গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো যে কঠিন প্রতিপক্ষ হবে, সেটা সবারই জানা ছিল। আফ্রিকার এ দলটির কাছে শুরুতেই গোল খেয়ে হারতে বসেছিল ব্রাজিল। তবে সেলেসাওদের মান বাঁচিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার গোল আর পারফরম্যান্সে ব্রাজিল ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচ শেষে প্রশংসায় ভাসছেন ভিনিসিয়ুস।
মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বলেছিলেন, ‘ব্যক্তিগত পুরস্কার জেতার জন্য এখানে আসিনি। চ্যাম্পিয়ন হতে এসেছি। এ টুর্নামেন্টে যদি একটিও গোল না করি কিন্তু শিরোপা জিতি, তাহলে আমার চেয়ে খুশি আর কেউ হবে না।’ ২৯ ম্যাচে অপরাজিত থাকা মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিল ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়া অবস্থায় দলের ‘পোস্টার বয়’ ভিনিসিয়ুসই এগিয়ে আসেন। দুর্দান্ত এক গোল করে তিনি কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকে গুরুত্বপূর্ণ ১ পয়েন্ট এনে দেন।
ম্যাচ শেষে ভিনিসিয়ুসের প্রশংসা করে লেফট-ব্যাক ডগলাস সান্তোস বলেছেন, ‘ভিনিসিয়ুস একজন জিনিয়াস। ড্রিবলিংয়ে তাকে থামানো খুব কঠিন। সে খুব সহজেই প্রতিপক্ষকে কাটাতে পারে। এবারো সেটাই করেছে। দারুণ ছিল গোলটি।’
ভিনিসিয়ুস মাঠে ছিলেন বিশ্বকাপে এক ম্যাচে এটা ব্রাজিলের সপ্তম গোল এবং এ সাতটি গোলেই কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন ভিনিসিয়ুস।
ব্যক্তিগত পুরস্কার নিয়ে অনাগ্রহের কথা বললেও এবার ঠিকই ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন ভিনিসিয়ুস। কিংবদন্তি রোনালদো তাকে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের মাঠে ম্যাচসেরার পুরস্কার তুলে দেন।
পুরস্কার হাতে নিয়ে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘আমি মনে করি, আমি এখনো অনেক উন্নতি করতে পারি। গোল করেছি, কিন্তু টেকনিক্যালি আমার শতভাগ দেয়া সম্ভব হয়নি। আমি আরো উন্নতি করতে চাই এবং আক্রমণে বেশি অবদান রাখতে চাই। আমি রক্ষণেও দলকে সাহায্য করেছি।’
রিয়াল মাদ্রিদের এ তারকা ফরওয়ার্ড বলেন, ‘আমরা প্রথমার্ধে খুব খারাপ শুরু করেছি। প্রথম ম্যাচে ছন্দ খুঁজে পাওয়া সবসময়ই কঠিন। আমাদের বলের দখল আরো বাড়াতে হবে, পাসিং নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ সবসময় কাউন্টার অ্যাটাকের সুযোগ খোঁজে।’
ব্রাজিলিয়ান এ তারকা জানান, ‘বলার মতো বেশি কিছু নেই। আমাদের এখনই কাজে ফিরতে হবে, কারণ পরের ম্যাচ খুব কাছেই। বিশ্বকাপে কোনো সহজ ম্যাচ নেই। শিরোপা জিততে হলে আমাদের উন্নতি করতে হবে।’
নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে ডগলাস সান্তোস বলেন, ‘এটা আমাদের প্রথম ম্যাচ ছিল। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ছিল, তাই কঠিন হবে সেটা আমরা জানতাম। ফলটা আমাদের প্রত্যাশামতো হয়নি, তবে পিছিয়ে থেকেও ড্র করতে পারাটা আমাদের আত্মবিশ্বাস দেবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, জিততে চেয়েছিলাম। ইতিবাচক দিকগুলো নেব, তবে এটাও জানি আমাদের আরো ভালো করতে হবে।’
এদিকে কোচের প্রশংসাও কুড়িয়েছেন ভিনিসিয়ুস। আনচেলত্তির মতে, তিনি পুরো ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি ছিলেন এবং ভালো বিশ্বকাপ খেলার সব সামর্থ্য তার রয়েছে।
খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়নেও ব্রাজিল দলে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন ভিনিসিয়ুস। গোলের পাশাপাশি আক্রমণে সবচেয়ে প্রাণবন্ত ফুটবলার ছিলেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিল পুরো ৩ পয়েন্ট না পেলেও ভিনিসিয়ুসের ঝলকই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হয়ে থাকল।
ব্রাজিল তাদের পরবর্তী ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে মাঠে নামবে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায়। গতকাল ‘সি’ গ্রুপের আরেক ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্কটল্যান্ড।










