বিশেষ করে ‘চা গরম’ নাটকের শুটিং চলাকালীন চা বাগানের সেই রোমাঞ্চকর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন এ অভিনেত্রী।
চা বাগানের জীবনযাত্রা ও সেখানকার স্থানীয় মানুষের সহজ-সরল জীবনাচরণে দারুণভাবে মুগ্ধ হয়েছেন সাফা। তিনি বলেন, ‘চা বাগানের মানুষ খুব সরল এবং তাদের অকৃত্রিম আতিথেয়তা আমাকে অভিভূত করেছে। তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত মায়াবী টান আছে। শুটিংয়ের অবসরে তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার এবং তাদের মাটির ঘরে বসে ঘরোয়া খাবার খাওয়ার এক অনন্য সুযোগ হয়েছিল আমার। শুটিং শেষে ফেরার সময় যখন দেখছিলাম আমাদের বিদায় দিতে তাদের মন খারাপ হচ্ছে, তখন নিজের ভেতরেও এক ধরনের হাহাকার অনুভব করছিলাম।’
তবে চা বাগানের এ মায়াবী রূপের আড়ালে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা সবসময় মসৃণ ছিল না; বরং তা ছিল বেশ গা ছমছমে। সাফা জানান, শুটিংয়ের জন্য তারা যে বাংলোটিতে অবস্থান করছিলেন, সেটি ছিল লোকালয় থেকে দূরে, একদম নির্জন এক টিলার ওপর। যার চারপাশ জুড়ে ছিল আদিগন্ত চা বাগানের নিস্তব্ধতা। সাফার ভাষ্যমতে, নাটকের স্ক্রিপ্টে একটি সংলাপ ছিল—‘আশেপাশে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো মানুষ নেই’। বাস্তবে শুটিং স্পটটি ঠিক তেমনই জনমানবহীন ও রহস্যময় ছিল।
ভৌতিক সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে সাফা আরো বলেন, ‘গভীর রাতে যখন শিয়ালের দল বাংলোর খুব কাছে এসে সমস্বরে চিৎকার করত, তখন এক অদ্ভুত ও ভৌতিক পরিবেশ তৈরি হতো। সেই নির্জনতায় গা ছমছমে ভাবটা আরো বেড়ে যেত।’ চা বাগানে প্রচলিত নানা লোকজ ভৌতিক গল্পের সত্যতা নিয়ে জানতে চাইলে সাফা বেশ রহস্যময় হাসি দিয়ে উত্তর দেন। তিনি জানান, ‘চা গরম’ নাটকটিতে যে রোমাঞ্চ ও ভয়ের আবহ দেখানো হয়েছে, তার অনেক কিছুই মূলত বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। দর্শক নাটকটি দেখার সময় সেই আদিম ভয় আর রোমাঞ্চ সহজেই অনুভব করতে পারবেন বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন এ গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী।









