ক্যান্সারের
সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে হার মানলেন জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক, কৃতী
অলরাউন্ডার হিথ স্ট্রিক। আজ রোববার হিথ স্ট্রিকের স্ত্রী নাদিনে স্ট্রিক এক ফেসবুক
পোস্টে স্বামীর মৃত্যুর খবর জানান। তার বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর।
পেস
বোলিং অলরাউন্ডার স্ট্রিককে বলা হতো জিম্বাবুয়ের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার।
আফ্রিকার দেশটির একমাত্র বোলার হিসেবে টেস্টে একশ উইকেট শিকার করেন তিনি। ২০০০
থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ছিলেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক। ২১টি টেস্ট ও ৬৮টি ওয়ানডে ম্যাচে
জিম্বাবুয়েকে নেতৃত্ব দেয়ার গৌরব রয়েছে তার।
২০০৫
সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন তিনি। অবসরের পর কোচিংয়ে যুক্ত হন। একটি
সময় বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করেন তিনি। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৬
সাল পর্যন্ত দুই বছরের চুক্তিতে তিনি বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ
করেন। বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমির কোচ হবেন বলে বিসিবির সঙ্গে আর
চুক্তিটা নবায়ন করেননি।
১২
বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৬৫টি টেস্ট ও ১৮৯টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন হিথ স্ট্রিক।
১৯৯৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক। পরের মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে
টেস্ট অভিষেকও হয়ে যায় তার। টেস্টে ২১৬ উইকেট ও ১৯৯০ রান করেছেন তিনি। টেস্টে
সাতবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। আর সাদা বলের ক্রিকেটে ২৯৪৩ রান ও ২৩৯ উইকেট
শিকার করেছেন এই অলরাউন্ডার।
কোলন
ও যকৃত ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন হিথ স্ট্রিক। দক্ষিণ আফ্রিকার এক হাসপাতালে ভর্তি
করানোর পর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, স্ট্রিকের বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম। দিন পনের
আগে একবার হিথ স্ট্রিকের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। পরে তিনি নিজেই জানান, তিনি বেঁচে
আছেন। কিন্তু এবার সত্যি সত্যিই পাড়ি জমালেন অনন্তলোকের পথে।
হিথ স্ট্রিকের আরেকটি লড়াই
ছিল। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল তাকে আট বছরের জন্য
নিষিদ্ধ করে। যদিও স্ট্রিক ক্ষমাপ্রার্থনা করে জানিয়েছিলেন, তিনি কখনই ম্যাচ
ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।










