নারী বিশ্বকাপে নবম আসর চলছে। প্রথম ছয় আসরেই খেলার সুযোগ পায়নি স্পেন। ২০১৫ সালে যখন প্রথমবার বৈশ্বিক আসরে খেলার সুযোগ মিলল, সেই থেকে ধীরে ধীরে উন্নতি করে বিশ্ব এলিটদের কাতারে উঠে যেতে থাকল। তারই ধারাবাহিকতায় এবার অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে চলমান ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নাম লিখিয়ছে ‘লা রোজা’রা।

 

বিশ্বকাপ অভিষেকে ড্র করে প্রথম পয়েন্ট পায় স্পেন। পরের আসরে নকআউট পর্বে উঠলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে বিদায় ঘটে তাদের। সেবার যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয় ও সব মিলে চতুর্থ বিশ্বকাপ ঘরে তোলে। এবার নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলছে স্পেন। এখন তো ফুটবলের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে স্প্যানিশ নারীরা।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মতো ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ছাড়াও সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নরওয়ে, অন্যতম সেরা দল কানাডা কিংবা ব্রাজিল বিদায় নিলেও ঠিকই সেরা চারে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। আরো উঁচুতে ওঠার হাতছানি তাদের সামনে। মঙ্গলবার ভোরে অকল্যান্ডের এডেন পার্কে প্রথম সেমিফাইনালে ইউরোপিয়ান দল সুইডেনের মুখোমুখি হবে তারা। জিতলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে জাভি, ইনিয়েস্তার দেশের মেয়েরা।

 

বড় কোনো আসরে ১৯৯৭ সালের পর এটাই স্পেনের প্রথম সেমিফাইনাল। ১৯৯৭ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে খেলে তারা। ইতিহাস গড়ে চলা স্পেনের সামনে এবার অগ্নিপরীক্ষা। প্রতিপক্ষ সুইডেন এরই মধ্যে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জাপানকে বিদায় করেছে।

 

বিশ্বের দ্বিতীয় র‍্যাংকধারী সুইডিশরা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল খেলবে। তারা ২০০৩ আসরের রানার্সআপ। তিনবার হয়েছে তৃতীয়। সুইডেন। দুই বছর আগে টোকিও অলিম্পিকে স্বর্ণের ম্যাচে তারা হেরে যায় কানাডার কাছে।

   

এটাই প্রমাণ করে, বিশ্বকাপে কতটা ধারাবাহিক দল।

 

এই সুইডেনের সামনে কি স্নায়ুচাপে ভুগবে স্পেন? দলটির ফরওয়ার্ড জেনিফার হারমোসো বিষয়টিকে একটু অন্যভাবে ব্যাখ্যা করলেন, ‘আমরা যদি স্নায়ুবিক চাপে না থাকি, তবে কিছুই হয়তো ঠিকঠাক হবে না। আমাদের ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে। আসলে প্রথমবার ফাইনালে ওঠার হাতছানির বিষয়টি মনে হলেই আমার যেন শরীরে কাঁপুনি চলে আসছে। আমরা এটি অর্জনের খুব কাছাকাছি। তবে এটি আমাদের জন্য স্রেফ আরেকটি ম্যাচ। এটা আমাদের জন্য আরেকটি ফাইনালের মতোই।’

 

টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৫ গোল করেছে স্পেন। সুইডেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তারা আক্রমণাত্বক ফুটবল খেলারই পরিকল্পনা করছে। যদিও প্রতিপক্ষ এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি গোল হজম করেছে। এই দলটি যুত্তরাষ্ট্রকে টাইব্রেকারে হারায়।


 

এদিকে, সেমিফাইনালে সুইডেনের ফ্রিদোলিনা রলফো নিজেদের ফেভারিট তকমা নিয়ে বলেন, ‘ফেভারিট দল? আমি জানি না এই ম্যাচে কোন দল ফেভারিট। যখন সেমিফাইনালে উঠবে, তখন প্রত্যেক দলই ভালো। আমি মনে করি, তাদের অনেক ভালো একটি দল রয়েছে, আমাদেরও।’