আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে উড়তে থাকা কিউইদের সামনে আহত বাঘ। আগামীকাল রাওয়ালপিন্ডিতে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ইনফর্ম নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ, যারা প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হেরেছে। নিউজিল্যান্ড প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালের সম্ভাবনা জাগালেও বাংলাদেশ রয়েছে খাদের কিনারে। কাল জিতলে আশা বেঁচে থাকবে, হারলে বিদায় প্রায় নিশ্চিত হবে। নাজমুল হোসেন শান্তদের বাঁচা-মরার এই ম্যাচটি শুরু হবে বেলা ৩টায়। এ ম্যাচে মাঠে নামার আগে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের প্রেরণা দিচ্ছে কার্ডিফ। সর্বশেষ ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর কৃতিত্ব দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই জয়টি তাদের তুলে নিয়েছিল সেমিফাইনালে। কার্ডিফের স্মৃতি আজ কি রাওয়ালপিন্ডিতে ফেরাতে পারবেন শান্ত ও মিরাজরা?
বর্তমান ফর্ম আর ইতিহাস কিউইদেরই পক্ষে। বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড এখন পর্যন্ত ৪৫টি ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে কিউইরা ৩৩টি ও বাংলাদেশ ১১টি জয় পেয়েছে। ফলহীন ছিল এক ম্যাচ। দুই দলের সর্বশেষ ম্যাচটা জিতেছে বাংলাদেশ। ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর নেপিয়ারে নিউজিল্যান্ডকে ৯৮ রানে অলআউট করার পর ৯ উইকেট ও ২০৯ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ১৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব। অবশ্য নিউজিল্যান্ডের কাছে টানা ১২ ম্যাচ হারের পর আসে সেই জয়।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দুবারের মোকাবেলায় উভয় দল একবার করে জিতেছে। শ্রীলংকায় ২০০২ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশকে ১৬৭ রানে হারায় কিউইরা। পেস তারকা শেন বন্ড ২১ রানে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। কার্ডিফে ২০১৭ সালের সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরিতে ভর করে কিউইদের হারায় বাংলাদেশ। কিউইরা ৮ উইকেটে ২৬৫ রান তুলে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে বাংলাদেশকে। যদিও সাকিবের ১১৫ বলে খেলা ১১৪ রানের ইনিংসে ভর করে ৫ উইকেট ও ১৬ বল হাতে রেখে সেই চ্যালেঞ্জে উতড়ে যায় বাংলাদেশ। সেবার সেমিফাইনাল খেলে লাল-সবুজরা। যদিও ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি সাকিব ও তার সতীর্থরা।
কার্ডিফের নায়ক সাকিব অবশ্য এবারের আসরে নেই। আরেক সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদউল্লাহ দুবাইতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে পারেননি সামান্য চোট সমস্যার কারণে। আজ তাকে দেখা যেতে পারে একাদশে।
সেই কার্ডিফ রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেরণা জোগাবে নাজমুল-মিরাজদের। আবার রাওয়ালপিন্ডি থেকেও প্রেরণা নিতে পারেন টাইগাররা। গত বছর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে এই রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানকে ২-০-তে টেস্ট সিরিজে হারিয়ে ইতিহাস গড়েন শান্ত-মুশফিক-মিরাজরা। সেই রাওয়ালপিন্ডিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দুটি ম্যাচ রয়েছে বাংলাদেশের। ২৭ ফেব্রুয়ারি এই ভেন্যুতে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে তারা।
২০ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে তাওহীদ হৃদয়ের সেঞ্চুরিতে ভর করে ২২৮ রান তোলার পর ৬ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। এই হারে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ওঠার পথটা কঠিন করে তুলেছে, তবে এখনো সম্ভাবনা টিকে আছে। ‘এ’ গ্রুপে ভারত ও নিউজিল্যান্ড একটি করে জয় পেয়েছে এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নামের পাশে কোনো পয়েন্ট নেই।
পয়েন্ট শূন্য হলেও এ মুহূর্তে রান রেটের কারণে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশ। টাইগাররা ২৪ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ও ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে। শান্তদের পরের দুটি ম্যাচই রাওয়ালপিন্ডিতে, যেখানে গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে দুই টেস্টের সিরিজে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ।
এখনো সেমিফাইনালে যেতে পারে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান উভয়কেই হারালে টাইগারদের পয়েন্ট হবে ৪। ভারত ও নিউজিল্যান্ড যদি আরো একটি করে ম্যাচ জেতে, তবে তাদেরও পয়েন্ট হবে ৪ করে। তখন রান রেটের ভিত্তিতে সেরা দুই দল নির্ধারণ হবে। বাংলাদেশ যদি নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে যায় ও পরে পাকিস্তানকে হারায় তাহলে পয়েন্ট হবে ২। সেক্ষেত্রে পাকিস্তান-ভারত ও নিউজিল্যান্ড-ভারত ম্যাচের ফলের প্রভাব থাকবে।
তবে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে পাকিস্তানের কাছে হারলে হিসাব একটু কঠিন হবে। কারণ নিউজিল্যান্ডের ২ পয়েন্ট আগে থেকেই আছে।
নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান দুই দলের কাছেই বাংলাদেশ হারলে কোনো হিসাবনিকাশ নেই। সরাসরিই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়।
পাকিস্তান আজ দুবাইতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হারলে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা বাড়বে। আর স্বাগতিকরা আজ ভারতকে হারিয়ে দিলে বাংলাদেশের পথ একটু কঠিন হয়ে যাবে।










