স্কটল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ মিশন। একই ভেন্যুতে ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি ও ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেশী দেশ ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলবে স্কটিশরা।
সংকট শুরু হয় ভারতের উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশের পেস বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর। তখন বিসিবি প্রশ্ন তুলেছিল, একজন বাংলাদেশী খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কীভাবে নিরাপদ? এর পরই আইসিসির কাছে ভারত থেকে ম্যাচ সরানোর আবেদন জানায় বিসিবি। টাইগারদের ম্যাচগুলো যেন শ্রীলংকায় সরিয়ে নেয়া হয়, সেই আবেদন একাধিকবার জানায় বিসিবি।
বিসিবির আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি আইসিসি। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা দলগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখছে না আইসিসি। আইসিসি জানায়, প্রচেষ্টাগুলোর পরও বিসিবি তাদের অবস্থান বজায় রেখেছে এবং বারবার টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিষয়টিকে তাদের এক খেলোয়াড়ের একটি ঘরোয়া লিগে অংশগ্রহণসংক্রান্ত একটি একক, বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করেছে। এ বিষয়ের সঙ্গে টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা কাঠামো বা আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের শর্তাবলির কোনো সম্পর্ক নেই।
বিসিবি তাদের দাবিতে অনড় থাকায় গত বুধবার আইসিসি সিদ্ধান্ত নিতে বাংলাদেশকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয়। সে সময় পার হওয়ার পরও বাংলাদেশ অবস্থান পাল্টায়নি, বরং আইসিসির সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিল। বিশ্বকাপের আয়োজক সংস্থাটি বাংলাদেশের সর্বশেষ আবেদনেও সাড়া দেয়নি। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানিয়ে দেয়, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় খেলবে স্কটল্যান্ড।
এর আগে গতকাল বিকালে ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসবাইট ‘ক্রিকবাজ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইসিসির সিইও সঞ্জোগ গুপ্তা বোর্ড সদস্যদেশের কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, বিসিবি আইসিসি বোর্ডের সিদ্ধান্ত পরিপালন না করায় বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না। আইসিসি বোর্ডের সদস্য হিসেবে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামকেও এ চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে এবারের আসরে অংশ নিতে ক্রিকেট স্কটল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠান সঞ্জোগ গুপ্তা।
এদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বলেছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ভেন্যু বদলানোর অনুরোধ সমর্থন করে তিনি আইসিসির উদ্দেশে বলেন, অতীতে ভারত ও পাকিস্তানকে যে সুবিধা দেয়া হয়েছে, সেটা বাংলাদেশেরও প্রাপ্য।
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ খেলতে দেয়া না হলে পাকিস্তান দল টুর্নামেন্ট বর্জনের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে বলেও জানান তিনি। মহসিন নাকভি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের বোর্ড মিটিংয়েও একই কথা বলেছি। আপনারা দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করতে পারেন না, যেখানে একটি দেশ যখন ইচ্ছা যেমন খুশি সিদ্ধান্ত নিতে পারে, আর আরেক দেশের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ করা হয়।’










