ইভান লিতভিনোভিচ ও ভিয়ালেতা বার্দজিলোস্কায়ার গলায় অলিম্পিক পদক। যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে ইভান স্বর্ণ ও ভিয়ালেতা রৌপ্য পদক জিতেছেন। যদিও এ পদক দুটি অলিম্পিকের অফিশিয়াল পদক তালিকায় উঠবে না!

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সমর্থক কিংবা সহযোগী হিসেবে অংশগ্রহণ করায় রাশিয়ার পাশাপাশি বেলারুশকেও প্যারিস অলিম্পিক গেমসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশটির ১৭ জন অবশ্য নিরপেক্ষ অ্যাথলিট (এআইএন) হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। সেই ১৭ জনের মধ্যে ইভান ও ভিয়ালেতা জিমন্যাস্টিকসের ট্রাম্পোলাইন থেকে পদক জিতেছেন। 

কিন্তু পদক জিতে পরিপূর্ণ আনন্দ পাচ্ছেন না। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) নিরপেক্ষ অ্যাথলিট হিসেবে তাদের খেলার আমন্ত্রণ জানালেও তারা পাচ্ছেন না কোনো পতাকা, রঙ কিংবা বাজছে না জাতীয় সংগীত। খেলোয়াড়রা কোনো পদক জিতলেই সেটি তাদের দেশের নামের পাশে যোগ হয়ে প্রদর্শিত হয় টেবিলে। কিন্তু ইভান ও ভিয়ালেতার জেতা দুটি পদক বেলারুশের নামের পাশে উঠবে না। বেলারুশ যে অলিম্পিকেই নেই!

২৩ বছর বয়সী ইভান সফলভাবে তার শিরোপা ধরে রেখেছেন। এর আগে টোকিওতে তিনি স্বর্ণ জয় করেছেন। এবারো জিতলেন। যদিও স্বর্ণপদক গলায় তোলার পর জাতীয় সংগীত আর শোনা হলো না। তার পরিবর্তে বরং আইওসির নির্বাচিত একটি সংগীত বাজানো হলো, আর ওড়ানো হলো এআইএন পতাকা। 

পদক জয়ের পর বেলারুশ প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর কাছ থেকে অভিনন্দন বার্তা পেয়েছেন ইভান। তিনি তার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে লিখেছেন, ‘প্রিয় ইভান, তুমি আমাদের গর্ব। অলিম্পিক স্বর্ণের জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।’

তার আগে মেয়েদের ট্রাম্পোলাইনে স্বর্ণ জয় করেন ১৯ বছর বয়সী ভিয়ালেতা। তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বেলারুশিয়ান অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট ভিক্টর লুকাশেঙ্কো বলেছেন, ‘এটা তোমার প্রথম অলিম্পিক পদক ও প্যারিসে বেলারুশের প্রথম। তাই এর গুরুত্ব দ্বিগুণ। গেমসে তোমার এ সুন্দর অভিষেক খুবই প্রশংসনীয়। তুমি আমাদের লাখ লাখ বেলারুশিয়ান ও অ্যাথলিটদের জন্য অন্তহীন আনন্দের উপলক্ষ বয়ে এনেছ।’

ইভান বলেছেন, এআইএন সংগীতের চেয়ে বেলারুশের জাতীয় সংগীতই মধুর। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই পরের অলিম্পিকে আমি নিজের দেশের পতাকা ও জাতীয় সংগীত নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’