বিলি আইলিশের বয়স এখন মাত্র ২১ বছর। এরই মধ্যে অর্জন করেছেন প্রভূত জনপ্রিয়তা। নানা পুরস্কার জয়ের পাশাপাশি আর্থিকভাবেও তিনি এগিয়ে। অল্প বয়সে এত খ্যাতি বিলিকে নানা জটিলতার মধ্যে নিয়ে গেছে। এর ওপর তিনি একজন নারী। তার নারীত্বকেও বিশেষ হিসেবেই বলেন বিলি। এ নিয়ে তিনি সরাসরিই বলেন, ‘নারী হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখা আসলে যুদ্ধ করার মতো। যদি সেই নারী অল্প বয়সে জনপ্রিয় হন তাহলে তো কথাই নেই।’ সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ শিল্পী বিনোদনমাধ্যম ভ্যারাইটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন। কেবল এটুকুই নয়, বিলি মনে করেন বিষয়টি অন্যায়।
জনপ্রিয়তা অর্জন করলে নানা রকম প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। কম বয়সেই নিজেকে তৈরি করতে হয় বয়স্কদের মতো করে। এ নিয়ে বিলি বলেন, ‘যেহেতু আমার বয়স এখনো কম, জীবনে অনেক কিছুই করার আছে। তবে হ্যাঁ, কম বয়সেই আমার কাজকর্ম বড়দের মতো হওয়ায় আমি নিজেও ভুলে গিয়েছিলাম যে আমি আসলে তরুণ। অনেক কিছুই বড়দের মতো করে করতে হয়েছে। সে কারণে বহুবার মনে হয়েছে আমি হয়তো ৭০ বছর বয়সী। এরপর এক সময় এসে আমার মনে হলো এভাবে নিজেকে বুড়িয়ে ফেলার কোনো দরকার নেই।’
বিলি প্রথম সর্বব্যাপী জনপ্রিয়তা দেখেন ১৩ বছর বয়সে। বড় ভাই ফিনিয়েসের সঙ্গে ‘ওশেন আইজ’ শিরোনামের গানটি রেকর্ড করেছিলেন তার ছোট শোয়ার ঘরে। সে গানই সাউন্ডক্লাউডে ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিলিকে নানা গান ও সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ডাকতে শুরু করে। ফলে দ্রুতই তার কৈশোর আসলে হারিয়ে গিয়েছিল। তিনি হয়ে পড়েছিলেন একজন ‘পাবলিক পারসন’।
এরপর নানা সময় তার ব্যক্তিজীবন নিয়েও মিডিয়া সর্বক্ষণ তাকিয়ে ছিল চাতকের মতো। বহু প্রশ্ন তার কাছে এসেছে—কার সঙ্গে সম্পর্কে আছেন, কী পছন্দ করেন, এমনকি তার পোশাকের নকশা নিয়েও এসেছে প্রশ্ন। এর মধ্যেই নতুন গানের কাজ করছিলেন আর ২০১৯ সালে আসে তার মেগা হিট ‘ব্যাড গাই’। এ অ্যালবামের পর বিলি নিজের জীবন ও দর্শন নিয়ে নতুন করে চিন্তা শুরু করেন।
বিলি বলেন, ‘জনপ্রিয়তার পুরো বিষয়টি আসলে বাহ্যিক। বাইরের মানুষ আমার বাইরের দিকটা দেখে প্রশংসা করে। তবে গত বছর কোনো এক সময় আমার মধ্যে একটা ভিন্ন ভাবনা আসে। সে সময়টায় বুঝতে পারি, বাইরের দুনিয়ার চেয়ে নিজের ভেতরের জগৎটা আবিষ্কার করা দরকার। সেটাই আমাকে সত্যিকারের আনন্দ দিতে পারবে।’
সূত্র: ভ্যারাইটি










