শেষ হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অষ্টম আসর। ২০ ওভারের এই প্রতিযোগিতায় ব্যাটে-বলে আধিপত্য ছিল অভিজ্ঞদের। সঙ্গে নজর কেড়েছেন কয়েকজন নতুন ক্রিকেটারও। বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টার বয় সাকিব আল হাসানের ফরচুন বরিশালকে ১ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দল হারলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে সাকিব ছিলেন অনবদ্য। এজন্য আসরের সিরিজ সেরাও হয়েছেন মি. অলরাউন্ডার। এখন পর্যন্ত বিপিএলের আট আসরের চারটিতেই টুর্নামেন্ট সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

প্রথম কোয়ালিফায়ার ও ফাইনালে ব্যাট হাতে ব্যর্থ ছিলেন। তবে বোলিং যথারীতি ছিল ভালো। সব মিলিয়ে ১১ ইনিংসে ১৪৪.১৬ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ২৮৪ রান। বল হাতে নিয়েছেন ১৬ উইকেট। এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের পর টুর্নামেন্ট সেরার লড়াইয়ে তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি ছিল না সাকিবের। এবারের আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় সাকিবের অবস্থান ষষ্ঠ। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় এই বাঁহাতি রয়েছেন তৃতীয়স্থানে।

সাকিব অবশ্য ম্যাচ শেষে বলেছেন, ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলীয় অর্জনই তার কাছে বেশি কাঙ্ক্ষিত ছিল। তিনি বলেন, আমার জন্য এটা ভালো টুর্নামেন্ট ছিল। তবে ম্যান অব দা সিরিজ হওয়ার চেয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারলেই ভালো লাগত বেশি।

আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ওপেনার উইল জ্যাকস। এই ইংলিশ ব্যাটার ১১ ইনিংসে চার ফিফটিতে ৪১৪ রান করেছেন। ১১ ইনিংসে ৪১০ রান করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক খুলনা টাইগার্সের আন্দ্রে ফ্লেচার। নয় ইনিংসে ৪০৭ রান করে তৃতীয় ঢাকা সিক্সার্সের ওপেনার তামিম ইকবাল। সেরা তিনজনের সবাই নিজ দলের ওপেনার ব্যাটার।

এবারের বিপিএলে দেখা গেছে ভিন্ন মুস্তাফিজুর রহমানকে। দায়িত্ব এবং বোলিংয়ে তার ভেরিয়েশন ছিল চোখে পড়ার মতো। ১১ ইনিংসে ১৩.৪৭ গড়ে ১৯ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি কুমিল্লার এই পেসার। ১০ ইনিংসে ১৮ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিকারি বরিশালের ক্যারিবিয়ান তারকা ড্যুয়েন ব্রাভো। ১৬ উইকেট নিয়ে তিনে সাকিব। ব্যাটিং-বোলিংয়ে সেরা তিনে জায়গা করেছেন সব অভিজ্ঞরা।

অভিজ্ঞদের সঙ্গে তরুণদের মধ্যে বল হাতে নজর কেড়েছেন কুমিল্লার বামহাতি অর্থডক্স তানভীর ইসলাম। ১২ ইনিংসে ৭.৬৬ ইকোনোমি রান রেটে ১৬ উইকেট শিকার করে চার নম্বরে রয়েছেন তিনি। স্পিনে নাসুম আহমেদ ও নাহিদুল ইসলামও ভালো করেছেন। পেসারদের মধ্যে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। আট ইনিংসে তার শিকার ১৫ উইকেট। সমান ম্যাচে কুমিল্লার শহিদুল ইসলামের শিকার ১৪ উইকেট। চট্টগ্রামের শরিফুল ইসলাম নেন ১৪ উইকেট। তবে এই তিন পেসার একটু খরুচেও ছিলেন। তাদের ইকোনোমি রান রেট ছিল ৯-এর ওপরে! বরিশালের পেসার মেহেদি হাসান রানাও দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। সাত ইনিংসে নিয়েছেন ১১ উইকেট।

বল হাতে দেশীয় তরুণরা নজর কাড়লেও ব্যাট হাতে এ সংখ্যা একদমই নগন্য। সেরা পাঁচ ব্যাটারে তামিম ছাড়া কেউ নেই। সেরা দশে উদিয়মান কারো জায়গা হয়নি। সাকিব, বিজয়, মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিক আছেন এ তালিকায়। এরপরও নতুনদের মধ্যে দুই ওপেনার কুমিল্লার মাহমুদুল হাসান জয় ও বরিশালের মুনিম শাহরিয়ার ছিলেন আলোচনায়। জয় ১১ ইনিংসে ২৬.১১ গড়ে করেছেন ২৩৫ রান। ছয় ইনিংসে ২৯.৬৬ গড়ে মুনিম করেছেন ১৭৮ রান। টি-টোয়েন্টির জাত স্ট্রাইক রেটে- ব্যাটিং করেছন তিনি  (স্ট্রাইক রেট ১৫২.১৩)।

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ও ফাইনালে বিধ্বংসী ইনিংস খেলে কুমিল্লাকে শিরোপা এনে দেয়ার অন্যতম কারিগর সুনিল নারিন। দু’টি ম্যাচেই সেরা হয়েছেন তিনি। এই বিপিএলে সাত ইনিংসে ৩১.৮০ গড়ে ১৫৯ রান করেছেন ক্যারিবিয়ান তারকা। আসরে সর্বোচ্চ ১৯৮.৭৫ স্ট্রাইকরেটও তার।

ফাইনালের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, বিপিএলের কারণে নতুন কিছু ক্রিকেটারকে আমরা দেখতে পেয়েছি। এদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়, তানভীর, শরিফুল, জয় ও শহিদুলরা ভালো করেছেন। তবে এখনই তাদের জাতীয় দলে ডাকা হচ্ছে না। তারা পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখুক।