অভিনয় ও সংগীত এ দুই নিয়েই ব্যস্ত থাকেন জিনাত সানু স্বাগতা। আর দুই ধারায়ই পেয়েছেন দর্শকের গ্রহণযোগ্যতা। নাটক, সিনেমা ও গান নিয়ে ব্যস্ত থাকা স্বাগতা এবার নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। বিটিভির ‘ছোট ছবি, বড় স্বপ্ন’ প্রকল্পের আওতায় একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন তিনি। স্বাগতার প্রথম সিনেমার নাম ‘অতএব’। পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাগতা।
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করার বিষয়টি জানতে চাইলে স্বাগতা বলেন, ‘এটা ভালোবাসার গল্প। রোমিও-জুলিয়েট, শিরি-ফরহাদের মতো ব্যর্থ প্রেমের গল্প। সামাজিক বৈষম্যের কারণে প্রকৃত ভালোবাসা পূর্ণতা না পাওয়ার গল্পই দেখা যাবে। পরিচিত একটি গল্প। তবে গল্পটা আমি আমার নিজের মতো করেই দর্শকের সামনে আনতে চাই।’
স্বাগতা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে পড়েছেন স্বাগতা। মাস্টার্সের অংশ হিসেবে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা তৈরির কথা ছিল তার। সে সময়ই গল্পটা লেখা, জানালেন এ অভিনেত্রী। তিনি জানান, তখনো মাস্টার্স শেষ হয়নি। তাই সে গল্প নিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা তৈরি করা হয়নি।
স্বাগতার এ সিনেমায় কারা অভিনয় করবেন জানতে চাইলে তিনি জানান, এখনো অভিনয়শিল্পী চূড়ান্ত হয়নি। তবে নতুন শিল্পীদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা। স্বাগতা বলেন, ‘কয়েকজনের নাম মাথায় এসেছে। এখনো কারোর সঙ্গে কথা হয়নি। শুটিংয়ের আগে সাতদিনের ওয়ার্কশপে অংশ নিতে হবে আমাকে। সেটা শেষ হলেই আমি অভিনয়শিল্পীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
স্বাগতা জানান, মাসখানেক আগে বিটিভির ‘ছোট ছবি, বড় স্বপ্ন’ প্রকল্পের সার্কুলেশন দেখে চিত্রনাট্যটি জমা দেন তিনি। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর সাক্ষাৎকারের জন্য ডাক আসে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে অবশেষে গত ২৩ নভেম্বর বিটিভির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, নির্বাচিত হয়েছে তার চিত্রনাট্য।
২০০৬ সালে মান্নার বিপরীতে প্রথম নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন জিনাত শানু স্বাগতা। সিনেমার নাম ‘শত্রু শত্রু খেলা’। সিনেমা জনপ্রিয় হলেও স্বাগতাকে নিয়মিত পাওয়া যায়নি বড় পর্দায়। গত বছর ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছিলেন এ অভিনেত্রী। অন্যদিকে চলতি বছর অরুণা বিশ্বাসের ‘অসম্ভব’ সিনেমায় দেখা মিলে স্বাগতার। এ সিনেমায় যাত্রাপালার নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এতে পাঁচটি চরিত্রে দেখা মিলে এ অভিনেত্রীর। সিনেমাটি নিয়ে স্বাগতা বলেন, ‘অসম্ভব সিনেমায় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, পরিবার ও যাত্রাপালার ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মতো সুন্দর গল্পের সিনেমা। গল্পের প্রয়োজনে পাঁচটি চরিত্রে অভিনয় করেছি।’
অভিনয়ের পাশাপাশি নিয়মিত গান করেন জিনাত শানু স্বাগতা। সে ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের মাঝামাঝিতে নতুন গান নিয়ে হাজির হন তিনি। গানের শিরোনাম ‘সে সামথিং’। এতে তার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছিলেন হাসান আজাদ।
সাড়ে তিন বছর বয়সে ‘লিনজা’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের শুরু এ তারকার। এরপর কয়েকটি সিনেমায় শিশুশিল্পী হয়ে অভিনয় করেছেন। আর ছোট থেকেই পারিবারিকভাবে গানের ঝোঁক ছিল স্বাগতার। অন্যদিকে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় ছড়াগান বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন তিনি। বাবা খোদাবক্স সানু ছিলেন গানের মানুষ। নিজে গান করতেন, অন্যদের গান শেখাতেন। তাই ছোট থেকেই স্বাগতা, সন্ধি ও সভ্যতা তিন ভাইবোনের গানের চর্চা চলত পারিবারিকভাবেই। ভাইবোনেরা মিলে গড়ে তুলেছিলেন ‘মহাকাল’ নামের একটি ব্যান্ড। সে ব্যান্ড না টিকলেও নিয়মিত ভাইবোনরা গান করছেন। স্বাগতা এরই মধ্যে একাধিক অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ছোট পর্দা ও বড় পর্দার পাশাপাশি ওটিটি প্লাটফর্মেও অভিষেক হয়েছে তার। ‘কাইজার’ ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে প্রশংসিত হন তিনি। এবার পরিচালনায় নাম লেখানো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাগতা জানান, এখানেই থামতে চান না তিনি। নিয়মিত ক্যামেরার পেছনে কাজ করার ইচ্ছে আছে তার।










