‘আইসক্রিম’
ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে মডেল ও অভিনেত্রী নাজিফা তুষির। প্রথম ছবি দিয়েই অনেক দর্শকের মন
জয় করে নিয়েছেন। এরপর দীর্ঘ বিরতি নিয়ে গত বছরের শেষ দিকে নতুন একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এ অভিনেত্রী। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবিটির নাম ‘হাওয়া’। এরপর করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক দিন ধরেই ঘরবন্দি আছেন। সম্প্রতি টকিজের সঙ্গে কথা হয় নাজিফার। শুরুতেই ছিল সাধারণ প্রশ্নটি—ঘরবন্দি সময় কীভাবে কাটছে আপনার? ‘পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক না। দেশের অবস্থা খারাপ। যতটুকু পারছি মানসিকভাবে সুস্থ থাকার চেষ্টা করছি। এই হচ্ছে আমার বর্তমান অবস্থা।’
চলতি মাসের শুরুতে লকডাউন তুলে দেয়া হয়েছে। এরপর বাইরে যাওয়া হয়েছে কি? ‘খুব প্রয়োজন ছাড়া বের হই না। আমি আমার পরিবারের সঙ্গে থাকি। বড় সন্তান। কিছু দায়িত্ব আছে আমার। বাজারে যাওয়া, ওষুধ কেনা এগুলো ছাড়া বাইরে যাওয়া হয় না।’
লকডাইনের কারণে কী কী কাজে বাধা পড়েছে জানতে চাইলে নাজিফা বলেন, ‘সবারই একটা পরিকল্পনা থাকে। কোন কাজের পর কোন কাজ করা হবে। আপাতত আমার সব কাজই স্থগিত। সর্বশেষ একটা চলচ্চিত্র করলাম। সেটাও মুক্তি পাচ্ছে না। প্রযোজকরা নিশ্চয়ই এখন প্রেক্ষাগৃহে ছবি মুক্তি দেবেন না। কারণ আর্থিকভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’ করোনা মহামারীর জেরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এখন অধিকাংশ কাজই ভার্চুয়ালি করা হচ্ছে, যেখানে শারীরিক উপস্থিতি না থাকলেও চলে। সেদিক থেকে কাজের একটা নতুন ধারা তৈরি হবে বলে মনে করছেন এ অভিনেত্রী। তার মতে, মাধ্যম যা-ই হোক না কেন কাজটাকে মানুষ কীভাবে দেখছে সেটাই এখন গুরুত্বের বিষয়।
লকডাউনে ঘরে বসেই অনলাইন প্লাটফর্মে বেশকিছু কাজ করেছেন নাজিফা। এর মধ্যে জি ফাইভ গ্লোবালের প্লাটফর্মে মুক্তি পাওয়া লোকসংগীত ‘আবার জমবে মেলা’
গানের দৃশ্যায়নে অংশ নেন। এ পরিস্থিতিতে আরো কিছু কাজের কথা হচ্ছে বলে জানালেন এ অভিনেত্রী।
স্বল্প পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছোট পর্দার শুটিং শুরু হয়েছে। চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে ফেরা নিয়েও অনেকে ইচ্ছা পোষণ করেছেন। এ বিষয়ে নাজিফার নিজস্ব ভাবনার কথা
জানতে চাওয়া হয়। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলেই কাজে ফিরবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে এ পরিস্থিতিটা থাকবে। কিন্তু মানুষ তো এত সময় ঘরে থাকতে পারবে না। একটা সময় কাজে বের হতেই হবে। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে কাজ শুরু করব।’
তার মতে, মানুষ এখন বেশ সচেতন। অল্প পরিসরে কাজ শুরু হয়েছে। কাজগুলো খুব বাছাই করে, সচেতনভাবে করা হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে, এ পরিবর্তনটা আসা দরকার ছিল। কাজ তো আগেও করেছে সবাই। কিন্তু এখন একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে কাজ করবে। পরিবর্তনের প্রসঙ্গ ধরেই তার কাছে প্রশ্ন রাখা হয়। করোনা-পরবর্তী সময়ে মিডিয়ায় কাজের ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন? এ প্রশ্নে নাজিফার উত্তর, ‘পরিবর্তন তো হচ্ছেই। এখন অনেক বেছে বেছে, মানসম্পন্ন কাজ হবে।’
তবে প্রডাক্টিভিটি না থাকলে সামনে হয়তো অনেকেই পিছিয়ে পড়বেন বা কাজ থেকে হারিয়ে যাবেন বলেও মনে করছেন তিনি।
ছোটবেলা থেকেই শিল্পের কোনো একটা মাধ্যমে থাকার ইচ্ছা ছিল নাজিফা তুষির। অভিনয় করতে চেয়েছেন। করছেনও তাই। অভিনয়ের ক্ষেত্রে কাদের কাছ থেকে বেশি অনুপ্রেরণা পান? ‘যারা ভালো কাজ করে। তারা হতে পারেন চিকিৎসক বা অন্য পেশার মানুষ। কোনো ব্যক্তি যদি তার জায়গা থেকে ভালো কিছু করেন বা তার কাজের মাধ্যমে ভালো কিছু প্রকাশ পায়, সেগুলোই আমাকে অনুপ্রাণিত করে।’
চলচ্চিত্রজগতে মাত্র কাজ শুরু করেছেন নাজিফা। অল্প সময়ের অভিজ্ঞতা থেকেই এ শিল্পকে নিয়ে কী ধারণা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমরা অর্থনৈতিকভাবে হয়তো বেশি শক্তিশালী নই। কিন্তু আমাদের মেধা আছে। এটাকে যদি ঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়, তাহলে সামনে খুব ভালো কিছু হবে। ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক মেধাবী মানুষ আছেন। তারা নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করে যাচ্ছেন।’
ভবিষ্যতে কোন ধরনের গল্প বা চরিত্রে কাজের ইচ্ছা? ‘আমার তো অনেক ইচ্ছা। যেহেতু অভিনয় করছি। সামনেও করতে চাই। অভিনয়নির্ভর কাজ। জীবনবোধকে অনুভব করা যাবে এ ধরনের চরিত্র, যেটা আমাকে চ্যালেঞ্জ করবে। অভিনয় করা হয় স্বাদ নেয়ার জন্য। যদি স্বাদই না পাই, তাহলে এর কোনো অর্থ থাকবে না। নিজে তৃপ্তি পাব এ ধরনের কিছু কাজ করতে চাই।’
কাজের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়া হয়? ‘কোন বিষয়ে কাজ করতে যাচ্ছি, কে নির্মাণ করছেন, কাজটা আমার সঙ্গে কতটুকু যাবে—এসব বিবেচনা করে তবেই কাজ শুরু করি’—নাজিফা বলেন।
অনেক দিন ধরে গৃহবন্দি আছেন। এ অবসরে কোনো আত্মোপলব্ধি? ‘আমাদের আরেকটু মানবিক হওয়া খুব প্রয়োজন। আমরা যদি নিজেদের ভালো রাখতে চাই, তাহলে আমাদের চারপাশটাও ভালো রাখতে হবে। জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। আমার মতে, এ সময় মানুষ অনেক ধৈর্যশীল ও মানবিক হতে শিখছে।’এ অভিনেত্রীর মতে, সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে একটু সংবেদনশীল, মানবিক হয়, নিজেদের জীবনটাকে আরো একটু সুন্দর করে গুছিয়ে নেয়ার চিন্তা করে, তাহলেই একটা সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব।










