ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে বলা হয় ভাষা আন্দোলনের অগ্রপথিক। দেশবরেণ্য এ কীর্তিমানকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘অবিনশ্বর’। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুদানে ফাখরুল আরেফিন খানের পরিচালনায় ও গড়াই ফিল্মসের প্রযোজনায় প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে। আজ সন্ধ্যা ৭টায় ৭১ টিভিতে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র অবিনশ্বর প্রচারিত হবে। 

কুষ্টিয়া, কুমারখালী ও ঢাকার কয়েকটি স্থানে দৃশ্যধারণ হয়েছে অবিনশ্বর প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটির। প্রামাণ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন নওফেল জিসান, আতিক রহমান, যশ জায়েদী, আমিরুল ইসলাম, শাহীন সরকার, আসলাম আলী, আনোয়ার বাবু, হালিম স্বপন প্রমুখ। এছাড়া এতে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে নিয়ে কথা বলেছেন মেজর জেনারেল (অব.) ইমামুজ্জামান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাজ্জাদ জহির, বীর প্রতীক ও ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের দৌহিত্র অ্যারোমা দত্ত এমপি।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একাধারে আইনজীবী, সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ। তার জীবন ছিল বর্ণাঢ্য ও বৈচিত্র্যময়। সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী ও ব্যারিস্টার আবদুর রসুলের রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৪২ সালে যোগ দেন ভারত ছাড় আন্দোলনে। ১৯৪৬ সালে কংগ্রেস দলের পক্ষে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছরে পাকিস্তানের সংবিধান রচনার জন্য পূর্ববঙ্গ থেকে তিনি পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে সব কার্যবিবরণী ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাও অন্তর্ভুক্ত রাখার দাবি উত্থাপন করেন। ১৯৫৬-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যরা পুত্র দিলীপকুমার দত্তসহ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে গ্রেফতার করে এবং তাদের কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে অমানবিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।