এ বছর ব্রিটিশ একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন অ্যাওয়ার্ডসের (বাফটা) তালিকায় সম্মুখভাগে আছে জার্মান সিনেমা ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’। ২০২২-এর ২৯ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় নেটফ্লিক্সের এ সিনেমা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টে অংশ নেয়া এক আদর্শবাদী জার্মান সৈনিকের অভিজ্ঞতার বয়ান উঠে এসেছিল এরিখ মারিয়া রেমার্কের উপন্যাসে। সে কাহিনী অবলম্বনে এটি নির্মাণ করেছেন জার্মান পরিচালক এডওয়ার্ড বার্জার।
সেরা সিনেমা, নির্মাতা, সহযোগী চরিত্র ও চিত্রনাট্যসহ মোট ১৪টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কারের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট। এর মধ্য দিয়ে বাফটার ইতিহাসে বিদেশী ভাষার সিনেমা হিসেবে হিডেন ড্রাগনের (২০০০) পাশে বসেছে এটি। তাইওয়ানের নির্মাতা অ্যাং লি পরিচালিত মার্শাল আর্ট ঘরানার সিনেমাটি এর আগে চারটি পুরস্কার জিতে নিয়েছিল। তবে বাফটার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আসনটি গান্ধীর দখলে। রিচার্ড অ্যাটেনবোরো পরিচালিত মহাত্মা গান্ধীর এ বায়োপিক ১৯৮১ সালে ১৬টি ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়ে পাঁচটিতে পুরস্কার জিতেছিল। এতে গান্ধী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বেন কিংসলে।
বাফটার সংক্ষিপ্ত তালিকার মনোনয়ন পাওয়া ৪৫টি সিনেমার নাম বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হয়। সংক্ষিপ্ত তালিকা ঘোষণা করেন অভিনেতা হেইলি অ্যাটওয়েল ও তোহিব জেমো। সাম্প্রতিক সময়ে বর্ণবাদ ও লিঙ্গ বৈষম্যের অভিযোগে জর্জরিত হয়েছে বাফটা। সে অপবাদ থেকে বের হয়ে আসার প্রচেষ্টা লক্ষ করা গেছে এবার। এদিকে ইঙ্গিত করে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে আলাপে বাফটা সভাপতি কৃষ্ণেন্দু মজুমদার জানান, তিনি আনন্দিত। তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ সিনেমার ওপর আলোকপাত করার পাশাপাশি বাফটা বৈশ্বিক সিনেমাগুলোকেও আমলে নিচ্ছে। সেরা সিনেমার তালিকায় তার যথার্থ প্রতিফলন ঘটেছে। এতে বিভিন্ন আঙ্গিক ও গভীরতার সিনেমা প্রতিনিধিত্ব করছে।’
অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টের পাশাপাশি তালিকায় আছে মার্টিন ম্যাকডনার দ্য ব্যানশিস অব ইনশিরিন, বাজ লুরম্যান নির্মিত এলভিস, ড্যানিয়েল ভ্রাতৃদ্বয়ের মালটিভার্স মহাকাব্য এভরিথিং এভরিহোয়ার অল অ্যাট ওয়ান্স ও টড ফিলিপসের সিনেমা টার। দ্য ব্যানশিস অব ইনশিরিন ও এভরিথিং এভরিহোয়ার অল অ্যাট ওয়ান্স সিনেমা দুটি পৃথকভাবে ১০টি ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছে। তবে স্টিভেন স্পিলবার্গের সিনেমা দ্য ফেবলসম্যান মনোনয়ন পেয়েছে মাত্র একটি ক্যাটাগরিতে। সম্প্রতি গোল্ডেন গ্লোব পাওয়া এ সিনেমার অস্কার জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সিনেমাটি বাফটায় গুরুত্ব না পাওয়ায় অবাক হয়েছেন অনেকেই।
সেরা পরিচালকের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে ছয়জনের নাম। এদের মধ্যে পাঁচ জনই পুরুষ—এডওয়ার্ড বার্জার, মার্টিন ম্যাকডনা, ড্যানিয়েল ভ্রাতৃদ্বয়, টড ফিল্ড ও পার্ক চ্যান-উক। একমাত্র নারী পরিচালক হিসেবে তালিকায় স্থান পেয়েছেন জিনা প্রিন্স-বাইথউড। ২০২২-এর সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়েছিল তার নির্মিত দ্য ওম্যান কিং সিনেমা।
তালিকায় প্রতিফলিত নারী-পুরুষের এ বৈষম্য ঘুচতে আরো সময় লাগতে পারে। এ প্রসঙ্গে বাফটা ফিল্ম কমিটির সভাপতি আনা হিগস দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, নারী পরিচালকরা তাকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে তারা কোনো কোটা চান না। কেননা বিষয়টি প্রতীকী এবং তাদের জন্য অস্বস্তিকর। তিনি বলেন, ‘২০২০ সালে আমরা একটি রিভিউ করি। তা থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এর আগের ৫৪ বছরে মাত্র ছয়জন নারী নির্মাতা মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একমাত্র ক্যাথরিন বিগেলো পুরস্কার জিতেছিলেন। রিভিউর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট আটজন মনোনয়ন পান। তাদের মধ্যে দুজন পুরস্কার অর্জন করতে সক্ষম হন।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান










