ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ ফিফা বিশ্বকাপের এবারের আসরও নজর থাকবে প্রতিষ্ঠিত সুপারস্টারদের দিকে। তবে প্রতিটি বিশ্বকাপই নতুন কিছু তারকার জন্ম দেয়, যারা নিজেদের প্রতিভা দিয়ে চমকে দেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন রেকর্ড ১ হাজার ২৪৮ ফুটবলার। তাদের মধ্যে ৮৯১ জনই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলবেন।

বিবিসি স্পোর্টসের বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকাররা এমন ২০ জন ফুটবলারকে বেছে নিয়েছেন, যাদের ওপর থাকবে বিশেষ নজর—

ইয়ান দিয়োমান্দে (আইভরি কোস্ট): ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার আরবি লেইপজিগ হয়ে গত মৌসুমে ১২ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট করেছেন। তাকে ইউরোপের অন্যতম প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় ধরা হচ্ছে।

গিলবার্তো মোরা (মেক্সিকো): মাত্র ১৭ বছর বয়সেই মেক্সিকোর জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। ‘মেক্সিকান পেদ্রি’ নামে পরিচিত এ মিডফিল্ডার স্বাগতিকদের অন্যতম বড় আশার নাম।

জোহান মানজাম্বি (সুইজারল্যান্ড): ইউরোপা লিগে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। প্রতিভাবান এ তরুণ মিডফিল্ডারকে সুইস ফুটবলের ভবিষ্যৎ বলা হচ্ছে।

রিকার্ডো পেপি (যুক্তরাষ্ট্র): এই স্ট্রাইকার গত মৌসুমে ১৯ গোল করেছেন। এবারের বিশ্বকাপে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বড় ভরসা তিনি।

নিকো পাজ (আর্জেন্টিনা): কোমোর হয়ে সর্বশেষ সিজনে ১৩ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করেছেন এ আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। নতুন প্রজন্মের অন্যতম উজ্জ্বল নাম তিনি।

গেসিম ইয়াসিন (মরক্কো): অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্সের পর জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন ইয়াসিন। এ রাইট সাইড উইঙ্গারকে মরক্কোর ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

লুকাস হেরিংটন (অস্ট্রেলিয়া): ১৮ বছর বয়সী এ সেন্টার-ব্যাক অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন।

কেরিম আলাজবেগোভিচ (বসনিয়া-হার্জেগোভিনা): বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি শুটআউটে গোল করে আলোচনায় আসেন। তাকে বসনিয়ান ফুটবলের নতুন পোস্টার বয় বলা হচ্ছে।

জান উজুন (তুরস্ক): জার্মানিতে জন্ম নেয়া এ মিডফিল্ডার বুন্দেসলিগায় নিজ ক্লাবের হয়ে সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

আরমান্দো গনজালেস (মেক্সিকো): গত মৌসুমে ২৫ গোল করেছেন। তাকে মেক্সিকোর সাবেক তারকা হাভিয়ের হার্নান্দেজের উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইয়ুব বুয়াদ্দি (মরক্কো): ১৮ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডার পড়াশোনার পাশাপাশি ফুটবলেও উজ্জ্বল। বুদ্ধিমত্তার কারণে তাকে ডাকা হয় ‘আইনস্টাইন’।

হুসেম আওয়ার (আলজেরিয়া): এক সময় ফ্রান্সের হয়ে খেললেও এখন আলজেরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সৌদি আরবে খেলে গত মৌসুমে ১৫ গোল করেছেন।

আলেসান্দ্রো সিরকাতি (অস্ট্রেলিয়া): পার্মার এ ডিফেন্ডার এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন।

আলি জাসিম (ইরাক): ২২ বছর বয়সী এ উইঙ্গার এশিয়ান অনূর্ধ্ব-২৩ চ্যাম্পিয়নশিপে নজর কাড়েন। ইরাকের আক্রমণ ভাগে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।

মোহামেদ আমৌরা (আলজেরিয়া): বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১০ গোল করে আফ্রিকান অঞ্চলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। আলজেরিয়ার আক্রমণ ভাগের প্রধান অস্ত্র।

লুইস সুয়ারেজ (কলম্বিয়া): স্পোর্টিং সিপির হয়ে গত মৌসুমে ৩৮ গোল করেছেন। বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার বড় ভরসা তিনি।

ব্রায়ান গুতিয়েরেজ (মেক্সিকো): যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম হলেও এখন মেক্সিকোর প্রতিনিধিত্ব করছেন। মিডফিল্ডার হিসেবে এরই মধ্যে নজর কেড়েছেন।

বাজৌমানা তোরে (আইভরি কোস্ট): ‘দ্য হারিকেন’ নামে পরিচিত এ উইঙ্গারের গতি হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি। ইউরোপের কয়েকটি বড় ক্লাব তার দিকে নজর রাখছে।

ইব্রাহিম মাজা (আলজেরিয়া): আক্রমণ ভাগের মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত মাজাকে অনেকেই আলজেরিয়ার ভবিষ্যৎ তারকা মনে করেন। তার ডাকনাম ‘মাজাদোনা’।

লুকা ভুস্কোভিচ (ক্রোয়েশিয়া): ১৯ বছর বয়সী এ সেন্টার-ব্যাককে ইউরোপের অন্যতম সম্ভাবনাময় ডিফেন্ডার ধরা হয়।