দেদার ব্যয় নিয়ে আবারো আলোচনায় ফরাসি লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি। তাদের লাগামহীন খরচ নিয়ে ইউরোপের ফুটবল গভর্নিং বডি উয়েফার কাছে নালিশ করেছেন স্প্যানিশ লা লিগা প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের তেবাস। 

ফরাসি ক্লাবটি যেভাবে দলবদলের বাজারে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে, বিশেষ করে খেলোয়াড়দের চুক্তি সম্পন্ন করছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি চোখ ধাঁধানো প্রস্তাবে ফ্রান্স জাতীয় দলের খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পের চুক্তি নবায়ন করার পর বিষয়টি নিয়ে হইচই পড়ে যায়। ক্লাবটির এহেন কর্মকাণ্ড নিয়ে নাখোশ স্প্যানিশ লা লিগা কর্তৃপক্ষ তাই উয়েফার কাছে অভিযোগই দায়ের করেছে।

লা লিগা প্রেসিডেন্ট অভিযোগে বলেছেন, ম্যানসিটি ও পিএসজির মতো ‘রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন’ ক্লাবকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ইউরোপের ফুটবলই বিপদাপন্ন হবে। দুটি ক্লাবই ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে (এফএফপি) নিয়ম ভেঙেছে।

অভিযোগে বলা হচ্ছে, কার্যত দুটি ধনী রাষ্ট্র এ ক্লাব দুটিকে পরিচালনা করছে এবং এর ব্যয় নির্বাহকে টেকসই করতে প্রতারণামূলক কৌশলের আশ্রয় নেয়। যদিও উভয় ক্লাবই তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সিটির মালিক এবং ফরাসি ক্লাব পিএসজির মালিক খোদ কাতারের আমির।

লা লিগা প্রেসিডেন্ট তার অভিযোগে বলেন, আমরা এটি করছি ইউরোপের ফুটবলে ইকোসিস্টেম ধরে রাখতে। আমরা মনে করি, ইউরোপের ফুটবল বিপদাপন্ন। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ক্লাবকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো কাঠামো আমরা দাঁড় করাতে পারিনি। 

ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম লা’কিপ বুধবার এক প্রতিবেদনে লিখেছে, আবারো পিএসজির ব্যাংক হিসাব উয়েফার আতশি কাচের নিচে চলে এসেছে। সাংবাদিক এতিয়েন মোয়াত্তি জানান, উয়েফার ফাইন্যান্সিয়াল সেন্ট্রাল বডির (আইসিএফসি) কর্মকর্তাদের চাওয়া ব্যাংক হিসাবের তথ্যের ব্যাপারে জবাব দিতে হচ্ছে পিএসজিকে।

উল্লেখ্য, ২০২০-২১ মৌসুমে ২২ কোটি ৪৩ লাখ ইউরো লোকসান গুনেছে পিএসজি।

পিএসজিকে নিয়ে সমস্যার শুরুটা ২০১৪ সালে। তখন ক্লাবটিকে বাধ্য হয়েই আইসিএফসির সঙ্গে সন্ধি চুক্তি করতে হয়েছিল, যাতে তাদের গুরুতর কোনো শাস্তির মুখে পড়তে হয়। সেবার ৬০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা দিয়ে বেঁচে যায় তারা।

২০১৮ সালের পিএসজির স্পন্সরশিপ চুক্তির প্রকৃত অর্থমূল্য হিসাব করতে কয়েক মাস ধরে অনুসন্ধান চলে। যদিও শেষ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি ছাড়াই ফাইল ‘ক্লোজ’ করে আইসিএফসি। এরপর মামলাটি পুনরায় শুরু করা হলেও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত পরিশেষে এর সমাপ্তি টানেন। তবে শেষ হয়েও হলো না। সম্প্রতি লা লিগা প্রেসিডেন্ট পিএসজি-ম্যানসিটির বিপক্ষে অভিযোগ দিয়েছেন উয়েফায়। তেবাস বলেছেন, সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে বিরাট লোকসান করার পরও এমবাপ্পের চুক্তি নবায়ন করাটা অসম্ভব কাজই। উল্লেখ্য, তিন বছরের জন্য মোট ৭৫ কোটি পাউন্ডের বিশাল আর্থিক সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে এমবাপ্পেকে চুক্তি নবায়নে পিএসজি রাজি করিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এ নিয়ে তেবাস বলেন, পিএসজির ২০ কোটি ইউরো লোকসান হয়েছে  এবং এ সময় কিনা তারা ওই অংকে এমবাপ্পের চুক্তি নবায়ন করল। তাদের অবশ্যই প্রতারণার আশ্রয় নিতে হবে।

ম্যানসিটিকে চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল উয়েফা। যদিও ২০২০ সালের জুলাই মাসে ক্রীড়া আদালতের রায়ে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। তেবাস বলেন, কোনো এক পর্যায়ে দেখা গেল, বাণিজ্যিক খাত থেকে সিটির আয় ৬৮ শতাংশ, আর রিয়ালের এই খাত থেকে আয় ৫৪ শতাংশ। এটা অসম্ভব। ম্যানসিটি কি সেই মানের ব্র্যান্ড যারা এতটা আয় করতে পারে? তারা নিষিদ্ধ হলো, তবে তা উল্টেও গেল। পিএসজির কর্মকাণ্ড তো আরো স্পষ্ট। পুরোপুরি অসম্ভব। চুক্তিগুলোকে মূল্যস্ফীতির চূড়ান্ত পর্যায়ে নেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বেশির ভাগ মানুষ এখন তাদের আর্থিক বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। তারা যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ক্লাব, এটা কোনো সমস্যা নয়। সমস্যা তাদের আর্থিক দিকটা।

পিএসজি জায়ান্টদের বিপক্ষে অবশ্য লা লিগার আইনি পদক্ষেপ এ প্রথম নয়। এর আগে এমবাপ্পে ও নেইমারকে প্রায় ৪০ কোটি ইউরো খরচ করে নেয়ার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে ক্লাবটির বিরুদ্ধে উয়েফার কাছে অভিযোগ দায়ের করে স্পেনের শীর্ষ লিগ কর্তৃপক্ষ। তখন নেইমারকে বিশ্বরেকর্ড ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরোয় স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার কাছ থেকে ও এমবাপ্পেকে ১৮ কোটি ইউরো মোনাকোর কাছ থেকে কিনে নেয় পিএসজি। বিবিসি ও মার্কা