এক নারীকে যৌন হেনস্তার বিতর্কে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন টিম পেইন। এদিকে অ্যাশেজ সিরিজ শুরু হবে সামনের মাসের ৮ তারিখ থেকে। এর আগে পেইনের পদত্যাগে বিপাকে পড়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। কার কাঁধে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত একটু কঠিনভাবেই নিচ্ছে অজি বোর্ড।
এজন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্যানেল গঠন করেছে তারা। প্যানেল ঠিক করবে অস্ট্রেলিয়ার সাদা জার্সির পরবর্তী নেতৃত্ব কে দেবেন। পাঁচ সদস্যের প্যানেলে আছেন- দেশটির সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান নির্বাচক জর্জ বেইলি, টনি ডোডেমাইড, সাবেক ব্যাটার ও বোর্ডের সদস্য মেল জোন্স, চিফ এক্সিউটিভ অফিসার (সিইও) নিক হকলি ও রিচার্ড ফ্রয়েডেনস্টেইন।
তবে কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার, নির্বাচক বেইলি ও ডোডেমাইড প্যানেলের কাছে প্রার্থীদের একটি তালিকা দিয়েছেন।
তবে ধারণা করা হচ্ছে ফাস্ট বোলার প্যাট কামিন্স, স্টিভেন স্মিথ ও মার্নাস লাবুশেনের মধ্যে কেউ হতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক।
পেইন অবশ্য আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন, নারী সহকর্মীকে পাঠানো অশালীন বার্তার কথা যেকোনো সময়ই প্রকাশ পেতে পারে! এককথায় বিষয়টা তার কাছে ছিল প্রতিমুহূর্তে বেজে চলা টিকিং টাইমবোম!
পেইন ২০১৭ সালে ক্রিকেট তাসমানিয়ার নারী সহকর্মীকে অশালীন বার্তা দেয়ার পাশাপাশি ছবিও পাঠিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে ওই ঘটনায় ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের তদন্ত হলেও তার মুক্তি মিলেছিল। কারণ, তারা আচরণবিধি ভঙ্গের কোনো দোষ খুঁজে পাননি। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান চেয়ারম্যান রিচার্ড ফ্রয়েডেনস্টেইন ও প্রধান নির্বাহী নিক হকলি বলেছেন, তারা ওই সময় দায়িত্বে থাকলে টিম পেইনকে অধিনায়ক হতে দিতেন না। ২০১৯-২০২০ সালে যখন তারা বোর্ডে যোগ দিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন, তখন আর সেটি নিয়ে বেশি মাতামাতি করার প্রয়োজন অনুভব করেননি।
কিন্তু পেইন তখন থেকেই বিষয়টি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও বিষয়টি সামনে আনার চেষ্টা করেছিল। হেরাল্ড সানকে পেইন বলেছেন, ‘বিগত তিন বছর ধরেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম আমাদের বলে আসছিল তাদের কাছে প্রমাণ আছে। তবে তারা ওই বিষয়ে কিছু লিখতে চায়নি।’
এরপর থেকেই পেইনের মাঝে এই ধারণার জন্ম নেয়, বিষয়টি যেকোনো সময়ই সামনে চলে আসতে পারে, ‘তখন থেকেই আমি জানতাম বিষয়টা একদিন সামনে আসবেই। যদিও এমনটা হোক, আমি চাইনি।’
পেইন এ বিষয়ে রীতিমতো অনড় যে, ২০১৭ সালে নারী সহকর্মীকে পাঠানো অশালীন বার্তার ঘটনাটি পরস্পরের সম্মতিতেই হয়েছে। ঘটনাটি যে একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে, সে বিষয়টি তিনি জানতে পারেন অধিনায়ক হওয়ার পর! ঘটনাটি সম্মতির ভিত্তিতে হওয়ায় বিষয়টা যে অধিনায়ক হওয়ার পথে অন্তরায় হতে পারে সেটি ভাবেননি। তিনি বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার আগে থেকেই বার্তাগুলো পরস্পরের সম্মতিতে আদান প্রদান হয়েছে। ফলে আমার কাছে মনে হয়নি অধিনায়ক হওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। তখন শুধু নেতৃত্বভার নেয়ার জন্য আমি রোমাঞ্চিত ছিলাম এবং নিজেকে সম্মানিত ভাবছিলাম।










