জুনে দুনিয়ায় হইচই ফেলে দিয়েছিলেন পপস্টার ব্রিটনি স্পিয়ারস। ৩৯ বছর বয়সী এ তারকা অভিভাবকত্বের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি চেয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস আদালতে আবেগঘন এক বিবৃতি দেন। তার ওপর চাপিয়ে দেয়া কনজারভেটরশিপকে তিনি নিপীড়নমূলক বলে আখ্যা দেন। উল্লেখ্য, আদালতের নির্দেশে এক যুগ ধরে ব্রিটনির জীবনযাপন ও আর্থিক বিষয়াদির দায়িত্বে আছেন তার বাবা।
সম্প্রতি ব্রিটনির বাবা জিমি স্পিয়ারস বরং আবারো মেয়ের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ব্রিটনির মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা নতুন করে মূল্যায়ন করে দেখা হতে পারে। জিমি আদালতে জানিয়েছেন, ব্রিটনির ব্যক্তিগত ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিষয়ের তত্ত্বাবধায়ক জোডি মন্টগোমারি গত মাসে তাকে ডেকেছিলেন। জোডি ব্রিটনিকে নিয়ে তার উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, এককালের হার্টথ্রব পপস্টার তার ওষুধপত্র ঠিকঠাক খাচ্ছেন না। জিমি আদালতকে জানিয়েছেন যে জোডি মন্টগোমারির মনে হয়েছে ব্রিটনি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছেন এবং তার মানসিক স্বাস্থ্যের পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার আইনে কোনো ব্যক্তির মানসিক অবস্থা তার নিজের কিংবা অন্যদের জন্য বিপদের কারণ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে এ ধরনের পর্যালোচনার অনুমোদন দেয়া হয়। অবশ্য জিমির এ বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছেন খোদ জোডি মন্টগোমারি। তিনি বলেছেন, জিমি স্পিয়ারস তার কথার ভুল অর্থ করেছেন। জোডি বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য পর্যালোচনার জন্য বাধ্য করা হলে সেটা বরং তার জন্য খারাপ হবে।
২০০৮ সাল থেকে ব্রিটনি স্পিয়ারস আদালতের নির্দেশে কনজারভেটরশিপের অধীন আছেন। তার মানসিক স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ার পর এ আদেশ দেয়া হয়েছিল। তবে ব্রিটনির মানসিক সমস্যা ঠিক কেমন, সে বিষয়ে কখনো কিছু প্রকাশ করা হয়নি।
গত মাসে ব্রিটনির আইনজীবী তার বাবা জিমিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছেন মেয়ের জীবন থেকে সরে যেতে। আইনজীবী জানিয়েছেন, বাবার এ অভিভাবকত্ব বরং মেয়ের জন্য ক্ষতিকর হচ্ছে। বাবার কারণেই বরং ব্রিটনির মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়েছে।
জিমি আদালতে পাল্টা জানিয়েছেন যে কনজারভেটর হিসেবে তাকে সরিয়ে দেয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ এখনো নেই। তিনি বরং তার মেয়েকে বিভিন্ন আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে কাজ করছেন। জিমিকে ব্রিটনির কনজারভেটর রাখা হবে কিনা, তা নিয়ে সেপ্টেম্বরে শুনানি হবে। অবশ্য দুই পক্ষই তারিখটি আরো এগিয়ে আনতে চাইছে।
সূত্র: ডিএনএ










