টি২০ বিশ্বকাপে আজ মাঠে নামছে ভারত ও পাকিস্তান। চলতি আসরে টানা দুই ম্যাচে হেরে বিপাকে থাকা পাকিস্তান আজ প্রথম জয়ের খোঁজে নামছে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। পার্থে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ১টায়। একই মাঠে ভারত তৃতীয় জয়ের লক্ষ্যে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ম্যাচটি শুরু হবে বিকাল ৫টায়।
গত ২৩ অক্টোবর মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে ভারতের কাছে চার উইকেটে হেরে যায় পাকিস্তান। এরপর ২৭ অক্টোবর একই দিন মাঠে নামে ভারত ও পাকিস্তান। সিডনিতে সেদিন বিরাট কোহলি ও সূর্যকুমার যাদবের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৭৯ রানের পুঁজি গড়ে নেদারল্যান্ডসে ৫৬ রানে হারায় ভারত। সন্ধ্যায় পার্থে জিম্বাবুয়ের কাছে ১ রানে হেরে যায় বাবর আজমের পাকিস্তান। জিম্বাবুয়ের দেয়া ১৩১ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ১২৯ রান তুলতে সমর্থ হয় পাকিস্তান।
জয়ক্ষুধা নিয়েই আজ ডাচদের মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান। এখন পর্যন্ত টি২০-তে দুই দল মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছে, যেটিতে জিতেছে পাকিস্তান। ২০০৯ সালের টি২০ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পথে লর্ডসে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ৮২ রানে হারিয়েছিল ইউনুস খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান। তবে আজ ডাচদের খুব হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই বাবরদের। কেননা এরই মধ্যে জিম্বাবুয়ের হাতে অঘটনের শিকার সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আজ হারলে সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ শেষ হয়ে যাবে।
ভারত ও জিম্বাবুয়ের কাছে শেষ বলে হেরেছে পাকিস্তান। এখনো কি সেমিফাইনালে পৌঁছা বাবরদের পক্ষে সম্ভব? তাদের জন্য সেমিফাইনালে ওঠা কঠিন, তবে গাণিতিকভাবে অসম্ভব নয়। এজন্য তাদের বিশেষ কিছু করতে হবে।
এজন্য প্রথমেই তাদের নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা তিনটি জয় তুলে নিতে হবে। তবে বিষয়টি এখন শুধুই পাকিস্তানের হাতে নেই। ভারত, জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে যেকোনো দুটি দল যদি বাকি তিন ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জিতে যায় তবে তারা ছয়ের বেশি পয়েন্ট নিয়ে শেষ করবে, যা ছোঁয়া পাকিস্তানের পক্ষে আর সম্ভব নয়। পাকিস্তান সর্বোচ্চ পেতে পারে ছয়।
এক্ষেত্রে নিট রানরেট একটি ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। প্রথম দুই রাউন্ড শেষে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘টু’তে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে ভারত। আর পাকিস্তান দুই ম্যাচ থেকে কোনো পয়েন্ট তুলে নিতে পারেনি। টেবিলে পরের তিনটি স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা (তিন পয়েন্ট), জিম্বাবুয়ে
(তিন পয়েন্ট) ও বাংলাদেশ (দুই পয়েন্ট)।
প্রোটিয়ারা প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেও বৃষ্টির কারণে এক পয়েন্ট হারায়। পরের ম্যাচে রাইলি রুশোর অনবদ্য সেঞ্চুরিতে ভর করে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে বাংলাদেশকে হারায়। কুইন্টন ডি ককও ঝলক দেখাচ্ছেন। পাশাপাশি প্রোটিয়া বোলাররাও ফর্মে রয়েছেন। সব মিলিয়ে আজ ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তৈরি তেম্বা বাভুমার দল।
ভারতও তৈরি। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা ভারতীয়রা পরের ম্যাচে ডাচদের উড়িয়ে দেয়। ভারতের জন্য ইতিবাচক দিক হলো সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলির ফর্মে ফেরা। টানা দুই ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করে তিনি দলের জয়ের নায়ক। তার সঙ্গে ফর্মে রয়েছেন ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারা সূর্যকুমার, যিনি আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। পাশাপাশি, রোহিত শর্মা, হার্দিক পান্ডিয়া ও লোকেশ রাহুলও বড় ম্যাচের পরীক্ষিত খেলোয়াড়। কাজেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো যথেষ্ট রসদ রয়েছে ভারতীয় শিবিরে।
ভারত চাইবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে, অন্যদিকে প্রোটিয়াদের লক্ষ্য ভারতকে শীর্ষচ্যুত করা। আজ যারা জিতবে তারাই এক নম্বরে থাকবে। আর ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে শীর্ষস্থান কোহলিদের দখলেই থাকবে।
টি২০ লড়াইয়ে ভারতই এগিয়ে। এখন পর্যন্ত ২৩ বারের মোকাবেলায় ভারত ১৩টি ও প্রোটিয়ারা ৯টিতে জিতেছে।










