কাজলরেখা
ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে জনপ্রিয় নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘কাজলরেখা’। মৈমনসিংহ গীতিকার কাজলরেখা অবলম্বনে নির্মিত এ সিনেমার নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মন্দিরা চক্রবর্তী। এছাড়া সুচ কুমারের বেশে দেখা যাবে শরিফুল রাজকে ও কঙ্কণ দাসীর খলচরিত্রে অভিনয় করেছেন রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা। প্রথমবারের মতো কোনো ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের সিনেমা।
রাজকুমার
ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান। প্রতি ঈদেই মুক্তি পায় তার সিনেমা। সে ধারাবাহিকতা নিয়েই এবারের ঈদে শাকিব খান অভিনীত ও হিমেল আশরাফ পরিচালিত সিনেমা ‘রাজকুমার’ মুক্তি পাচ্ছে। সিনেমাটিতে শাকিবের নায়িকা যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টনি কফি। হিমেল আশরাফ জানান, শাকিব খান তার সেরাটা দিয়েছেন সিনেমায়। ঢাকা, পাবনা, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, বান্দরবান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে শুটিং হয়েছে রাজকুমার সিনেমাটি।
মোনা: জ্বীন-২
গত বছর ঈদে মুক্তি পেয়েছিল ‘জ্বীন’। এক বছরের অপেক্ষা শেষে এবারের ঈদে আসছে এর সিকুয়াল ‘মোনা: জ্বীন-২’। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন নির্মাতা কামরুজ্জামান রোমান। এরই মধ্যে এটি সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুপ্রভাত। আরো আছেন তারিক আনাম খান, আহমেদ রুবেল, দীপা খন্দকার, আরিয়ানা, সাজ্জাদ হোসেন, সামিনা বাসার, শেহজাদ ওমর, রেবেকা, মাহমুদুল হাসান মিঠু, শামীম প্রমুখ।
ওমর
দীর্ঘদিন তিনি সুখবর দেননি ভক্তদের। তবে এবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন সিনেমা নিয়ে আসছেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। তার পরিচালিত সিনেমা ‘ওমর’ মুক্তি পাবে ঈদে। নির্মাতা নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ বলেন, ‘এ রোজার ঈদেই মুক্তির জন্য প্রস্তুত ওমর। সিনেমাটি নিয়ে আমি আশাবাদী।’ সিনেমায় ওমর চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন শরিফুল রাজ। এতে আরো অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, ফজলুর রহমান বাবু, নাসির উদ্দিন খান, রোজী সিদ্দিকী, আয়মান সিমলা প্রমুখ।
দেয়ালের দেশ
রোমান্টিক সিনেমার মধ্যদিয়ে প্রথমবারের মতো পরিচালনায় মিশুক মনি। ছবির কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্য সবই তার লেখা। চলচ্চিত্রের গল্প এগিয়েছে ভিন্ন দুটি সময়কে কেন্দ্র করে। তাতে প্রথমবারের মতো জুটিবদ্ধ হয়েছেন শরিফুল রাজ ও শবনম বুবলী। ব্যবসায়িক ছবির নায়িকা হিসেবে পরিচিত বুবলীকে দেখা যাবে অকৃত্রিম বাস্তবধর্মী চরিত্রে। অন্য সহশিল্পীরা হলেন জিনাত শানু স্বাগতা, আজিজুল হাকিম, সাবেরী আলম, শাহাদাত হোসেন, এ কে আজাদ সেতু, সমাপ্তি মাশুক ও দীপক সুমন। মেট্রো সিনেমার ব্যানারে যৌথভাবে ছবির প্রযোজনা করেছেন মাহফুজুর রহমান ও মিশুক মনি।
মায়া: দ্য লাভ
স্বরচিত কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্য নিয়ে জসিম উদ্দিন জাকির পরিচালনা করেছেন ‘মায়া: দ্য লাভ’। রোমান্টিক ঘরানার এ সিনেমায় শবনম বুবলীর বিপরীতে রয়েছেন তিন অভিনেতা সাইমন সাদিক, জিয়াউল রোশান ও আনিসুর রহমান মিলন। তিন নায়ক ও এক নায়িকার চতুর্মুখী প্রেমকাহিনী নিয়ে এগিয়ে গেছে এ চলচ্চিত্রের গল্প। বুবলী এই প্রথম কোনো সিনেমায় তিন নায়কের বিপরীতে অভিনয় করলেন। সিনেমার প্রযোজক হিসেবে আছেন আলিনুর আশিক ভুঁইয়া।
আহারে জীবন
প্রায় ২৫ বছর পর একসঙ্গে হলেন গুণী নির্মাতা ছটকু আহমেদ ও প্রখ্যাত চিত্রনায়ক ফেরদৌস। তাদের এক পাটাতনে নিয়ে এল ‘আহারে জীবন’। সরকারি অনুদানে নির্মিত চলচ্চিত্রটি পরিচালনার পাশাপাশি রচনাও করেছেন ছটকু আহমেদ। সামাজিক ছবিটির পটভূমিতে রয়েছে করোনাকালীন দুর্দশা ও নানা ধরনের সামাজিক টানাপড়েন। ফেরদৌসের সঙ্গে সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন নায়িকা পূর্ণিমা। অন্যান্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সুচরিতা, জয় চৌধুরী, মিশা সওদাগর, কাজী হায়াত, তুষার খান, মারুফ আকিব, মৌমিতা মৌ, সাহানুর রেবেকা ও অহনা আঁখি। এ সিনেমা ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পায়। আহারে জীবন গত বছরই মুক্তি দেয়ার কথা ছিল, তবে নানা কারণে সিনেমাটি সে বছর মুক্তি পায়নি।
মেঘনা কন্যা
ফুয়াদ চৌধুরী পরিচালিত এ অপরাধসংক্রান্ত নাট্য-চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে নারী পাচারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। একদিকে দৃষ্টিপাত করা হয়েছে নিষিদ্ধপল্লীর অন্ধকার জগতের দিকে, অন্যদিকে এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শহুরে নারীদের অসহায়ত্বকে। সিনেমার সংলাপ ও চিত্রনাট্য লিখেছেন আহমেদ খান হীরক ও ফাহমিদুর রহমান। ‘মেঘনা কন্যা’র প্রধান চরিত্রগুলোয় অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, কাজী নওশাবা আহমেদ, শতাব্দী ওয়াদুদ, সেমন্তি দাস সৌমি ও সাজ্জাদ হোসেইন। মুভিটির সংগীত পরিচালনা করেছেন চিরকুট ব্যান্ডের প্রধান ভোকালিস্ট শারমিন সুলতানা সুমি।
লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী
ওটিটি প্লাটফর্ম চরকির ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রজেক্টের ১২টি ওয়েব ফিল্মের একটি ‘মনোগামী’। পরিচালনায় আছেন স্বয়ং প্রজেক্ট তত্ত্বাবধায়ক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। প্রজেক্টের অধীনে এরই মধ্যে তার পরিচালিত ও অভিনীত ‘অটোবায়োগ্রাফি’ ফিল্মটি বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। মনোগামীর মাধ্যমে তিনি তুলে ধরতে যাচ্ছেন নারী-পুরুষের সম্পর্কের তিক্ত সত্যকে। এর আগে একই প্রচেষ্টা ছিল ২০০৪ সালে নির্মিত ‘ব্যাচেলর’ সিনেমায়। তবে এবার আলোকপাত করা হয়েছে বিবাহিত জীবনের নানা দিকে।
অপরাজেয়
সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকী পরিচালিত সর্বশেষ সিনেমা ‘অপরাজেয়’। ফরিদুর রেজা সাগরের ‘একা’ গল্প অবলম্বনে সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকীর এ ছবিতে আফজাল হোসেনের সঙ্গে অভিনয় করেছেন দীপা খন্দকার। এছাড়া অভিনয় করেছেন তাহমিনা অথৈ, ঝিলিক জান্নাত, হাসনাত রিপন প্রমুখ। ঈদের সপ্তম দিন চ্যানেল আইয়ে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে এটি দেখতে পাবেন দর্শক। এ সিনেমা নিয়ে দীপা খন্দকার বলেন, ‘জাকী স্যার অপরাজেয় সিনেমাটি নির্মাণ করে গেছেন। কিন্তু দর্শকের রেসপন্সটা দেখে যেতে পারলেন না। এ সিনেমায় আফজাল ভাইয়ের সঙ্গে অভিনয় দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল।’
কয়েক বছর ধরেই সিনেমা নিয়ে দর্শকের বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ফলে লাইন দিয়ে টিকিট কিনতেও দেখা গেছে দর্শককে। এরই মধ্যে ঈদ মূলত সিনেমার জন্য বিশেষ সময় বলেই মনে করা হয়। সে কারণেই ঈদে সিনেমা মুক্তি দেয়ার বিষয়ে নির্মাতাদের এত আগ্রহ। উল্লিখিত সিনেমাগুলো ছাড়াও মুক্তি পাচ্ছে আরো কিছু সিনেমা। এর মধ্যে আছে ‘ডেডবডি’ ও ‘সোনার চর’।










