শ্রীলংকার মাঠে সপ্তম ওয়ানডে সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। আগের ছয়টির মধ্যে চারটিতেই হেরেছে টাইগাররা, বাকি দুটি সিরিজ ড্র হয়। সপ্তম সিরিজটা কি জিতে নিতে পারবে বাংলাদেশ? মেহেদী হাসান মিরাজের দল শনিবার দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি ১৬ রানে জিতে সিরিজ জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে। আগামীকাল বেলা ৩টায় পাল্লেকেলেতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ শুরু হবে।

শ্রীংলকায় ২০০২ সালে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ খেলে ৩-০তে হেরে যায় বাংলাদেশ। ২০০৫ ও ২০০৭ সালের ওয়ানডে সিরিজেও পরাজয় ৩-০ ব্যবধানে। দ্বীপদেশে এরপর টানা দুটি সিরিজ ড্র করতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। ২০১৩ ও ২০১৭ সালে ওয়ানডে সিরিজ অমীমাংসিত থাকে ১-১-এ। ২০১৯ সালের সফরে আবারো ৩-০তে ওয়ানডে সিরিজ হেরে যায় বাংলাদেশ।

শুধু ওয়ানডে নয়, শ্রীলংকার মাঠে কোনো ফরম্যাটেই সিরিজ জেতেনি বাংলাদেশ। ২০০২ থেকে এখন পর্যন্ত সাতটি টেস্ট সিরিজ খেলে ছয়টিতে হেরেছে বাংলাদেশ, ড্র করতে পেরেছে একটি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে শ্রীলংকায় দুটি সিরিজের একটিতে হেরেছে লাল-সবুজরা, একটি ড্র করেছে। তাই বলা হয়, যেকোনো ফরম্যাট মিলিয়ে শ্রীলংকার মাঠে প্রথম কোনো সিরিজ জয়ের হাতছানি মিরাজদের সামনে।

১৯৮৬ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত শ্রীলংকার মাঠে ২৬টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে মাত্র তিনটি জিততে পেরেছে বাংলাদেশ, লংকানরা জিতেছে ২১টি। আগে যে দুটি সিরিজে বাংলাদেশ ম্যাচ জিততে পেরেছে সেই দুটি সিরিজ ড্র হয়েছে। এবারো কি হবে?

২০১৩ সালে পাল্লেকেলেতে ৩ উইকেটে ও ২০১৭ সালে ডাম্বুলায় ৯০ রানে জিতেছে টাইগাররা। কাকতালীয়ভাবে একটি করে ম্যাচ বৃষ্টিতে পণ্ড হওয়ায় ওই দুটি সিরিজই ১-১-এ ড্র হয়। এর আগে ও পরে জুটেছে ২১টি হার।

২০১৩ সালে হাম্বানটোটায় প্রথম ম্যাচটি শ্রীলংকা জিতে নেয়ার পর একই মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচ বৃষ্টিতে পণ্ড হয়। পাল্লেকেলেতে শেষ ম্যাচটি জিতে সিরিজ ড্র করে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের সফরে ডাম্বুলায় প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশ জিতে নেয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায়। এরপর কলম্বোয় তৃতীয় ম্যাচটি লংকানরা জিতে নিয়ে সিরিজ ড্র করে।

চলতি সিরিজে কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে ৫ রানের ব্যবধানে ৭ উইকেট হারিয়ে লজ্জাজনক পরাজয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। অতিথি দলটি দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সমতায় ফিরেছে। তাদের ২৪৮ রানের জবাবে লংকানরা ২৩২ রানে গুটিয়ে যায়। এ প্রত্যাবর্তনের নায়ক স্পিনার তানভীর ইসলাম। তিনি মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেই শিকার করেছেন ৫ উইকেট। স্পিনে দারুণ বোলিং করেন শামীম হোসেনও। এর আগে ব্যাট হাতে ফিফটি করে বাংলাদেশকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহীদ হৃদয়। ব্যাট হাতে অবদান রাখেন পেস বোলার তানজিম হাসান সাকিবও।

দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে দল সিরিজে ফিরলেও পুরোপুরি তৃপ্ত নন অধিনায়ক মিরাজ। শনিবার ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। তবে কিছু জায়গায় আরো ভালো করতে পারতাম। পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারিনি। আমরা যে জুটি গড়েছিলাম, সেটাকে কাজে লাগাতে পারিনি। মাঝখানে উইকেট হারিয়ে ফেলেছি। যদি সেগুলো না হারাতাম, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।’

প্রথম ওয়ানডেতে ৫ রানে ৭ উইকেট হারানো বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যাটিংয়ে ভালো করতে পারেনি। এ নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা যেভাবে হেরেছিলাম, তা মেনে নেয়া কঠিন ছিল। তবে আমাদের বিশ্বাস ছিল। জানতাম যে আমরা এখানে ঘুরে দাঁড়াতে পারি। ২২০ আর ২৫০—এই দুটো এক নয়। দলের সবাই বিশ্বাস করেছিল যে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’