২০২১ সালে হলিউড ছবি ‘রাস্ট’-এর শুটিংয়ের প্রপস পিস্তল থেকে গুলি করেন অভিনেতা অ্যালেক বল্ডউইন। সাধারণত নকল গুলি থাকলেও সেদিন ছিল আসল। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ছবির চিত্রগ্রাহক হ্যালিনা হাচিন্স। আহত হন ছবির পরিচালক জোয়েল সুজা।

অবশ্য বল্ডউইনের দাবি, পিস্তলটি যে আসল তা তিনি ঘুণাক্ষরেও জানতেন না।

ঘটনার দেড় বছর পর সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিনেতা অ্যালেক বল্ডউইনকে কমপক্ষে দুটি ধারায় অভিযুক্ত করা হতে পারে।

এ ঘটনার দায়ে অভিযুক্ত হতে পারেন শুটিং সরঞ্জাম ও অস্ত্র দেখভালের দায়িত্বে থাকা হান্না গুতেরেজ রিডও। তবে পরিচালক জোয়েলের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে না। তিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।

সিএনএন বলছে, ওই ঘটনায় নিহত হ্যালিনা হাচিন্সের পরিবার বল্ডউইন ও গুতেরেজের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অবশ্য শুরু থেকেই এ ঘটনাকে ‘অনিচ্ছাকৃত’ বলে দাবি করে আসছেন বল্ডউইন। তার ভাষ্য, পিস্তলে গুলি ভরা ছিল তা  জানতেন না। ফলে এটি পুরোপুরি একটি দুর্ঘটনা। তাছাড়া নিহত হ্যাচিন্স তার বন্ধু ছিলেন।

বল্ডউইনের আইনজীবীরাও বলছেন, এ ঘটনায় হত্যার অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন। কারণ প্রপসের পিস্তলে গুলি থাকার কথা নয়, এবং থাকলেও সে কথা অভিনেতার জানার কথা নয়।

এদিকে অস্ত্রের দায়িত্বে থাকা হান্না গুতেরেজের আইনজীবী বলছেন, তার মক্কেল যেহেতু কোনো দোষ করেননি, ফলে আদালত তাকে শাস্তির আওতায় আনবেন না।

ঘটনার পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যালিনা হাচিন্স বুকে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। প্রতিবেদনে এ মৃত্যুকে ‘দুর্ঘটনাজনিত’ বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। তবে মেক্সিকোর আইন অনুযায়ী অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

মামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে হ্যাচিন্সের পরিবার বলেছে, আশার কথা হলো অভিনেতা বলে বল্ডউইন ছাড় পাবেন না। মেক্সিকোতে আইন সবার জন্যই সমান।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুধু এটুকু বলেছে, ট্রিগার না টিপলে গুলি বের হতে পারে না। ট্রিগার অবশ্যই টানা হয়েছে। তাছাড়া পিস্তলটিও পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, ট্রিগার না টানলেও গুলি বের হওয়ার মতো কোনো জটিলতা তাতে ছিল না।

বিভিন্ন সময়ে প্রপসে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও প্রায়ই এসব অস্ত্র দিয়ে নানা ধরনের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। কিংবদন্তি অভিনেতা ব্রুস লির ছেলে ব্রান্ডন লিও এমনই একটি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন।