আধুনিক বাংলা নাটকের পথিকৃত, ভাষা আন্দোলনের প্রথম নাটকের রচয়িতা শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরী। তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী, বাগ্মী ও বুদ্ধিজীবী। গতকাল ছিল মুনীর চৌধুরীর ৯৮তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে তার জীবন, কর্ম ও দর্শন নিয়ে আলোচনা ও নাট্য প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে নাট্য সংগঠন ‘থিয়েটার অঙ্গন’। আজ সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চায়িত হবে তাদের দশম প্রযোজনা ‘মুনীর চৌধুরী’। নাটকটি রচনার পাশাপাশি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রবীর দত্ত।
থিয়েটার অঙ্গনের প্রচার সম্পাদক মঞ্জুর রনি জানান, আজ সন্ধ্যা ৬টায় এ আয়োজনের প্রথম পর্বে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আক্তারী মমতাজের সভাপতিত্বে মুনীর চৌধুরীকে নিয়ে আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ। এছাড়া উপস্থিত থাকবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা, নাট্যজন মঞ্চসারথী আতাউর রহমান ও শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর সন্তান আসিফ মুনীর। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন থিয়েটার অঙ্গনের সভাপতি নাট্যজন মাহবুব আমিন মিঠু। আলোচনার পর সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চায়ন হবে নাটক ‘মুনীর চৌধুরী’।
নাটকটিতে মুনীর চৌধুরীর জীবনদর্শনের পটভূমিই দৃশ্যকাব্যে রূপায়ণ হয়েছে। এতে উঠে এসেছে মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটক রচনার ট্র্যাজেডি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই তিনি ঝুঁকে পড়েন নাটকের শিল্প কৌশলের দিকে। ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’, ‘চিঠি’ প্রভৃতি নাটক বিশেষ সাফল্য লাভ করলেও জনমানুষের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রশংসা পেয়েছে কবর নাটকটি। গভীর জীবনবোধের আলোকে সজ্জিত এ নাটক ছিল পূর্ব বাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক। বাংলা শিল্প-সাহিত্যে তার ব্যাপক অবদান রয়েছে। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। ১৯৬৬ সালে রেডিও ও টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান প্রচারে পাকিস্তান সরকারের নিষেধাজ্ঞা ছিল। ওই সময় প্রতিবাদ করেন মুনীর চৌধুরী। এর দুই বছর পর পাকিস্তান সরকার বাংলা বর্ণমালাকে রোমান বর্ণমালা দিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নিলে তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম একজন শিকার। ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন মুনীর চৌধুরী। তার পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানাধীন গোপাইরবাগ গ্রামে।










