ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো আজ শুক্রবার জানিয়েছেন, চলতি নারী বিশ্বকাপ থেকে ৫৭ কোটি ডলার আয় করেছে ফিফা এবং নারী বিশ্বকাপ এখন ‘ব্রেক ইভেন’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও পুরুষদের সমান প্রাইজমানি নারীরা পাবে কিনা, সেই প্রশ্নের জবাবে সন্তোষজনক কিছু বলেননি ফিফা বস।

 

রোববার সিডনিতে নারী বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও স্পেন। উভয় দলের জন্যই প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি। তবে এবার স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া সেমিফাইনাল খেলায় আসরটি আরো বেশি জনপ্রিয় হয়েছে। আগামীকাল শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে স্বাগতিক নারীরা মুখোমুখি হবে সুইডেনের।  

 

গত বছর কাতারে অনুষ্ঠিত পুরুষদের ফিফা বিশ্বকাপে প্রাইজমানি ছিল ৪৪ কোটি ডলার। আর চলমান নারী বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ১১ কোটি ডলার। নারীদের জন্য পুরুষদের সমান প্রাইজমানির দাবি সব সময়ই প্রত্যাখ্যান করে এসেছেন ইনফ্যান্তিনো, এবারো করলেন।

 

আজ এ নিয়ে তিনি বললেন, ‘‘প্রাইজমানির সমতার কথাটি আসলে একটি ‘স্লোগান’ এবং এটি সবকিছুর সমাধান দিতে পারে না। কিছু মানুষ এ নিয়ে কথা বলছেন, কোথায় এত খরচ হয়। আসলে আমরা খুব বেশি আয় করছি না। আমাদের তো ভর্তুকিও দিতে হয়। আমাদের অভিমত হলো, যদি আমাদের ভর্তুকি দিতেই হয়, তবে আমরা সেটি দিয়ে যাব, কারণ আমাদের সেটি করতে হবে। কিন্তু, প্রকৃতপক্ষে, এই বিশ্বকাপ থেকে আমরা ৫৭০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছি এবং এখন আমরা ব্রেক ইভেনে আছি। এটা প্রমাণ করে, আমরা ভুল কৌশল নেইনি। কিন্তু এটা ঠিক, আমাদের আরো ভালো করতে হবে। তবে আমরা সঠিক পথে আছি।’’

 

তিনি আরো বলেন, ‘বৈশ্বিক পর্যায়ে যেকোনো প্রতিযোগিতায় পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করেছি আমরা। অর্ধ বিলিয়নেরও বেশি। পুরুষ ফুটবলসহ খুব বেশি প্রতিযোগিতা নেই, যারা অর্ধ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।’

 

ফিফা প্রেসিডেন্ট আহ্বান জানান, সব ধরণের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও লিগে যেন নারী খেলোয়াড়দের ন্যায্য আর্থিক সুবিধা দেয়া হয়। সেজন্য সম্প্রচার কোম্পানি ও পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি আহ্বান জানান ইনফ্যান্তিনো।   

 

বিশ্বকাপের দল ২৪ থেকে বাড়িয়ে ৩২ করায় সমালোচনার মুখে পড়ে ফিফা। যদিও যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ব্রাজিল, নরওয়ের মতো দলগুলোর দ্রুত বিদায় ঘটে এবং জ্যামাইকা, মরক্কো ও দক্ষিণ আফ্রিকা সবাইকে অবাক করে দিয়ে নকআউট পর্বে উঠে যায়।

 

এ নিয়ে আজ এক প্রশ্নের জবাবে ফিফা প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তারা বলছিল: এই কৌশল কাজে আসবে না, দলগুলোর মান সম্পূর্ণ আলাদা। আপনারা ১৫-০ স্কোরও দেখবেন। এটা নারী ফুটবলের জন্য খারাপ বার্তা নিয়ে আসবে। কিন্তু আমি দুঃখিত, ফিফা ঠিকই করেছে। ফিফা ভুল করেনি। এখন প্রত্যেকেই বিশ্বাস করেন যে, বৈশ্বিক আসরে তাদেরও জ্বলে ওঠার সুযোগ আছে।’