নবম আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচে আজ দুবাইয়ে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত ও পাকিস্তান। চলতি আসরে ভারত প্রথম ম্যাচে হারায় বাংলাদেশকে, আর পাকিস্তান হেরে বসে নিউজিল্যান্ডের কাছে। আজ জিতলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে ভারতের, আর স্বাগতিকদের সেমির আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প নেই। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আজ ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায়।

২০০৮ সালের পর পাকিস্তানের মাঠে খেলেনি ভারত। খেলবে না এ আসরেও। এ নিয়ে পিসিবি-বিসিসিআই দীর্ঘ কথার যুদ্ধ ও জলঘোলা হওয়ার পর ‘হাইব্রিড’ মডেলে আসরটি আয়োজনে বাধ্য হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ভারত তাদের ম্যাচগুলো খেলবে দুবাইতে। এরপর সেমিফাইনাল ও ফাইনালে উঠলেও তাদের ম্যাচগুলো সেখানেই হবে। এমনকি ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল হলেও।

২০১২ সালে দুই দেশ সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে। সেবার ভারতের মাঠে সিরিজটা ২-১-এ জয় করে পাকিস্তান। রাজনৈতিক টানাপড়েনে এরপর আর কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হয়নি। দুই দল এখন শুধু বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক আসরে মুখোমুখি হয়। আরেকটি বৈশ্বিক আসরে দুই দল মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয় ভারত ও পাকিস্তান। এর মধ্যে ২০২১ সালে পাকিস্তান ও বাকি তিনটি ম্যাচে ভারত জিতেছে। এ নিয়ে টানা পাঁচ বছর বৈশ্বিক আসরে লড়তে যাচ্ছে দুই দেশ।

19

ওয়ানডে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আটবারের দেখায় প্রতিবারই জিতেছে ভারত। ১৯৯২ বিশ্বকাপ ৪৩ রানে, ১৯৯৬ বিশ্বকাপে ৩৯ রানে, ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ৪৭ রানে, ২০০৩ বিশ্বকাপে ৬ উইকেটে, ২০১১ বিশ্বকাপে ২৯ রানে, ২০১৫ বিশ্বকাপে ৭৬ রানে, ২০১৯ বিশ্বকাপে ডিএলএস মেথডে ৮৯ রানে ও ২০২৩ বিশ্বকাপে ৭ উইকেটের জয় পায় ভারত।

এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভারতের কর্তৃত্ব। আটবারের দেখায় রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলির দেশ জিতেছে ছয়বার, পাকিস্তান জিতেছে একবার, বাকি একটি ম্যাচ ‘টাই’ হয়। প্রথম আসরেই দুবার দেখা হয়। সেবার উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে পাকিস্তানকে ৫ রানে হারিয়ে দেয় ভারত।

21

বিশ্বকাপে যখন ভারতেরই নিরঙ্কুশ আধিপত্য তখন পাকিস্তানকে আশা দেখায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। শীর্ষ আট দলের এ আসরে রেকর্ড তাদেরই পক্ষে। এখন পর্যন্ত পাঁচবারের দেখায় তিনবার জিতেছে পাকিস্তান, ভারতের জয় দুটি। ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে ৩ উইকেটে, ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সেঞ্চুরিয়নে ৫৪ রানে ও লন্ডনের ওভালে ২০১৭ সালের ফাইনালে ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারায় তারা। ফখর জামানের সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রানের সৌধ গড়ে পাকিস্তান। জবাব দিতে নেমে ১৫৮ রানে গুটিয়ে যায় ভারত।

ভারত ২০১৩ আসরে ডিএলএস মেথডে ৮ উইকেটে ও ২০১৭ আসরে ডিএলএস মেথডে ১২৪ রানে হারায় পাকিস্তানকে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আজ ষষ্ঠবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ক্রিকেটের দুই পরাশক্তি, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দুই সাবেক চ্যাম্পিয়ন।

দুবাইতে আজ উজ্জীবিত ভারতের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে যাচ্ছে মোহাম্মদ রিজওয়ানের দল, যারা প্রথম ম্যাচেই ঘরের মাঠে হেরে বসেছে নিউজিল্যান্ডের কাছে। কিউইদের ৩২০ রানের জবাব দিতে নেমে ৬০ রানে হেরেছে স্বাগতিকরা। একটি হার তাদের ঠেলে দিয়েছে খাদের কিনারে। ভারতের সঙ্গে ম্যাচটি তাদের জন্য এখন বাঁচা-মরা। অন্যদিকে ফুরফুরে মেজাজেই রয়েছে রোহিত শর্মার দল। দুবাইতে প্রথম ম্যাচে তারা বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। আজ তারা পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে চাইছে।

দলের মূল ফাস্ট বোলার জশপ্রীত বুমরাহকে ছাড়াই এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলছে ভারত। যদিও তার শূন্যতা পূরণ করে দিচ্ছেন মোহাম্মদ শামি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫ উইকেট শিকার করে দলের জয়ের অন্যতম নায়ক এই ডানহাতি পেসার। তাওহীদ হৃদয়ের সেঞ্চুরির (১১৮ বলে ১০০) পরও বড় পুঁজি পায়নি বাংলাদেশ। ১২৯ বলে ১০১ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে ভারতকে জিতিয়েছেন শুবমন গিল।

পাকিস্তানেরও মাথাব্যথার কারণ হতে পারেন শামি। কারণ ওয়ানডে ফরম্যাটে তিনি ভয়ংকর রূপেই ফিরলেন। ২০২৩ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৪ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়া শামি সম্প্রতি ওয়ানডে দলে ফিরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজে দুই ম্যাচে মাত্র ২ উইকেট নেন। তবু তার ওপর আস্থা রাখে দল। তিনি আস্থার প্রতিদান দিলেন বাংলাদেশ ম্যাচে ৫ উইকেট শিকার করে।

ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত ১৩৫ ম্যাচের মুখোমুখিতে ৭৩ জয় নিয়ে এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান, ৫৭টি জয় পেয়েছে ভারত। দুবাইতে দুই ম্যাচ খেলে দুটিতেই হেরেছে পাকিস্তান। তারা অবশ্য আরব আমিরাতের শারজায় দাপট দেখিয়েছে। শারজা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ২৪ বারের মোকাবেলায় পাকিস্তান ১৮টি জয় তুলে নিয়েছে। ভারত জিতেছে বাকি ৬ ম্যাচ।

দুবাইয়ে আজকের ভারত-পাকিস্তান মহারণে শুবমন গিল কিংবা মোহাম্মদ শামি নন, যুবরাজ সিংয়ের বাজি রোহিত শর্মা, যিনি পুরোপুরি ছন্দে নেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজে সেঞ্চুরি করলেও ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে তার। তবে ভারতের সাবেক সুপারস্টার যুবরাজ মনে করেন, এখনো একার হাতেই ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রয়েছে রোহিতের। ভারতীয় অধিনায়ককে তিনি ‘বিপজ্জনক’ খেলোয়াড়ের তকমা দিলেন।

যুবরাজ বলেন, ‘একদিনের ক্রিকেটে ও সাদা বলে বিরাট কোহলির পাশাপাশি ও (রোহিত) ভারতের সবচেয়ে বড় ম্যাচ উইনার। ও ফর্মে নেই, তা সত্ত্বেও রান পাচ্ছে। এটা প্রতিপক্ষের জন্য বিপজ্জনক। ফর্মে থাকলে ৬০ বলে সেঞ্চুরি করে দেবে। ওর মান তেমনই। একবার চালু হয়ে গেলে শুধু চারে সীমাবদ্ধ থাকে না, ছয়ের বন্যা বইয়ে দেয়।’ পেসারদের বিপক্ষে রোহিতের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে যুবরাজ বলেন, ‘কেউ ১৪৫-১৫০ গতিতে বল করলেও সেটা অনায়াসে হুক করার ক্ষমতা আছে রোহিতের। ওর স্ট্রাইক রেট সবসময় ১২০-১৪০ থাকে। নিজের দিনে একার হাতেই ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখে।’

পাকিস্তানের বিপক্ষেও রোহিতের রেকর্ড উজ্জ্বল। ১৯ ম্যাচে ৮৭৩ রান করেছেন তিনি, গড় ৫১.৩৫। দুটি সেঞ্চুরি ছাড়াও ফিফটি করেছেন আটটি।