কাতারে আগামী ২০ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২। ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম নভেম্বর-ডিসেম্বরে বসছে বিশ্বকাপ আসর। যেহেতু লিগ মৌসুমের মধ্যে সময় বের করে এ আয়োজন, তাই বিশ্বকাপ শুরুর সপ্তাহখানেক আগেও ক্লাব ফুটবলে ব্যস্ত থাকবেন শীর্ষ তারকারা। অনেকেই এরই মধ্যে চোটে পড়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। দুর্ভাগাদের এই তালিকায় যোগ হতে পারে আরো নাম।
ইংল্যান্ড: এসি মিলানের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে হাঁটুর চোটে পড়েন চেলসির খেলোয়াড় রিস জেমস। তাতে কাতার বিশ্বকাপে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন তিনি। ম্যানসিটি ডিফেন্ডার কাইল ওয়াকার কুঁচকির চোটে ছয় সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেলেও তিনি আশাবাদী, বিশ্বকাপের আগে ঠিকই সুস্থ হয়ে উঠবেন।
ম্যানসিটি ডিফেন্ডার জন স্টোনস ও ম্যানইউ ডিফেন্ডার হ্যারি মাগুইয়ার উভয়ই গত মাসে জার্মানির বিপক্ষ নেশনস লিগ ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন। সেই থেকে দুজনই কোনো ম্যাচ খেলতে পারেননি। গত সেপ্টেম্বরে কাঁধের হাড় সরে যাওয়ায় বিশ্বকাপে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার ক্যালভিন ফিলিপস।
ফ্রান্স: চার সপ্তাহের বিশ্বকাপ আসরে এবারো সবচেয়ে শক্তিশালী দল নিয়ে খেলতে যাওয়ার কথা ছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের। কিন্তু চোটের কারণে দিদিয়ের দেশমের কপালে চিন্তার রেখা ফুটে উঠেছে। মিডফিল্ডের নিউক্লিয়াস এনগোলা কান্তে, পল পগবাসহ একঝাঁক খেলোয়াড় চোটে পড়েছেন।
হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে অস্ত্রোপচার করানোয় বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন চেলসির মিডফিল্ডার কান্তে। এদিকে হাঁটুর চোটের কারণে ম্যানইউ থেকে জুভেন্টাসে নাম লেখানোর পর এখনো কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি ফ্রান্স মিডফিল্ডার পল পগবার। বিশ্বকাপে তিনি খেলবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। এছাড়া ওয়েসলে ফোফানা, লুকাস হার্নান্দেজ ও বৌবাকার কামার চোটের সঙ্গে লড়ছেন।
ব্রাজিল: পাঁচবারের বিশ্বজয়ী ব্রাজিলের এ মুহূর্তে দুশ্চিন্তা টটেনহাম স্ট্রাইকার রিচার্লিসনকে নিয়ে। গত ১৫ অক্টোবর এভারটনের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে কাফের চোটে পড়েন তিনি। তাতে শঙ্কা তৈরি হয় তার বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে। যদিও স্পার্স কোচ আন্তোনিও কন্তে বলেছেন, বিশ্বকাপের আগেই ফিট হয়ে উঠবেন রিচার্লিসন।
পর্তুগাল: বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় দল পর্তুগাল বিশ্বকাপেরও অন্যতম ফেভারিট। যদিও শেষ মুহূর্তের চোট ভোগাচ্ছে দলটিকে। লিভারপুল ফরোয়ার্ড দিয়েগো জোটার বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে। ১৮ অক্টোবর ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ম্যাচে ঊরুর চোটে পড়েন জোটা, যা তার বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।
২২ বছর বয়সী পর্তুগিজ স্ট্রাইকার পেদ্রো নেতো খেলেন উলভারহ্যাম্পটনে। গত ১ অক্টোবর ওয়েস্ট হামের বিপক্ষে গোড়ালির চোটে পড়েন তিনি, যা তার বিশ্বকাপ অংশগ্রহণই শেষ করে দিয়েছে। চোটে পড়ায় পোর্তোর ৩৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার পেপে ও তার ক্লাব সতীর্থ নুনো মেন্দেসেরও বিশ্বকাপ অনিশ্চিত।
জার্মানি: গোড়ালির চোটে ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ খেলা হয়নি বরুশিয়া ডর্টমুন্ড তারকা মার্কো রিউসের। একই পরিণতি হতে পারে এবারের কাতার বিশ্বকাপেও। জার্মানির হয়ে ৪৮ ম্যাচে ১৫ গোল করা এই তারকা গত মাসে গোড়ালির চোটে পড়েছেন। এছাড়া অনিশ্চয়তা বায়ার্ন মিউনিখ তারকা লেরয় সানেকে নিয়েও। গত রোববার ফ্রেইবুর্গের বিপক্ষে বায়ার্নের ৫-০ গোলে জয়ের ম্যাচে ঊরুর মাংসপেশি ছিঁড়ে যায় তার। ক্লাবটি কোনো দিনক্ষণ উল্লেখ না করলেও জানিয়েছে, লম্বা সময় মাঠের বাইরে কাটাতে হবে তাকে। এটাই তার বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ অনিশ্চিত করে তুলেছে।
আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার হয়ে কাতার বিশ্বকাপ খেলা হবে না স্ট্রাইকার পাওলো দিবালার। রোমার হয়ে লিগ ম্যাচে পেনাল্টি নেয়ার সময় তিনি ঊরুর চোটে পড়েন। এদিকে জুভেন্টাস তারকা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াও একই চোটে পড়েছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচ খেলার সময় চোট পান রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানইউ ও পিএসজি ঘুরে এখন জুভেন্টাসে নাম লেখানো অভিজ্ঞ এই উইঙ্গার। তাকে ঘিরেও অনিশ্চয়তা।










