গত এক দশকে খেলোয়াড় বিক্রির চেয়ে কিনতে ১১৯ কোটি পাউন্ড বেশি খরচ করেছে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআইইএস ফুটবল অবজারভেটরি জানায়, ২০১৪ সালের পর থেকে ম্যানইউ খেলোয়াড় কেনায় ১৬৭ কোটি পাউন্ড খরচ করলেও খেলোয়াড় বিক্রি করে পেয়েছে ৪৮ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড। ইউরোপের লিগগুলোর মধ্যে এ সময় সবচেয়ে বেশি লোকসান (আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি) করেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ (ইপিএল), আর সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে পর্তুগিজ প্রিমেরা লিগ।
নেতিবাচক খরচের দিক থেকে দুইয়ে অবস্থান করছে আরেক ইংলিশ ক্লাব চেলসি। তারা আয়ের চেয়ে ৮৮ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড বেশি খরচ করেছে। এরপর রয়েছে ফ্রান্সের প্যারিস সেন্ট জার্মেই (৮৬ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড)। শীর্ষ পাঁচ পূর্ণ করেছে আর্সেনাল (৭৪ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড) ও ম্যানচেস্টার সিটি (৭৩ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড)। নেতিবাচক ব্যয়কারী ২০ ক্লাবের মধ্যে ১৩টিই ইংল্যান্ডের।
ইংল্যান্ডের নিউক্যাসল ইউনাইটেড ৫৭ কোটি ৫২ লাখ পাউন্ড, স্পেনের বার্সেলোনা ৫৬ কোটি ৮৪ লাখ পাউন্ড, ইংল্যান্ডের টটেনহাম হটস্পার্স ৫২ কোটি ২১ লাখ পাউন্ড, ইতালির এসি মিলান ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ পাউন্ড, ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট হ্যাম ৪৫ কোটি ১৯ লাখ পাউন্ড, অ্যাস্টন ভিলা ৪১ কোটি ৪৩ লাখ পাউন্ড, লিভারপুল ৩৯ কোটি ৫৩ লাখ পাউন্ড, সৌদি আরবের আল হিলাল ৩৯ কোটি ১৩ লাখ পাউন্ড, ইতালির জুভেন্টাস ৩৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড, ইংল্যান্ডের এভারটন ৩৩ কোটি ৬১ লাখ পাউন্ড, ক্রিস্টাল প্যালেস ৩২ কোটি ২২ লাখ পাউন্ড, বোর্নমাউথ ২৯ কোটি ৩৯ লাখ পাউন্ড, জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখ ২৯ কোটি ৪১ লাখ পাউন্ড, স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদ ২৭ কোটি ৭৬ লাখ পাউন্ড ও ইংল্যান্ডের নটিংহ্যাম ফরেস্ট ২৬ কোটি ৫৮ লাখ পাউন্ড নেতিবাচক ব্যয় করেছে বলে জানিয়েছে সিআইইএস।
সমীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছে নির্ধারিত ফি, ধার চুক্তি বাবদ প্রদেয় ফি এবং বিভিন্ন শর্তের (এডস-অন) জন্য প্রদেয় বোনাস ও ফি।
ম্যানইউর এত বেশি নেতিবাচক ব্যয়ের পেছনে বড় কারণ পল পগবা (৮৯.৫ মিলিয়ন পাউন্ড, ২০১৬), রোমেলু লুকাকু (৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড, ২০১৭) ও হ্যারি মাগুইয়ার (৮০ মিলিয়ন পাউন্ড, ২০১৯)। সবচেয়ে ব্যয়বহুল ডিফেন্ডার হিসেবে মাগুইয়ারকে কিনে রেকর্ড গড়ে ম্যানইউ। ওই তিনজনের মধ্যে এখন শুধু মাগুইয়ার একাই টিকে আছেন। যদিও তার অবস্থান খুব নড়বড়ে।
লুকাকুকে ২০১৯ সালে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড ফিতে ইতালির ইন্টার মিলানের কাছে বিক্রি করে দেয় ম্যানইউ। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে লুকাকুই ম্যানইউর বিক্রি করা সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়। আর গত গ্রীষ্মে ফ্রি দলবদলে জুভেন্টাসে নাম লেখান পল পগবা।
গত এক দশকে খেলোয়াড়দের পেছনে সর্বোচ্চ ২২৫ কোটি পাউন্ড ব্যয় করেছে চেলসি। তখন ক্লাবটির মালিকানায় ছিলেন রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচ। এ সময় তারা যথেষ্ট আয়ও করেছে। একাডেমির খেলোয়াড় বিক্রি করে ও ধারে পাঠিয়ে তারা ঘরে তুলেছে ১৩৭ কোটি পাউন্ড। ব্লুজরা ২০২৩ সালে বিশ্বে সর্বোচ্চ ৪৭ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড নেতিবাচক ব্যয় করে। নতুন মালিক আমেরিকান ধনকুবের টড বোহলির অধীনে ক্লাবটি দেদার খরচ করেও মাঠের সাফল্য পায়নি। সর্বশেষ মৌসুমে তারা টেবিলের ১২তম স্থানে ছিল। ফলে চলতি মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কিংবা ইউরোপা লিগের কোনোটিতেই খেলতে পারবে না।
খেলোয়াড় কিনতে গিয়ে ব্রিটিশ রেকর্ডও গড়েছে চেলসি। এ বছর জানুয়ারিতে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী দলের মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে ১০ কোটি ৭ লাখ পাউন্ডে কিনে এ রেকর্ড গড়ে ব্লুজরা। গত মাসে ব্রাইটন থেকে একুয়েডরিয়ান মিডফিল্ডার ময়েজেস কাইসেদোকে ১১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে কিনে আগের রেকর্ডটি ভেঙেছে চেলসি।
সব মিলিয়ে শুধু ২০২৩ সালেই ক্লাবগুলো খরচ করেছে ১ হাজার ৬ কোটি পাউন্ড, যা ২০১৯ সালের আগের রেকর্ড থেকে ২৫ শতাংশ বেশি। ৮৫০ কোটি পাউন্ড খরচ হয়েছিল ২০১৯ সালে। ২০১৪ সালের পর লিগগুলোর মধ্যে নেতিবাচক খরচে সবার চেয়ে এগিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ (৯৫০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি)। ১১৪ কোটি পাউন্ড খরচ করে তালিকায় তাদের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে চাইনিজ সুপার লিগ। চীনের ক্লাবগুলো ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যয় করে।
গত ১২ মাসে ব্যয়ের দিক থেকে ওপরের দিকে চলে এসেছে সৌদি প্রো লিগ। তারা বিশ্বের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও জনপ্রিয় লিগ হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছে। এ বছর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেইমার, করিম বেনজেমা, সাদিও মানের মতো বিশ্বমানের তারকাকে সই করিয়েছে সৌদি আরবের বিভিন্ন ক্লাব। ১১৩ কোটি পাউন্ড খরচ করে তালিকার তিনে অবস্থান করছে সৌদি আরবের লিগ। এর মধ্যে শুধু গত বছরই লিগটি নেতিবাচক ব্যয় করে ৭৭ কোটি পাউন্ড।
এ তো গেল নেতিবাচক ব্যয়ের তালিকায় শীর্ষ লিগ ও দলের চিত্র। ইতিবাচক ব্যয়ে এগিয়ে কারা? পর্তুগিজ প্রিমেরা লিগ খেলোয়াড়দের দলবদল থেকে ১৯০ কোটি পাউন্ড মুনাফা করেছে। এক বেনফিকাই লাভ করে ৬৫ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড। তারা চেলসির কাছে এনজোকে বিক্রি করা ছাড়াও হোয়াও ফেলিক্সকে ১১৩ মিলিয়ন পাউন্ডে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে, ডারউইন নুনেজকে ৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে লিভারপুলের কাছে বিক্রি করেছে।
দ্য সিআইইএস ফুটবল অবজারভেটরি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং মূলত ফুটবলের পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করে।










