আগামীকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন। যদিও নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। আজকের মধ্যে তিন দফা দাবি না মানলে বাংলাদেশের সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকার ক্লাবগুলো।

গতকাল মোহামেডান ক্লাবে ‘বিসিবি নির্বাচনে নোংরামির বিরুদ্ধে ক্লাব, সংগঠক ও কাউন্সিলরদের প্রতিবাদ’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিসিবি নির্বাচনে মোহামেডান ক্লাবের কাউন্সিলর মাসুদউজ্জামান। এ সময় ঢাকার প্রথম সারির বেশ কয়েকটি ক্লাবের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৪৮টি ক্লাব এ দাবির পক্ষে আছে।

বর্তমান বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ বাড়িয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। অথবা অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন দেয়ার দাবি তুলেছেন তারা। প্রয়োজনে বর্তমান তফসিল বাতিল করে নতুন করে তফসিল ঘোষণা চান সংগঠকরা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ হোসেন অবশ্য নির্বাচন পেছাতে নারাজ। তিনি দেশের এক শীর্ষ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘৬ তারিখ নির্বাচন। এখন আর দুদিন বাকি। এ সময়ে এসে নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই।’

গত বৃহস্পতিবার বিসিবি কার্যালয়ে গিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টার কাছেও একই দাবি জানিয়েছিলেন ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্রের কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম। মাসুদউজ্জামানকে প্রশ্ন করা হয়, ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে এরপর কোনো কথা হয়েছে কিনা। জবাবে তিনি বলেন, ‘পথটা খোলা। ওই দিনই খুলে দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়াতেই আজ এ জায়গায় বসা।’

বিসিবির সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের করা রিটে তৃতীয় বিভাগ বাছাই পর্ব পেরিয়ে আসা ১৫ ক্লাবের কাউন্সিলরশিপ হাইকোর্টে স্থগিত হওয়ার পর জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালসহ মোট ১৬ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সরবরাহ করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লেখা ছিল, ‘বিতর্কিত নির্বাচনের নীলনকশা বাতিল না করা হলে আসন্ন কোনো ধরনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো ক্লাব অংশ নেবে না।’ ওই বিজ্ঞপ্তিতে জেলা ও বিভাগ থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলর তালিকায় সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগও তোলা হয়।

এদিকে গতকাল বিসিবি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী অঞ্চল থেকে পরিচালক প্রার্থী হাসিবুল আলম ও ক্লাব ক্যাটাগরিতে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের প্রার্থী লুৎফর রহমান বাদল। তাদের মধ্যে লুৎফর রহমান গতকাল মোহামেডান ক্লাবের সংবাদ সম্মেলনেও উপস্থিত ছিলেন।