শিশু লিওনেল মেসির মধ্যে অমিত সম্ভাবনা দেখে অগত্যা টিস্যু পেপারে তার বাবা হোর্হের সই নিয়েছিলেন বার্সেলোনার কর্মকর্তারা। এরপর তো বার্সেলোনার হয়ে তিনি ইতিহাস গড়েছেন। এভাবে পছন্দের খেলোয়াড়কে নিজেদের তাঁবুতে নিতে এমন সব ঘটনার অবতারণা হয় তা রূপকথাকেও হার মানায়। ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজও এমন দারুণ এক গল্প শোনালেন। বেনজেমাকে পেতে তিনি ফ্রান্সে খেলোয়াড়টির বাড়িতেও গিয়েছেন!

সদ্যই ব্যালন ডি’অর পুরস্কারজয়ী বেনজেমা এখন লস ব্লাঙ্কোসদের অন্যতম কিংবদন্তি খেলোয়াড়। কিন্তু তার রিয়ালে যোগ দেয়ার গল্পটা খুব সহজ ছিল না, বিশেষ করে তার এজেন্ট ও ক্লাবের মধ্যে চুক্তি নিয়ে অনেক নাটকীয়তা হয়ে যায়। ব্যালন ডি’অর জয়ের পর পেরেজ প্রকাশ করলেন, কীভাবে বেনজেমাকে রিয়ালে সই করানো হয়েছিল এবং পেছনের গল্পটাও।

অলিম্পিক লিওঁ থেকে তরুণ বেনজেমাকে নিজ দলে সই করাতে মরিয়া পেরেজ ২০০৯ সালে বেনজেমার বাড়িতে যান। পেরেজ নিজের মুখেই বলেছেন, সবাই জানেন যে আমি বেনজেমার বাড়িতে গিয়েছি। পেরেজ আরো জানান, বেনজেমা ব্যালন ডি’অর জেতায় তিনি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন, কেননা গত ১৩ বছরে তিনি এই খেলোয়াড়টির একজন সমর্থক হয়ে উঠেছেন। বেনজেমার বাড়িতে গিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে রাজি করানোর পুরস্কারও এখন পাচ্ছেন পেরেজ, কেননা কয়েক বছর ধরে রিয়ালের সাফল্যের অন্যতম কাণ্ডারি হয়ে উঠেছেন এ স্ট্রাইকার। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো চলে যাওয়ার পর তার শূন্যতা পূরণ করে রিয়ালের আশা-ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন বেনজু। রিয়ালের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা বেনজেমা। তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন শুধু রোনালদো। রিয়ালের জার্সিতে ৬১৫ ম্যাচ খেলে ৩২৮ গোল করেন বেনজেমা। এছাড়া ১৬০টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।

গত সোমবার ব্যালন ডি’অর পুরস্কার হাতে নেন বেনজেমা। ফরাসি গ্রেট জিনেদিন জিদানের হাত থেকে ব্যালন ডি’অর ট্রফি নেন বেনজেমা। জিদানের চোখে বেনজেমাই ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে সেরা স্ট্রাইকার। লা’কিপকে জিজু বলেন, ফ্রেঞ্চ ফুটবলের সর্বকালের সেরা স্ট্রাইকার? প্রত্যেকের চোখেই ফেভারিট থাকে। অবিশ্বাস্য গোল রেকর্ডের কারণে কেউ হয়তো জঁ-পিয়েরে পাপিনকে সেরা বলবেন, কেউবা বলবেন মিশেল প্লাতিনির নাম। আমার কাছে এটি করিম বেনজেমা, কারণ আমি তার কাছাকাছি ছিলাম এবং সে দলের জন্য কতটা মূল্যবান তা আমি দেখেছি। সে শীর্ষে থাকার যোগ্য।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১ জুলাই বেনজেমাকে সই করানোর ঘোষণা দেয় রিয়াল মাদ্রিদ। তাকে কিনতে ৪৫ মিলিয়ন ইউরো ফি গুনতে হয় রিয়ালকে। যদিও প্রণোদনাসহ খরচ হয় ৪১ মিলিয়ন ইউরো। সেই থেকে তিনি রিয়ালের জার্সিতে খেলে যাচ্ছেন। স্প্যানিশ জায়ান্টদের হয়ে এখন পর্যন্ত চারটি লা লিগা, পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, দুটি কোপা ডেল রে, চারটি স্প্যানিশ সুপার কাপ, চারটি উয়েফা সুপার কাপ ও চারটি ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছেন কৃতী এ স্ট্রাইকার।