এ বছর শাহরুখ খানের তৃতীয় সিনেমা ‘‌ডাঙ্কি’ মুক্তি পেয়েছে। পাঠান কিংবা জওয়ানের অ্যাকশন অবতার পেছনে ফেলে শাহরুখ ফিরেছেন তার কৌতুক, ড্রামা আর আবেগী চেহারা নিয়ে। ট্রেলার দেখেই গল্পের মূল ভাবটি অনুমান করা গিয়েছিল। দক্ষিণ এশীয় মানুষের ভাগ্য বদলে পশ্চিমে যাত্রার গল্প। শাহরুখের চরিত্রের নাম হার্ডি। পেশায় তিনি ছিলেন সেনা কর্মকর্তা। হার্ডি একসময় প্রেমে পড়ে মনুর। তাপসী পান্নুই এখানে মনু। দুজনই খুঁজে পান নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন। একসময় মনু ও তার বন্ধুরা বিদেশ যেতে চান ভাগ্য বদলাতে, কিন্তু দুর্বল ইংরেজি আটকে দেয় তাদের ভিসা। প্রেমিকা ও বন্ধুদের স্বপ্ন পূরণের ভার নেন হার্ডি। রওনা হন লন্ডনের উদ্দেশে। পথে কী কী ঘটে সেটাই ‘‌ডাঙ্কি’র গল্পের শরীর। অবশ্য সরল নয় সে যাত্রা, পথে পথে আছে টুইস্ট। আর আছে ভরপুর ইমোশন, কমেডি ও অল্প বিস্তর অ্যাকশন। হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ‘‌ওভারঅল একটা ইমোশনাল রোলার কোস্টার রাইড চড়ার জন্য, ভরপুর হাসার জন্য বড়দিনের ছুটিতে এ ছবি একদিন নির্দ্বিধায় দেখে আসা যেতে পারে।’

তবে স্ক্রল ইন এত সহজ ছাড়পত্র দেয়নি সিনেমাটিকে। নন্দিনী রামনাথ লিখেছেন, ‘‌রাজকুমার হিরানীর কৌতুক ও আবেগী মুহূর্তগুলো ডাঙ্কিতে পূর্ণতা পায়নি।’ তার কথায়, ‘‌এ ইমিগ্রেশন কমেডি সাদামাটা।’

বলিউড হাঙ্গামা ডাঙ্কির প্রশংসা করলেও তা যে হিরানীর আগের কাজগুলো ছাড়াতে পারেনি তা উল্লেখ করেছে। ডাঙ্কি রাজকুমার হিরানীর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেছে-এতে আছে সমাজের প্রতি বার্তা, সঙ্গে আছে কৌতুক। তবে এটা তার আগের কাজগুলোর মতো অসাধারণ নয়। বক্স অফিসে সিনেমাটি মোটামুটি ধরনের সফলতা পাবে বলে মনে করছে তারা। 

ডাঙ্কিকে একেবারেই একঘেয়ে, নিরানন্দ বলে মত দিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। শুভ্র গুপ্ত লিখেছেন, ‘‌এটা হিরানীর একেবারে চূড়ান্ত বিরক্তিকর সিনেমা।’ তার কথায়, সিনেমায় শুধু ভিকি কৌশলই যা ভালো কাজ করেছেন। তার চরিত্রটিই মনে রাখার মতো। সব মিলিয়ে ডাঙ্কি মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। এককথায়, কারো কাছে মাস্টারপিস তো কেউ বলছেন সাদামাটা সিনেমা।

ছবি: ফিল্ম ফেয়ার