ইরানের অন্যতম চলচ্চিত্র পরিচালক মোহাম্মাদ রসুলফ। দেশটির আদালত সম্প্রতি তাকে আট বছরের কারাদণ্ড, বেত্রাঘাত, জরিমানা ও সম্পদ বাজেয়াপ্তের সাজা দিয়েছেন। রসুলফের আইনজীবী বাবাক পাকনিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি এক্সে লিখেছেন, এ রায় আপিল আদালতে বহাল রাখা হয়েছে এবং এখন বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। অর্থাৎ রসুলফকে এখন এসব শাস্তি ভোগ করতে হবে।

ইরানে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের শাস্তি দেয়ার এমন ঘটনা নিয়মিতভাবেই আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হয়। সে ধারাবাহিকতা ২০২৪ সালেও অব্যাহত থাকছে। আইনজীবী বাবাক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, রসুলফকে শাস্তি দেয়ার কারণ হচ্ছে এমন ধরনের সিনেমা ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ, যেগুলো ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ অপরাধের শামিল’।

নির্মাতা রসুলফের বয়স এখন ৫২ বছর। তার সর্বশেষ সিনেমা ‘দ্য সিড অব দ্য স্যাকরেড ফিগ’ সামনের সপ্তাহে কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হবে। গত মাসে এ ঘোষণার পর থেকে ইরানি সরকার পরিচালক রসুলফ ও উৎসব কর্তৃপক্ষকে সিনেমাটি সরিয়ে নিতে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করেছে। আইনজীবী বাবাক পাকনিয়া জানিয়েছেন, সিনেমাটির প্রযোজকদের হেনস্তা করেছে ইরানি পুলিশ। সিনেমার অভিনয়শিল্পীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানকে এক ই-মেইলে বাবাক পাকনিয়া লিখেছেন, ‘তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স ছাড়া সিনেমা (দ্য সিড অব দ্য স্যাকরেড ফিগ) নির্মাণের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। আরো অভিযোগ করা হয়েছে সিনেমায় অভিনেত্রীরা যথাযথভাবে হিজাব না পরে অভিনয় করেছেন। সিনেমার সঙ্গে জড়িত সব গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।’

রসুলফ যে এবারই প্রথম ইরানি আদালতে সাজা পেলেন এমন নয়। ২০১০ সালে তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। পরে অবশ্য তা কমিয়ে এক বছর করা হয়। ২০১৭ সালে তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। এছাড়া রসুলফ আরো কয়েকবার কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন সাজা ভোগ করেছেন। গত কয়েক বছরে ইরানি পরিচালক জাফর পানাহিও কারাদণ্ড ভোগ করেছেন। এবার এসেছে রসুলফের পালা।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান