সময় বদলাচ্ছে। কাজের ধারাও বদলে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বদলে যাচ্ছে কাজের মানুষ। কিন্তু এখনো ক্ষেত্রবিশেষে প্রচলিত ধারার বাইরে যাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে বিনোদন অঙ্গনে নারী নির্মাতাদের উপস্থিতি অন্যতম। বিশেষত হলিউড যেখানে আধুনিকতম ইন্ডাস্ট্রি, সেখানেও কিছু নির্দিষ্ট ধারার বাইরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যেমন গত বছরও দেখা গেছে হলিউডে বাড়েনি নারী নির্মাতার সংখ্যা। অথচ নারী নির্মাতা ও তাদের নির্মিত সিনেমা হলিউডকে দিয়েছে জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল সিনেমা।

গত বছর হলিউডে সবচেয়ে ব্যবসাসফল সিনেমা ছিল ‘‌বারবি’। গ্রেটা গারউইগ পরিচালনা করেছেন সিনেমাটি। এর সহপ্রযোজক ছিলেন সিনেমাটির অভিনেত্রী মার্গো রবি। এ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়, নির্মাণ ও প্রযোজনায় নারীদের অংশগ্রহণ যে ফলপ্রসূ হতে পারে সে ইঙ্গিত কেবল নয়, প্রমাণও আছে। কিন্তু এর বাইরে খুঁজতে গেলে নির্মাতাদের মধ্যে নারীদের খুঁজে পাওয়া মুশকিল। স্টুডিওগুলো নারী নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করতে খুব একটা আগ্রহী হয় না।

হলিউডে সিনেমা নির্মাণে নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে একটি গবেষণা চালিয়েছে সান দিয়েগো ইউনিভার্সিটি। তারা দেখেছে হলিউডের গত বছরের সর্বোচ্চ আয় করা ২৫০ সিনেমার মধ্যে ১৬ শতাংশের নির্মাতা নারী। ২০২২ সালে এ পরিমাণ ছিল ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ ইন্ডাস্ট্রিতে নারী নির্মাতা কমেছে। কিন্তু ব্যবসাসফল সিনেমা এসেছে তাদের হাত ধরে। ২০২২ সালে সেরা ব্যবসা দেয়া ১০০ সিনেমার মধ্যে ১১টির নির্মাতা ছিলেন নারী। কিন্তু ২০২৩ সালের সেরা ১০০ সিনেমার ১৪টি এসেছে নারী নির্মাতাদের কাছ থেকে।

গত বছর সেরা সিনেমাগুলো এসেছিল গ্রেটা গারউইগ, এমারেল্ড ফেনেল (স্যালবার্ন), সেলিন সং (পাস্ট লাইভস), সোফিয়া কপোলার (প্রিসিলা) কাছ থেকে। তাদের সিনেমাগুলো হয় আয় করেছে বেশি, নয় এ নিয়ে আলোচনা ছিল। এছাড়া বিয়নসে ও টেইলর সুইফটের ট্যুর ফিল্মের বাজারও বেশ ভালো ছিল।

কিন্তু এর পরও হলিউডে সিনেমা নির্মাণের দায়িত্ব নারীদের দিতে চায় না স্টুডিওগুলো। পরিচালকের কথা তো বলাই হলো। এর বাইরে ভালো আয় করা ২৫০ সিনেমার মধ্যে পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক, এডিটর, সিনেমাটোগ্রাফার ও এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার হিসাব করলে নারীদের সংখ্যা ২২ শতাংশ, ২০২২ সালে যা ছিল ২৪ শতাংশ। সেরা আয় করা সিনেমাগুলোর মধ্যে ৭৫ শতাংশ সিনেমায় পর্দার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কাজে ১০-এর অধিক পুরুষ কর্মী ছিল। ১০-এর বেশি নারী কর্মী ছিল মাত্র ৪ শতাংশ সিনেমায়।

এ গবেষণায় দেখা যায়, স্টুডিও এখনো মনে করে নারীরা পুরুষদের তুলনায় দ্রুত কাজ করতে পারে না। নারী কর্মী না নেয়ার পেছনে স্টুডিওর নানা যুক্তি থাকে, যার মধ্যে নারীদের কর্মদক্ষতা অন্যতম। তবে দেখা গেছে, কোনো সিনেমায় নারী পরিচালক থাকলে সেখানে অন্যান্য ক্রু সদস্য হিসেবে নারীদের নেয়া হয়। নারীরা পরিচালক হলে তাদের টিমে নারী চিত্রনাট্যকার ৬১ শতাংশ, সম্পাদক ৩৫ শতাংশ, সিনেমাটোগ্রাফার ১০ শতাংশ ও সংগীতকার ২৬ শতাংশ থাকে বলে গবেষণায় জানা গেছে।

অর্থাৎ স্টুডিও আগ্রহী না হলেও নারীরা নারীদের সুযোগ করে দিচ্ছেন। কিন্তু এ চিত্র বদলানো প্রয়োজন। কেননা গ্রেটা, সোফিয়া, জেন ক্যাম্পিয়নদের মতো নির্মাতা হলিউডে তৈরি হওয়া প্রয়োজন।

সূত্র: ভ্যারাইটি