অ্যান্টিগার নর্থ সাউন্ডে নিজেদের আগের দুই টেস্টের অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয় বাংলাদেশের। দুবারই আগে ব্যাটিংয়ে নেমে পড়তে হয়েছে বিপর্যয়ের মুখে। গতকাল তাই টস জিতেই বোলিং বেছে নিলেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তার সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করে বাংলাদেশের পেসাররা অ্যান্টিগার পেসবান্ধব উইকেটে প্রথম সেশনে দারুণ সাফল্য পেলেন। ২৩ ওভারের সেশনে ২ উইকেট হারিয়ে ৫০ রান তুলতে সমর্থ হয় স্বাগতিকরা। এ প্রতিবেদন লেখার সময় ক্যারিবীয়রা ৬৭ ওভারে ৩ উইকেটে ১৮৭ রান নিয়ে ব্যাট করছিল। মিকাইল লুইস ৯০ ও অলিক আথানাজ ৫৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।
স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের শক্ত বোলিংয়ের মুখে প্রথম ১২ ওভারে স্বাগতিকরা বিনা উইকেটে ২৩ রান তুলতে সমর্থ হয়। অধিনায়ক ক্রেগ ব্র্যাথওয়েট ও মিকাইল লুইস সতর্ক হয়ে খেলছিলেন। যদিও পানি পানের বিরতির পরই ১৪তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তাসকিন। তার বলে লেগ বিফোর হয়েছেন ব্র্যাথওয়েট। তিনি আউট হওয়ার আগে ৩৮ বলে করেছেন ৪ রান।
তাসকিন পরের ওভারে আক্রমণে এসে সাজঘরে ফেরান কিসি কার্টিকে। মিডল লেগ স্টাম্পে করা বলটিতে ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন কার্টি। এজ হয়ে বল চলে যায় মিড উইকেটে থাকা তাইজুল ইসলামের হাতে। হতাশ করেননি তাইজুল। কার্টি সাজঘরে ফেরেন শূন্য রানে (২/২৫)। এরপর দলকে টানেন মিকাইল লুইস ও কাভেম হজ।
ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামকে বলা যেতে পারে বাংলাদেশের জন্য গোরস্তান! এ মাঠে ২০১৮ সালে মাত্র ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার নজির আছে বাংলাদেশ দলের। ৮ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন পেসার কেমার রোচ। সেবার ইনিংস ও ২১৯ রানে হেরেছিল সফরকারীরা। ২০২২ সালে এ মাঠে আরেকবার বাংলাদেশকে চূর্ণ করেছেন গতি বোলার রোচ। তিনি দুই ইনিংসে ৭ উইকেট নেন। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গিয়েছিল ১০৩ রানে।
অ্যান্টিগায় বাংলাদেশের এ রেকর্ড মাথায় রেখেই হয়তো এবারের সিরিজের প্রথম ম্যাচটি এ ভেন্যুতে রেখেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভিভিয়ান রিচার্ডসের টেস্ট অভিষেকের ৫০তম বার্ষিকীতে হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-বাংলাদেশ টেস্ট। তবে ক্যারিবীয়দের চমকে দিয়ে প্রথম সেশনে দুর্দান্ত বোলিং করে বাংলাদেশ। এ ছন্দ ধরে রেখে তারা কি পারবে ভিভ রিচার্ডসের উত্তরসূরিদের হতাশ করতে?
এটা দুই দলের ২১তম টেস্ট লড়াই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৪টি ম্যাচ জিতে এগিয়ে রয়েছে, বাংলাদেশের জয় ৪টি, বাকি দুই ম্যাচ হয়েছে ড্র। এটা দুই দলের ১১তম টেস্ট সিরিজ। এর আগে ১০ সিরিজের মধ্যে বাংলাদেশ ২টি ও ক্যারিবীয়রা ৮টি জিতেছে। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে সিরিজ জয় করে ইতিহাস গড়েছিলেন সাকিব আল হাসানরা। ২০০৯ সালের পর অবশ্য ক্যারিবীয় অঞ্চলে আরো ৬টি টেস্ট খেলে কখনো জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো সিরিজ জয়ের সাফল্য আসে ঘরের মাটিতে। ক্রিকেটের ঐতিহ্যবহুল দলটির বিপক্ষে তৃতীয়বারের মতো সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমেছে টাইগাররা।
মাহমুদউল্লাহ অবসর নিয়েছেন। সাকিব আল হাসানের ক্যারিয়ার রাজনৈতিক কারণে শেষই প্রায়। তামিম ইকবাল বহুদিন মাঠের বাইরে। তাদের প্রজন্মের আরেক তারকা মুশফিকুর রহিম এখনো বাংলাদেশ দলের মিডল অর্ডারের কাণ্ডারি। তিনি দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট রান করেছেন (৬০০৭)। যদিও সম্প্রতি আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ চলাকালে তিনি আঙুলে চোট পেলে ছিটকে যান ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে। এ সিরিজে চোটের কারণে খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তরও। শীর্ষ ছাড়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজে কঠিন মিশনে নেমেছে তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ দল।
পাকিস্তানে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের পরপর ভারতে বাজেভাবে হেরেছে শান্তর দল। এরপর ঘরের মাঠে প্রোটিয়াদের কাছেও বিধ্বস্ত হয় তারা, যার একটি ম্যাচে ইনিংস ও ২৭৩ রানে হারের লজ্জাও পায় শান্তর দল। টানা দুই সিরিজে চারটি টেস্টে পরাজিত বাংলাদেশ এবার ক্যারিবীয় দ্বীপে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
এই সিরিজটা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। ৯ দলের এই চ্যাম্পিয়নশিপে আটে থাকা বাংলাদেশের শতকরা পয়েন্ট ২৭.৫০। বাংলাদেশ ১০ টেস্ট খেলে জিতেছে তিনটি। আর শতকরা ১৮.৫২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নয় টেস্টে তারা মাত্র একটি জিতেছে। দুই দলের কারোরই আর ফাইনালে খেলার আশা নেই। তবু গৌরবের জন্য জিততে চায় উভয় দলই।
জ্যামাইকার স্যাবাইনা পার্কে ৩০ নভেম্বর দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে। এরপর তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে দল দুটি।










