রানী এলিজাবেথের মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ওভাল টেস্টে প্রথম
দিনের খেলা স্থগিত করা হয়। কিন্তু একদিনের ঘাটতি পূরণ নিয়ে আয়োজকদের খুব বেশি
ভাবতে হলো না। বাকি চার দিনেই ম্যাচের ফল হলো। এমনকি, তিনদিনের একটু বেশি সময়ের মধ্যেই
ম্যাচটি জিতে নিল ইংল্যান্ড। ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে
২-১ এ সিরিজ নিশ্চিত করল স্বাগতিকরা।
আজ সোমবার পঞ্চম ও শেষদিন জিততে ১০ উইকেট হাতে নিয়ে ৩৩ রান লাগতো
ইংলিশদের। এই রানগুলো সংগ্রহ করতে মাত্র ৫.৩ ওভার ও ২৮ মিনিট সময় লেগেছে বেন
স্টোকসের দলের। শুধু অ্যালেক্স লিসের উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে
স্বাগতিকরা। লিস ৩৯ রান করে কাগিসো রাবাদার শিকার হন। জ্যাক ক্রলি ৫৭ বলে ৬৯ রানের
ঝলমলে ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। তার সঙ্গে ১১ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন ওলি পোপ।
সব মিলে ওভাল টেস্টে খেলা হয়েছে ১৫১.৩ ওভারের। বোলাররা প্রথম দিনই
ইংল্যান্ডের জয়ের ভিত গড়ে দেন। ওলি রবিনসন পাঁচটি ও স্টুয়ার্ট ব্রড চারটি উইকেট
নিলে প্রোটিয়ারা অলআউট হয় ১১৮ রানে। জবাবে ইংল্যান্ড দারুণ সূচনা করে। ওলি পোপ
তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। যদিও লোয়ার অর্ডার ব্যাটিংয়ে ধস নামলে মাত্র ৪০ রান লিড
নিতে সমর্থ হয় স্বাগতিকরা।
পরের ইনিংসেও ইংলিশ বোলাররা জ্বলে ওঠে। এবার সম্মিলিত আক্রমণে জেমস
অ্যান্ডারসন,
স্টুয়ার্ট ব্রড, রবিনসন ও বেন স্টোকসরা প্রোটিয়াদের
আটকে দেন ১৬৯ রানে। মাত্র ১৩০ রানের সাদামাটা লক্ষ্যটা আরো সহজ বানিয়ে দেন ক্রলি ও
লিস। ওপেনিং জুটিতে তারা ১০৮ রান তুলে নিলে জয় নিয়ে আর ভাবতে হয়নি ইংল্যান্ডকে।
প্রথম টেস্টটা দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস ব্যবধানে জিতলেও পরে দারুণভাবে
ঘুরে দাঁড়ায় ইংল্যান্ড। ২-১ এ সিরিজ জিতে নিল বেন স্টোকসের দল।
ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন ইংলিশ পেসার ওলি রবিনসন, আর সিরিজসেরা দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো
রাবাদা। তিনি নিয়েছেন ১৪ উইকেট, ব্যাট হাতে করেছেন ৪৮ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা:
১১৮ ও ১৬৯।
ইংল্যান্ড:
১৫৮ ও ১৩০/১
(জ্যাক ক্রলি ৬৯*,
অ্যালেক্স লিস
৩৯, ওলি পোপ ১১*; কাগিসো রাবাদা ১/৫৭)। ফল: ইংল্যান্ড ৯ উইকেটে জয়ী। সিরিজ: ইংল্যান্ড ২-১ এ জয়ী। ম্যাচসেরা: ওলি রবিনসন (ইংল্যান্ড)। সিরিজসেরা: কাগিসো রাবাদা (দক্ষিণ আফ্রিকা)।










