দেশের গান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘ও আমার দেশের মাটি’। ছয় শিল্পীর পরিবেশনায় আয়োজনে উঠে আসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, প্রকৃতি, মাটি ও মানুষের কথা।

‘২৭ ধানমন্ডি–গাই বাংলার গান পর্ষদ’-এর উদ্যোগে ৬ নভেম্বর এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগীত পরিবেশন করেন মৌমিতা বড়ুয়া, মৌসুমি সরকার, খগেন্দ্রনাথ সরকার, বিজন মিস্ত্রি, মাহমুদুল হাসান ও তানজিনা তমা।

অনুষ্ঠানে মৌমিতা বড়ুয়া পরিবেশন করেন ‘একবার যেতে দে না, আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘স্মৃতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে, আমার অনেক ঋণ আছে’ ও ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’। মৌসুমি সরকার গেয়ে শোনান ‘ও আমার বাংলা মা তোর’, ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়েও খাঁটি’ ও ‘ও আমার দেশের মাটি’। খগেন্দ্রনাথ সরকারের পরিবেশনায় ছিল ‘এই না বাংলাদেশের গান গাইতে’, ‘চাষাদের মুটেদের মজুরের’ ও ‘ভেবো না গো মা তোমার ছেলেরা’।

অন্যদিকে বিজন মিস্ত্রি পরিবেশন করেন ‘মাগো ভাবনা কেন’, ‘সাঁঝের বেলায় পাখি ফিরে’ ও ‘একতারা তুই দেশের কথা’। মাহমুদুল হাসানের কণ্ঠে শোনা যায় ‘মাগো ধন্য হলো জীবন আমার’, ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে’ ও ‘এ দেশ আমার মাটি আমার’। তানজিনা তমা গেয়ে শোনান ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’, ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা’ ও ‘মোদের গরব মোদের আশা’।

আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বাগত বক্তব্যে পর্ষদের আহ্বায়ক ফজলুল কবীর তুহিন বলেন, ‘‌দেশের গান কেবল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নয়, এটি একটি জাতির জন্মকথা, সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, স্বপ্ন ও ভালোবাসার ইতিহাস ধারণ করে। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের গান এবং এর অন্তর্নিহিত ইতিহাস পৌঁছে দেয়া এবং দেশপ্রেম, মানবিকতা ও মুক্তচিন্তার চর্চাকে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌মানুষ, দেশ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য গান গাইতে চান তারা। এ আয়োজন কোনো বিভাজনের নয়, সম্প্রীতির ও সংকীর্ণতার নয়, মুক্তচিন্তার।’