ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে ব্রাজিলের ফ্লামেঙ্গো ও জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখ। শুক্রবার রাতে ইংলিশ ক্লাব চেলসিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ‘ডি’ গ্রুপ থেকে সবার আগে শেষ ষোলোর টিকিট পেয়েছে ফিলিপ লুইসের ফ্লামেঙ্গো। গতকাল সকালে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আর্জেন্টিনার বোকা জুনিয়র্সকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট পেয়েছে জার্মান বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ।

ফিলাডেলফিয়ার লিংকন স্টেডিয়ামে চেলসিই আগে লিড নিয়েছিল। ১৩ মিনিটে পেদ্রো নেতো এগিয়ে দিয়েছিলেন ব্লুজদের। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের কর্তৃত্ব নিয়ে নেয় ফ্লামেঙ্গো। ২১ মিনিটের মধ্যে তিন তিনটি গোল করে তারা চেলসির আশা শেষ করে দেয়। ৬২ মিনিটে ব্রুনো হেনরিক, ৬৫ মিনিটে দানিলো ও ৮৩ মিনিটে ওয়ালেস ইয়ান গোল করে ফ্লামেঙ্গোর জয় নিশ্চিত করেন।

৬৮ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন চেলসির স্ট্রাইকার নিকোলাস জ্যাকসন। ফলে তিনি এখন ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ উভয় আসরেই নিষিদ্ধ থাকছেন। তার লাল কার্ডের প্রভাব পড়ে চেলসির পারফরম্যান্সে। একজন কম নিয়ে ব্রাজিলীয়দের সঙ্গে আর পেরে ওঠেনি ইংলিশ জায়ান্টরা। ফ্লামেঙ্গো টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোয় খেলা নিশ্চিত করেছে। চেলসির সংগ্রহ তিন। গতকাল লস অ্যাঞ্জেলেস ফুটবল ক্লাবকে ১-০ গোলে হারানো এস্পের‍্যান্স ডি তিউনিস নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে। ২৪ জুন চেলসির মুখোমুখি হবে তারা। ওই ম্যাচের বিজয়ী দ্বিতীয় দল হিসেবে উঠবে শেষ ষোলোয়।

এদিকে জার্মান দল বায়ার্নকে শেষ ষোলোয় তুলেছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেন। বায়ার্নের দুটি গোলেই ছিল তার অবদান। ১৮ মিনিটে বাভারিয়ানদের এগিয়ে দেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। ৬৬ মিনিটে মিগুয়েল মেরেন্তিয়েলের গোলে বোকা জুনিয়র্স সমতা আনে। ৮৪ মিনিটে হ্যারি কেনের পাস থেকে গোল করে বায়ার্নের জয় নিশ্চিত করেন মাইকেল ওলিস।

অকল্যান্ড সিটিকে রেকর্ড ১০-০ গোলে হারানোর পর এবার বোকা জুনিয়র্সকেও হারাল বায়ার্ন। টানা দুই জয়ে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল উঠে গেছে শেষ ষোলোয়। ২৪ জুন বেনফিকার ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট পেলেই ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে বায়ার্ন। সেক্ষেত্রে ‘ডি’ গ্রুপ থেকে চেলসি শেষ ষোলোয় উঠতে পারলে তারা পড়তে পারে বায়ার্নের সামনে। শুক্রবার রাতে বেনফিকা ৬-০ গোলে হারায় অকল্যান্ড সিটিকে। দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করা নিউজিল্যান্ডের দল এরই মধ্যে বিদায় নিয়েছে। শেষ ম্যাচে তারা বোকা জুনিয়র্সের মুখোমুখি হবে।

জয় শেষে হ্যারি কেন বলেন, ‘ছেলেদের দারুণ পারফরম্যান্স। আমরা জানতাম কাজটা কঠিন হবে। গোল করতে পেরে ও আমাদের দল কোয়ালিফাই করায় আমি আনন্দিত। এটা বড় এক টুর্নামেন্ট। বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের লড়াইটা নিজেদের সঙ্গে, নিজেদের সেরাটা দেয়ার লড়াই। এখন পর্যন্ত ভালোই।’