জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে সাত ব্যান্ডের কনসার্ট। ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’ শীর্ষক এ আয়োজন ঘিরে সকাল থেকেই সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে ছিল আগ্রহ। প্রিয় শিল্পী ও ব্যান্ডের গান সরাসরি শোনার অপেক্ষায় দুপুর থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন দর্শক-শ্রোতারা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে উপস্থিতি। বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে, কেউবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কনসার্টে আসেন।
বিকাল ৪টায় শুরু হয় মূল আয়োজন। এর আধা ঘণ্টা আগে দর্শক-শ্রোতাদের জন্য খুলে দেয়া হয় প্রবেশপথ। তবে তার আগেই অনুষ্ঠানস্থলে ভিড় করতে শুরু করেন অনেকে। একে একে মঞ্চে ওঠে ব্যান্ডগুলো। নিজেদের জনপ্রিয় গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখে তারা। পরিচিত গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলানোর পাশাপাশি নেচেগেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উপস্থিত সংগীতপ্রেমীরা। মঞ্চের সামনের অংশ ছাড়াও কনসার্ট ভেন্যুর আশপাশে ছিল মানুষের ভিড়।
বিকাল সাড়ে ৫টায় মঞ্চে ওঠে আর্টসেল। একের পর এক জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখে ব্যান্ডটি। তাদের পরিবেশনার তালিকায় ছিল পথচলা, চলচল, মা গো ভাবনা কেন এবং আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে, তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে। উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা এ সময় গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। প্রিয় ব্যান্ডের সদস্যদের মঞ্চে পেয়ে মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে অভিবাদন জানান দর্শক-শ্রোতারা।
আর্টসেলের পরিবেশনার পর একে একে মঞ্চে ওঠে অন্য ব্যান্ডগুলোও। নগরবাউল জেমস, মাইলস, ওয়ারফেজ, ফিডব্যাক, শিরোনামহীন ও মেকানিক্স নিজেদের জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে। প্রিয় ব্যান্ডের গান শুনতে দর্শক-শ্রোতাদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
কনসার্ট দেখতে আসা দর্শকদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ দেখা গেছে জেমস, মাইলস ও ওয়ারফেজের গান নিয়ে। মাহিন নামের এক দর্শক বলেন, জেমস তাদের প্রিয় শিল্পী। অনেক দিন ধরেই তার গান সরাসরি শোনার ইচ্ছা ছিল। সেই সুযোগ পাওয়ায় দুপুরেই অনুষ্ঠানস্থলে এসেছেন তিনি। আরেক দর্শক মিফতা জানান, একই মঞ্চে সাতটি জনপ্রিয় ব্যান্ডের গান শোনার সুযোগ সচরাচর পাওয়া যায় না। বন্ধুদের সঙ্গে পুরো আয়োজন উপভোগ করতে এসেছেন তিনি। কনসার্টে আসা তরুণী মহিয়া জানান, ওয়ারফেজ ও আর্টসেলের গান তার ভালো লাগে। বিশেষ করে ব্যান্ড দুটির জনপ্রিয় গানগুলো সরাসরি শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। এ ধরনের উন্মুক্ত আয়োজন আরো হওয়া উচিত বলেও মনে করেন মহিয়া।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কনসার্টের ব্যবস্থাপনায় ছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল। আয়োজনটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন (বামবা)। সবার জন্য উন্মুক্ত এ আয়োজনে বিনামূল্যে কনসার্ট উপভোগের সুযোগ পান দর্শক-শ্রোতারা। পাশাপাশি বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ও ইউটিউব চ্যানেলে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও রাখা হয়। ঐক্য, সম্প্রীতি, সংহতি ও উদার চেতনার বাংলাদেশের বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে সংগীতের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদ্যাপনের এ আয়োজন করা হয়।
কনসার্ট ঘিরে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় নেয়া হয় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়। দর্শক-শ্রোতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আশপাশের সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণেও নেয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। আড়ং মোড় থেকে সেচ ভবন হয়ে ফার্মগেটের দিকে যানবাহন চলাচলের জন্য বিকল্প সড়ক ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কনসার্ট শেষে যান চলাচল স্বাভাবিক করার পরিকল্পনাও ছিল।
আয়োজনটি নিয়ে আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালায় অংশগ্রহণকারী ব্যান্ড ও বামবা। সংগঠনটির ফেসবুক পেজে সাতটি ব্যান্ডের ৭ ঘণ্টার পরিবেশনাকে ঐক্য ও সংহতির আয়োজন হিসেবে তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে সংগীতের মধ্য দিয়ে ঐক্য, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন উদ্যাপন করা হবে। নগরবাউল জেমস এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর মানিক মিয়া এভিনিউতে দেখা হবে। অন্যদিকে ওয়ারফেজ এক ভিডিও বার্তায় জানায়, ঐক্য, সম্প্রীতি ও অদম্য চেতনার বাংলাদেশকে উদ্যাপন করতে তারা দর্শক-শ্রোতাদের সঙ্গে মিলিত হবে।










