রায়ান রিকেলটনের ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে ভর করে আজ শুক্রবার আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে ৩১৫ রানের সংগ্রহ গড়ে। এই রান তাড়া করতে নেমে ৪৩.৩ ওভারে ২০৮ রানে গুটিয়ে গিয়ে ১০৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে আফগানরা।

রহমত শাহ ৯২ বলে ৯০ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেও আফগানিস্তানকে জেতাতে পারেননি। এমনকি জয়ের সম্ভাবনাও জাগাতে পারেনি তার দল। কাগিসো রাবাদা, উইয়ান মুলডার ও লুঙ্গি এনগিডির গতিতে লণ্ডভণ্ড আফগান ব্যাটিং লাইনআপ।

এর আগে ১০৬ বলে ৭ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ১০৩ রানের ইনিংস খেলে রানআউট হয় যান রিকেলটন। এছাড়া দারুণ ফিফটি করে তেম্বা বাভুমা (৭৬ বলে ৫৮), রাসি ফন ডার ডুসেন (৪৬ বলে ৫২) ও এইডেন মার্করাম (৩৬ বলে ৫২*) দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এটা প্রোটিয়াদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। আগের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ২০০২ আসরে কেনিয়ার বিপক্ষে করা ৩১৬/৫।

আজ জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হতো আফগানদের। সর্বোচ্চ ২৮৩ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড আছে তাদের পাকিস্তানের বিপক্ষে। হাশমতউল্লাহ শহিদির দলকে প্রেরণা দেয় গত বছর আরব আমিরাতে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়। যদিও এ যাত্রায় প্রোটিয়াদের সামনে কোনো বিভাগেই দাঁড়াতে পারেনি আফগানরা।

আফগানরা সর্বশেষ চারটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে, যার মধ্যে গত সেপ্টেম্বরে শারজায় প্রোটিয়াদেরও হারায় তারা। দক্ষিণ আফ্রিকাই সর্বোচ্চ র‍্যাংকধারী দল যাদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় করে আফগানরা। যদিও তখন পূর্ণশক্তির দল খেলায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা।

আফগানরা গত দুটি বৈশ্বিক আসরে যেন রূপকথা লিখেছে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অল্পের জন্য সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। অবশ্য সেই থেকে চারটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে তারা। এর মধ্যে দুটি সিরিজ এসেছে আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, যারা এই চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নেই। বাকি দুটি দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশের বিপক্ষে।

২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলে চমক দেখায় আফগানিস্তান।

এই ফরম্যাটে হারের বৃত্তে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। গত ডিসেম্বরে পাকিস্তানের কাছে ৩-০তে হোম সিরিজ হারের পর সদ্যই পাকিস্তানের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ড ও স্বাগতিকদের কাছে হেরেছে তেম্বা বাভুমার দল। অন্যদিকে, আফগানরা সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের মধ্যে জিতেছে চারটি। যদিও আজ জয়ে ফিরেছে বাভুমার দল।