বাংলার লোককথা, ভূতের গল্প এবং আধুনিক বিশ্বের রহস্যময় বাস্তবতা নিয়ে নির্মিত নাট্যপ্রযোজনা ‘ইনভিজিবল স্টোরিজ’। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চায়িত হয় নাটকটি। বডি পাপেট্রি, সংগীত ও কল্পনানির্ভর নাট্যশৈলীর সমন্বয়ে এতে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে বাংলা ভূতের গল্প ও লোকজ ঐতিহ্য।
আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, কম্পানি গ্রেইন দ্য ভি এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে মঞ্চায়িত হয়েছে প্রযোজনাটি। ফরাসি পাপেটশিল্পী লরি কানাকের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় নির্মিত নাটকটির মূল অনুপ্রেরণা বাংলাদেশের লোককথা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। আয়োজকদের ভাষ্য, সমকালীন থিয়েটারের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী গল্প বলার শৈলীর সমন্বয়ে দর্শকদের সামনে দেশের লোকজ সংস্কৃতির সমৃদ্ধি তুলে ধরাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ইতিহাস ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে অতিপ্রাকৃত জগতের সম্পর্ক নাটকটিতে বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পী ও জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পরিচয় এবং কাজের অভিজ্ঞতা থেকে প্রযোজনাটি নির্মাণে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন লরি কানাক। এতে অভিনয় করেছেন লরি কানাক ও স্বাতী ভদ্র। তাদের সঙ্গে সরাসরি সংগীত পরিবেশনায় যুক্ত ছিল নোনাভূমি অর্গানাইজেশন। গতকাল নাটকটির আরেকটি প্রদর্শনী হয়। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল।
নাটকের গল্পে দেখা যায়, ঢাকার দৈনন্দিন জীবনে ভূতের প্রভাব অনুসন্ধানে বের হন দুই বিজ্ঞানী। নিজেদের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান নিয়ে আত্মবিশ্বাসী দুই গবেষক একপর্যায়ে জড়িয়ে পড়েন অদ্ভুত এক অভিযাত্রায়।
তাদের যাত্রায় মানবজগৎ ও অতিপ্রাকৃত জগতের মধ্যকার সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে আসে। নগরজীবনের পরিসর ছাড়িয়ে তারা পৌঁছে যান সুন্দরবনের রহস্যময় বনভূমিতে। সেখানে মানুষ, প্রকৃতি এবং মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করা অদৃশ্য শক্তির মধ্যে নানা অপ্রত্যাশিত যোগসূত্রের সন্ধান মেলে।










