গত মাসে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্টে এক ইনিংসে বাংলাদেশের ৬ ব্যাটার শূন্য রানে আউট হন। এটি যুগ্মভাবে বিশ্বরেকর্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অ্যান্টিগায় ঠিক তার পরের টেস্টেও একই লজ্জায় পড়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরের ভরাডুবিতে অধিনায়ক পাল্টেছে, মুমিনুল হকের জায়গায় এসেছেন সাকিব আল হাসান। তবে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং দৈন্য যেন কিছুতেই কাটছে না। এর সঙ্গে দলের চির বাজে ফিল্ডিং তো রয়েছেই। এই দুই বিভাগের ব্যর্থতায় বোলারদের সব প্রচেষ্টাই যেন বিফল হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, ঢাকার শেরেবাংলা কিংবা অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়াম—দেশে কিংবা বিদেশের কোনো স্টেডিয়ামেই বাংলাদেশ ফিল্ডারদের পারফরম্যান্সে উন্নতি নেই। অ্যান্টিগা টেস্টে প্রথম ইনিংস ১০৩ রানে অলআউট হওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৬৫ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। ১৬২ রানের লিড তুলে নেয় ক্যারিবিয়ানরা। তবে এর কমেই স্বাগতিকদের আটকে দেয়া যেত, যদি বাংলাদেশের ফিল্ডাররা পাঁচ পাঁচটি ক্যাচ না ছাড়তেন কিংবা রিভিউগুলো ঠিকঠাক নিতে পারতেন অধিনায়ক।

ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ক্যাচ ড্রপ সমস্যা। যদিও এটি বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। বরং এ সমস্যা ক্রমেই ব্যাধি হয়ে উঠেছে। এ বছর টেস্টে ৬৯টি ক্যাচ উঠলেও তার মধ্যে ২৪টি বাংলাদেশের ফিল্ডারদের হাত ফসকে বেরিয়ে যায়।

এ বছর সব ফরম্যাটেই ক্যাচ ড্রপ বাংলাদেশকে ভুগিয়েছে। টি২০ ক্রিকেটে এ বছর যত ক্যাচ উঠেছে তার এক-তৃতীয়াংশ ছেড়ে দিয়েছে বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। সংখ্যায় তা ৮৪টির মধ্যে ৩৯টি।

সবচেয়ে বেশি দুর্বল জায়গা স্লিপ। এ জায়গায় ফিল্ডিং করেন নাজমুল হোসেন শান্ত, ইয়াসির আলী (বর্তমানে ইনজুরিতে) ও উইকেটকিপিং না করলে লিটন দাস। শান্ত গত তিন বছরে তার জায়গায় ১১টি ক্যাচ পেয়ে ৫টিই ছেড়ে দিয়েছেন। এই ব্যাটার নিজের সর্বশেষ ১৭ ইনিংসে মাত্র একটি সেঞ্চুরি করেছেন, ফিল্ডিংও এতটা দুর্বল হওয়ায় সংগত কারণেই সমালোচনা উঠছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে এটি বড় এক সমস্যা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও টিম ম্যানেজমেন্ট এর সমাধান খুঁজে পায় না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ নিয়ে বেশকিছু বিশেষজ্ঞকে কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশ, তবে ফল আসেনি। রায়ান কুক ব্যর্থ হয়েছেন, মাঝে রাজিন সালেহকেও কাজে লাগানো হয়েছে, আর এখন কাজ করছেন শেন ম্যাকডারমট। তবে সব প্রচেষ্টা ফলহীন।

এ বছর শুরুর দিকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাদা বলের পাঁচ ম্যাচে ৯টি ক্যাচ ছাড়া বাংলাদেশের ফিল্ডারদের সমালোচনা করেন কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো। দক্ষিণ আফ্রিকান এই কোচও স্বীকার করেন, আসলে কেন এটা ঘটে তিনি নিজেও জানেন না। ডোমিঙ্গো বলছিলেন, বিষয়টি ভাবলে অকল্পনীয় লাগে। এটা কি মনঃসংযোগের অভাব, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নাকি চাপ; আমি শতভাগ নিশ্চিত নই। মাঠে প্রচুর ভুল করার খেসারত আমাদের দিতে হচ্ছে। এ কারণে আমাদের বিশ্বকাপসহ টেস্ট ক্রিকেটে মূল্য দিতে হয়। খুব বেশি ক্যাচ ছাড়ি আমরা। অনুশীলনে আপনি খুব বেশি ড্রিল করতে পারেন, তবে আপনাকে ম্যাচে ক্যাচ নিতে হবে।

সর্বশেষ অ্যান্টিগায় চলমান প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ক্রেগ ব্র্যাথওয়েট তিন তিনবার জীবন পেয়ে শেষ পর্যন্ত করেছেন ৯৪ রান। তিনি ০, ১৬ ও ৬৩ রানে জীবন পেয়েছেন। তিনি এমন এক ব্যাটার যিনি গত ১১ বছরে বাংলাদেশের ওপর কর্তৃত্ব করেছেন। তার ক্যাচ ছাড়া মানে শুধুই আক্ষেপ করা। ৩৩ রান করা বোনার তৃতীয় উইকেটে ব্র্যাথওয়েটকে নিয়ে ৬২ রান যোগ করেছেন। ১৪ রানের সময় তিনি এজ হলেও তা বাংলাদেশের কারো দৃষ্টিগোচর হয়নি বলে বেঁচে যান। আবার ২২ রানের সময় ক্যাচ দিলেও উইকেটকিপার ও ফার্স্ট স্লিপ শান্তর মাঝ বরাবর বল বেরিয়ে যায়।

৬৩ রান করা জার্মেইন ব্ল্যাকউড লেগ বিফোর হয়ে আউট হয়ে যেতে পারতেন ৩৯ রানের সময়। যদিও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রিভিউ না নেয়ায় তিনি বেঁচে যান।