ইন্ডাস্ট্রিতে বড় বাজেট, চমক আর ওপেনিংয়ের তাৎক্ষণিক সাফল্যই সার্বিক সাফল্যের মূল মাপকাঠি। তবে এর ব্যতিক্রম রানী মুখার্জি। একেবারেই আলাদা পথে হাঁটছেন তিনি। গত দশকের শুরুতে গিয়ে তিনি নায়িকা থেকে অভিনেত্রী হয়ে উঠলেন। গ্ল্যামারের চেনা পথে না হেঁটে তিনি অভিনয়কে মূল করে তুললেন। তার অভিনয়, বাছাই করা চরিত্র ও সিনেমাও বিশেষ হয়ে উঠেছে। থিয়েটারে দর্শক টেনেছে তার সিনেমা।

ভালো ও চরিত্রনির্ভর সিনেমা যে এখনো দর্শক চেনে মারদানি থ্রি সে সত্যিটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। সিনেমাটি প্রাথমিকভাবেই সফল হয়েছিল। ৬০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত এ সিনেমা ৭৬ কোটি রুপি আয় করেছে। তবে শুরুতে মনে হয়েছিল আরো বেশি আয় করবে। প্রথম দিনে ৪ কোটি টাকা নেট সংগ্রহের পর দ্বিতীয় দিনে সিনেমার আয় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬ কোটিতে পৌঁছেছিল। দুদিনে মোট ১০ কোটি রুপি আয় করে এটি সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। রানীর আগের সিনেমাগুলোরও এমন ইতিহাস দেখা যায়। কম বাজেটের সিনেমা হিসেবে ভালো আয় করে বক্স অফিসে। কিন্তু মোটের ওপর দর্শক আসছে তার সিনেমা দেখতে।

রানী মুখার্জির সিনেমা দেখার জন্য দর্শক প্রথম দিনে হুড়োহুড়ি করে ঢোকে না। বরং বিষয়বস্তুর বিশ্বাসযোগ্যতা, মুখে মুখে ছড়ানো প্রশংসা তার সিনেমাগুলোয় দর্শক টানে। হিচকি থেকে মারদানি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে এ বিষয়ই দেখা গেছে। এর মধ্যে মারদানি আজও হিন্দি সিনেমার একমাত্র ধারাবাহিকভাবে সফল নারীকেন্দ্রিক অ্যাকশন থ্রিলার সিরিজ। এসএসপি শিবানী শিবাজি রায় চরিত্রে রানী শুধুই একজন পুলিশ অফিসার নন, তিনি সমাজের অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ানো এক দৃঢ় কণ্ঠ।

নারী নির্যাতন, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা কিংবা অপরাধের অন্ধকার দিক এ কঠিন বিষয়গুলোকে কোনো গিমিক ছাড়াই দর্শকের সামনে আনার সাহস দেখিয়েছে মারদানি সিরিজ। মারদানি থ্রির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দিন বক্স অফিসে এগিয়ে যাওয়া প্রমাণ করে দিয়েছে, দর্শকের কাছে এ ফ্র্যাঞ্চাইজি এখন বিশ্বাসের প্রতীক।

এ প্রবণতা নতুন নয়। হিচকি, নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা, তালাশ কিংবা আরো আগে ব্ল্যাক এ সিনেমাগুলো প্রথম দিনেই ঝড় তোলেনি, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের জায়গা পোক্ত করেছে। হিচকিতে টুরেট সিন্ড্রোমে আক্রান্ত এক শিক্ষিকার চরিত্রে রানী যেমন সহানুভূতি আর অনুপ্রেরণার মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন, তেমনই মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়েতে এক মায়ের লড়াই দর্শকের আবেগে গভীর ছাপ ফেলেছিল।

রানী মুখার্জির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখিতা। ইমোশনাল ড্রামা থেকে রুক্ষ বাস্তববাদী থ্রিলার, সব ক্ষেত্রেই তিনি দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারেন। জোর করে উপদেশ গছিয়ে দেন না। মারদানি থ্রি নিয়ে প্রদর্শকদের প্রতিক্রিয়াও বলছে, তরুণ থেকে প্রবীণ সব বয়সের দর্শকই হলে আসছে।

ধুন্ধুমার অ্যাকশন-নির্ভর বাজারে দাঁড়িয়েও রানী মুখার্জি প্রমাণ করছেন, সামাজিক বার্তাভিত্তিক সিনেমা এখনো থিয়েটারে দর্শক টানতে পারে। মারদানি প্রমাণ করেছে পরীক্ষিত অভিনেত্রীর গল্প ও চরিত্রনির্ভর সিনেমা দর্শক টানতে পারে।